করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারঘোষিত লকডাউন কার্যকরে শেরপুরে পঞ্চম দিনেও মাঠে কঠোর অবস্থানে ছিল জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনসহ অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর কর্মকর্তা-সদস্যরা। ৫ জুলাই সোমবার সকাল থেকেই জেলা শহরসহ উপজেলা সদরগুলোর গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও এলাকায় বসানো চেকপোস্টগুলোতে তৎপর থাকে দায়িত্বরত সদস্যরা। এছাড়া বিভিন্ন রাস্তাঘাটে মাস্ক ছাড়া ও অযথা ঘুরাফেরা করা লোকজনকে সচেতন হতে উদ্বুদ্ধ করা হয়। সেইসাথে তাদের হাতে পুলিশের তরফ থেকে তুলে দেওয়া হয় মাস্ক। আর সেনাবাহিনীর অর্থায়নে অর্ধশতাধিক হতদরিদ্র-অসহায় মানুষের মাঝে তুলে দেওয়া হয় খাদ্যসামগ্রীর প্যাকেট। এদিন কোভিড-১৯ ও লকডাউন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে জেলা সদর হাসপাতাল এবং নকলা উপজেলা সদর পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক মো. মোমিনুর রশীদ ও পুলিশ সুপার মো. হাসান নাহিদ চৌধুরী। এদিকে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে চলাফেরা ও প্রতিষ্ঠান খোলা রাখার দায়ে জেলায় এদিন ১৮৮ টি অভিযানে ৪৩ হাজার ৩শ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

জানা যায়, ১ জুলাই লকডাউনের প্রথম দিন থেকেই জেলা প্রশাসনের সাথে সমন্বয় সাধন করে শেরপুর সদরসহ অপর ৪টি উপজেলায় মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব ও আনসার সদস্যরা। লকডাউন কার্যকরে একদিকে শহর ও উপজেলা সদরগুলোতে বসানো চেকপোস্টে সরব থাকছেন পুলিশসহ অন্যান্যরা। সেইসাথে জনগণকে করোনা পরিস্থিতির ভয়াবহতার আলোকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হ্যান্ডমাইকে উদ্বুদ্ধকর প্রচারণার পাশাপাশি জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে চলছে বিশেষ মহড়া ও টহল। এর মধ্যদিয়ে রিকশা ব্যতীত সব ধরনের যান চলাচল ও দোকানপাট বন্ধ থাকলেও অনেকেই মানছেন না স্বাস্থ্যবিধি ও নিষেধাজ্ঞা। এজন্য অনেককেই গুণতে হচ্ছে জরিমানা। তাই কোভিড পরিস্থিতি ও লকডাউন পুরোপুরি কার্যকরে প্রশাসন আরও কঠোর হয়ে উঠছে। তারই আওতায় ইতোমধ্যে রবিবার থেকে জেলা শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পৌর কাউন্সিলরদের।
এছাড়া জেলা প্রশাসনের ইমার্জেন্সী স্বেচ্ছাসেবী সাপোর্ট টিমের মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্মীরা। সোমবার সকাল থেকেই লকডাউন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে জেলা শহর ও বিভিন্ন উপজেলা সদর পরিদর্শন করেন শেরপুরের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক (উপ-সচিব) এটিএম জিয়াউল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তোফায়েল আহমেদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মুকতাদিরুল আহমেদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ফরিদা ইয়াছমিন ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফিরোজ আল মামুন। আর একইভাবে জেলা পুলিশের তরফ থেকে বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ হান্নান মিয়া, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হেডকোয়ার্টার) মাহমুদুল হাসান ফেরদৌস ও সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (নালিতাবাড়ী সার্কেল) আফরোজা নাজনীন। এদিন জেলা শহরে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনসুর আহাম্মেদের নেতৃত্বে পথচারীদের মাঝে মাস্ক বিতরণ করা হয়। এছাড়া এদিনও ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোল্লা জাকির হোসেনের নেতৃত্বে জেলা শহরে মোটরসাইকেল বহর নিয়ে বিশেষ মহড়া দিয়েছে জেলা ডিবি পুলিশ।
এদিকে সোমবার দুপুরে কোভিড-১৯ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছেন জেলা প্রশাসক মো. মোমিনুর রশীদ ও পুলিশ সুপার মো. হাসান নাহিদ চৌধুরী। এদিন তারা জেলা সদর হাসপাতালের কোভিড-১৯ ওয়ার্ড ও সেবা পর্যবেক্ষণে যান এবং সার্বিক বিষয়ে জেলা সদর হাসপাতালের তত্বাবধায়ক সিভিল সার্জন ডা. একেএম আনওয়ারুর রউফের সাথে কথা বলেন। ওইসময় জেলা সদর হাসপাতালের আরএমও ডা. খাইরুল কবীর সুমনসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। এরপর জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার নকলা সদরে গিয়ে লকডাউন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও পরিদর্শন করেন।

আমাদের নকলাস্থ স্টাফ রিপোর্টার জাহাঙ্গীর হোসেন আহমেদ জানান, সোমবার বিকেলে নকলা শহরের ওই কার্যক্রম পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক মোমিনুর রশিদ বলেন, করোনা মোকাবেলায় আমাদের সকলকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। লকডাউন চলাকালে কেউ অযথা বাইরে ঘুরাঘুরি করবেন না। প্রয়োজনে বাইরে গেলে অবশ্যই মুখে মাস্ক ব্যবহার করবেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে আমাদের সকলের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টাই করোনা সংক্রমণ রোধের একমাত্র মাধ্যম বলে তিনি উল্লেখ করেন। ওইসময় সুপার মো. হাসান নাহিদ চৌধুরীসহ অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদুর রহমান, সহকারি কমিশনার (ভূমি) কাউছার আহাম্মেদ, সেনা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন তৈমুর, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুশফিকুর রহমান প্রমুখ।
এছাড়া নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী উপজেলায় একইভাবে কঠোর অবস্থানে ছিল প্রশাসন। আর মাঠে কাজ করেছে পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাবসহ আনসার সদস্যরা।




