ads

সোমবার , ৫ জুলাই ২০২১ | ২৮ অক্টোবর ২০২৬
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

ঝিনাইগাতী-নালিতাবাড়ীতে পাহাড়ি ঢলে ভেসে গেছে হাজারও পুকুরের মাছ ॥ কোটি টাকার ক্ষতি

জুবাইদুল ইসলাম - ফটো কার্ড
জুলাই ৫, ২০২১ ৬:২৫ অপরাহ্ণ

শেরপুরের ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ীতে অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ভেসে গেছে অন্তত: সহস্রাধিক পুকুর-মাছের ঘের। এতে কোটি কোটি টাকা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে মৎস্যচাষীদের। জেলার সীমান্তবর্তী ভোগাই নদী ও মহারশি নদীর অন্তত: ১০টি পয়েন্টে ৭ কিলোমিটার বাধ ভেঙে ঢলের পানি প্রবেশ করে এ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এদিকে শহরের পানি নেমে গেলেও ওই দুই উপজেলার নিম্নাঞ্চলের মানুষজন এখনও পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। প্রতি বছরের নিয়মিত ওই দুর্ভোগ ও ক্ষয়ক্ষতি কমাতে টেকসই বাধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে ভাঙনকবলিত ও পানিবন্দি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বৃষ্টি থামায় পাহাড়ি ঢলের তীব্রতা কমে ঝিনাইগাতী উপজেলা সদর ও নালিতাবাড়ী শহরের পানি নেমে গেলেও এখনও নিম্নাঞ্চলের এলাকাগুলো পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। ওইসব পানিবন্দি এলাকার কৃষকসহ প্রায় সহস্রাধিক পরিবারের দুর্ভোগ বেড়েছে। রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ায় এসব এলাকার অধিবাসীরা নৌকায় যাতায়াত করছেন। সেইসাথে এ দুই উপজেলায় বীজতলা, সবজি ও মাছের ঘেরের বেশ ক্ষতি হয়েছে। মৎস্য অফিসের তথ্যমতে, নালিতাবাড়ী উপজেলায় ৯২৫ জন মৎস্যচাষীর ১ হাজার ১১৫টি পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। এতে প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। আর ঝিনাইগাতীতে প্রাথমিক হিসাবে ১৫ হেক্টর জমির ৭৫টি পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। এতে প্রায় ২৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। তবে মাছচাষীদের দাবি, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি।

Shamol Bangla Ads

ঝিনাইগাতী উপজেলার সারিকালিনগর গ্রামের মাছচাষী আনোয়ার হোসেন মন্টু জানান, আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে তার খামারের ১৫টি পুকুর ভেসে গেছে। এতে সব মাছ বেরিয়ে গিয়ে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে। তিনি বলেন, মহারশি নদীর বাধটি ভাল করে নির্মাণ করলে এত ক্ষয়-ক্ষতি হতো না। পার্শ্ববর্তী দড়িকালিনগর গ্রামের আরেক মাছচাষী আব্দুল লতিফ জানান, আমার সাত একর জমিতে মাছের ঘের ছিল। ঢলের পানিতে সব মাছ ভাইসা গেছে। এই ক্ষতি কেমনে পোষামু বুঝতেছি না। সরকার আমাদের প্রণোদনা দিলে হয়তো একটু বাচতাম। একই দাবি জানান মাছচাষী রফিকুল ইসলাম, আবু বকরসহ বেশ কয়েকজন।
এদিকে ঝিনাইগাতী উপজেলার কয়েকশ পরিবার পানিবন্দি থাকলেও এখনও তাদের কাছে পৌঁছেনি কোন প্রকার ত্রাণ সহায়তা। জোলগাঁও গ্রামের রাশেদা বেগম জানান, পানিতে আমার ঘর ডুইবা গেছে। আমি এখন আরেকজনের বাড়িতে আশ্রয় নিছি। কোনরকমে চিড়া-মুড়ি খায়া আছি। আমগোর খোঁজ নেওয়ার কেউ নাই। একই গ্রামের মিনারা বেগম বলেন, আমার বাড়িতে পানি উইঠা রান্নাবান্না সব বন্ধ হয়ে গেছে। কোনরকমে খায়া না খায়া থাকতাছি এখন। কেউ খোঁজ-খবরও নেয় না। আর রাস্তা দিয়া কোথাও যাবারও পাইনা লকডাউনের কারণে। পুলিশ দাবরাইয়া দেয়। এখন আমরা খামু কি তাইলে?
ঝিনাইগাতী সদর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মোফাজ্জল হোসেন চান বলেন, পাহাড়ি ঢলের পানিতে দিঘীরপাড় বাধ ভেঙে গেছে। এতে দিঘীরপাড়, সারিকালিনগর, দড়িকালিনগর, বালিয়াচণ্ডী, সুরিহারা, পাইকুড়া, কোনাগাওসহ বেশ কিছু গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় দুর্ভোগে রয়েছেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মোহিত কুমার দে জানান, দুই উপজেলায় ১৫০ হেক্টর জমির বীজতলা, ১২০ হেক্টর জমির সবজি খেত ও ১০০ হেক্টর জমির আউশ ধান তলিয়ে গেছে। তবে পানি নামা শুরু করায় এসবের তেমন কোন ক্ষতি হবে না বলে আমরা আশা করছি।
ঝিনাইগাতী উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব এসএম আব্দুল্লাহেল ওয়ারেজ নাইম বলেন, উজানের পাহাড়ি ঢলে মহারশি নদীর বাধের পুরনো ভাঙা অংশ দিয়ে পানি প্রবেশ করে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। এতে প্রতি বছর কৃষি ও মৎস্য খাতে ক্ষয়-ক্ষতিসহ দুর্ভোগে পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাই আমি ভোগান্তি নিরসনে বাধটির স্থায়ী মেরামতের দাবি জানাচ্ছি।
এদিকে নালিতাবাড়ী ও নকলা এলাকার ভাঙা বাধ পরিদর্শন করেছেন শেরপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. মোমিনুর রশীদ। পরিদর্শনকালে ডিসি বলেন, আমি বাধের অবস্থা দেখে গেলাম। খুব দ্রুতই বাধ মেরামতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া নালিতাবাড়ীতে ১শ জনের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। অন্যান্য এলাকাতেও ত্রাণ বিতরণ করা হবে।
এ ব্যাপারে শেরপুর-জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু সাইদ বলেন, মহারশি নদীর বাধটি অনেক আগের করা। এটি আরও উচু করে নির্মাণ করতে হবে। আমরা বাধটি নতুন করে টেকসইভাবে নির্মাণ করতে ইতোমধ্যে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়েছি। শিগগিরই সমস্যাটির মুটামুটি একটা স্থায়ী সমাধান হবে বলে আশা করছি।

Need Ads

সর্বশেষ - খেলাধুলা

Shamol Bangla Ads