শেরপুরে আবারও পাগলা কুকুরের কামড়ে অন্তত: ৩০ জন আহত হয়েছেন। সেইসাথে ৩০টি গরু-ছাগলকেও কামড়িয়ে আহত করেছে পাগলা কুকুর। ১৩ মে বৃহস্পতিবার ভোর থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত শহরের মোবারকপুর মহল্লায় ওই ঘটনা ঘটে। আহতরা শেরপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে বাইরে থেকে চড়া দামে ভ্যাকসিন কিনতে হচ্ছে রোগীদের। আর এতে বিপাকে পড়েছেন আহতরা। ওই ঘটনার পর থেকেই এলাকায় কুকুর আতঙ্ক বিরাজ করছে।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার ভোর থেকে শেরপুর শহরের মোবারকপুর মহল্লায় ৮/১০টি পাগলা কুকুর মানুষের শরীরের বিভিন্নস্থানে কামড়াচ্ছে। যেখানে মানুষ দেখছে, সেখানেই ছুটে যাচ্ছে কুকুরগুলো। শুধু মানুষ নয়, গৃহপালিত পশুগুলোকেও কামড়াচ্ছে এসব কুকুর। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত অন্তত ৩০টি গরু-ছাগলও কুকুরের কামড়ে আহত হয়েছে। পাগলা কুকুরগুলোকে ধরতে স্থানীয়রা চেষ্টা চালাচ্ছেন। এদিকে ঈদের ছুটির জন্য হাসপাতালের স্টোর বন্ধ থাকায় মিলছে না বিনামূল্যের ভ্যাকসিন। তাই আহতদের জন্য হাসপাতালের বাইরে থেকে ভ্যাকসিন কিনে নিতে হচ্ছে। প্রতিটি ভ্যাকসিনের দাম নিচ্ছে ১৮শ থেকে ২ হাজার টাকা করে। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন আহতরা। তাই অনেকেই টাকার অভাবে ভ্যাকসিন না নিয়ে চলে গেছে বাড়িতে।
স্থানীয় বাসিন্দা হারুন অর রশিদ বলেন, আমার মাকে আজ সকালে কুকুর কামড়িয়েছে। তাকে হাসপাতালে নিয়ে এখনও ভ্যাকসিন পাইনি। এখানে বলা হচ্ছে বাইরে থেকে ভ্যাকসিন কিনতে হবে। কুকুরের কামড়ে আহত হাসমত আলী বলেন, আমরা খুব আতঙ্কে আছি ওই পাগলা কুকুরের জন্য। আমি গরিব মানুষ, আমার তো টেহ্ওা নাই। আমি ভ্যাকসিন কিনমু ক্যামনে।
এ ব্যাপারে শেরপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. খাইরুল কবির সুমন বলেন, আজ হাসপাতালের জরুরী বিভাগ ছাড়া আর সবকিছু বন্ধ। কুকুরের ভ্যাকসিন রাখা স্টোরও বন্ধ। ঈদের পর হাসপাতাল খুললে আমরা বিনামূল্যের ভ্যাকসিন দিতে পারবো। আপাতত প্রথম ডোজের ভ্যাকসিনটা বাইরে থেকেই নিতে হচ্ছে।
এ ব্যাপারে শেরপুর পৌরসভার মেয়র আলহাজ¦ গোলাম মোহাম্মদ কিবরিয়া লিটন জানান, আমরা জলাতঙ্ক রোগ নিরোধের জন্য প্রতি বছর বেওয়ারিশ কুকুর নিধন করতাম। এতে কুকুরের কামড় থেকে মানুষ রক্ষা পেতো। কিন্তু ৩ বছর আগে উচ্চ আদালতে পশু ক্লেশ নিরোধ কমিটি পশু নিধন বন্ধের জন্য রিট করায় উচ্চ আদালত এর ওপর নিষেধাজ্ঞা দেন। তাই কুকুর নিধন করা যাচ্ছে না। আমরা উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা পেলে কুকুর নিধন করতে পারবো।
উল্লেখ্য, কিছুদিন ধরে জেলার বিভিন্ন স্থানে শতাধিক ব্যক্তিকে কুকুরে কামড়িয়ে আহত করায় সাধারণ মানুষের মধ্যে কুকুর আতঙ্ক বিরাজ করছে।





