শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিনামূল্যে সিজার অপারেশন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে সিজার অপারেশন কার্যক্রম শুরু হওয়ায় সন্তানসম্ভবা দরিদ্র পরিবারের নারী ও তাদের পরিবারদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
২৪ মে সোমবার দুপুরে ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রথম সিজারিয়ানের মাধ্যমে কন্যা সন্তান জন্ম দেয়া উপজেলার ডেফলাই গ্রামের নজরুল ইসলাম জানান, তার সন্তানসম্ভবা স্ত্রী মুক্তা পারভীনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করার পর নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে সন্তান প্রসব না হওয়ায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জসিম উদ্দিনের নেতৃত্বে একদল চিকিৎসক তার স্ত্রীর সিজার অপারেশন করেন। তিনি আরও জানান, বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে সিজার করালে প্রায় ১৫ হাজার টাকা ব্যয় হত। যা তাদের পক্ষে সম্ভব ছিল না। সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে এই সুযোগ পেয়ে তিনি ও তার পরিবার চিকিৎসকদের প্রতি কৃতজ্ঞ। নবজাতক ও তার মা উভয়ে সুস্থ রয়েছে।

সিজার অপারেশনের সময় উপস্থিত ছিলেন আরএমও ডা. শেখ মনিরুজ্জামান, ডা. সাদিয়া আফরিন, ডা. আশফিয়া ও ডেন্টাল সার্জন মিনাজ উদ্দিন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জসিম উদ্দিন বলেন, সিভিল সার্জন স্যারের নির্দেশে এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সিজারিয়ান কার্যক্রম শুরু করলাম। আজকে (সোমবার) আমি (অ্যানেস্থিসিয়া), ডা. মায়া হোড় (গাইনি কনসালটেন্ট), ডা. মাজেদুর রহমান (সার্জন), প্রথমবারের মত সিজার অপারেশন শুরু করলাম। সন্তানসম্ভবা কোন নারী হাসপাতালে ভর্তি হলে প্রথমেই নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে সন্তান ভূমিষ্ঠ করাতে চেষ্টা করা হবে। এক্ষেত্রে নরমাল ডেলিভারিতে ব্যর্থ হলেই কেবল সিজার করা হবে।
এ ব্যাপারে শেরপুরের সিভিল সার্জন ডা. একেএম আনওয়ারুর রউফ বলেন, অনেকদিন ধরেই শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে এ সেবাটি চালু রয়েছে। আজ ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ সেবাটি চালু করা হল। বাকি তিনটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও এ সেবাটি চালু করার জন্য মন্ত্রণালয়ে অভিজ্ঞ গাইনি স্পেশালিস্ট এবং অজ্ঞানবিদের নিয়োগের চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। লোকবল পেলে পর্যায়ক্রমে সেগুলোতেও সিজার অপারেশন চালু করা হবে।




