শ্যামলবাংলা ডেস্ক : রাজধানীর কুড়িল বাসস্ট্যান্ড থেকে গারো সম্প্রদায়ের এক তরুণীকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে গণধর্ষণ করেছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার ঘটনার শিকার ওই তরুণী শুক্রবার ভাটারা থানায় মামলা করেছেন। ২২ বছর বয়সী ওই তরুণী যমুনা ফিউচার পার্কের এক ফ্যাশন হাউজ শো-রুমের বিক্রয়কর্মী।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে তরুণী পুলিশকে জানায়, ২১ মে বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে তিনি যমুনা ফিউচার পার্কে দায়িত্ব শেষ করে উত্তরার বাসায় যেতে সীনা সিএনজি স্টেশনের সামনে অপেক্ষা করছিলেন। ওই সময় ছাই রঙের একটি মাইক্রোবাস সেখানে থামলে ভেতর থেকে দুই যুবক নেমে আসে। তারা তাকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মুখ চেপে ধরে মাইক্রোতে তুলে নেয়। মাইক্রোতে থাকা চার ব্যক্তি সঙ্গে সঙ্গেই তার মুখ ও হাতপা বেঁধে ফেলে। গাড়িটি বিভিন্ন সড়কে ঘুরিয়ে চালকসহ পাঁচজন পর্যায়ক্রমে তার উপর পাশবিক নির্যাতন চালায়।
তরুণী জানায়, পাশবিক নির্যাতনের সময় গাড়ির ভেতর তাকে অস্ত্র ঠেকিয়ে রাখা হয়। এক পর্যায়ে রাত আনুমানিক পৌনে ১১টার দিকে উত্তরার জসীম উদ্দীন রোডে তাকে নামিয়ে দ্রুত ওই মাইক্রোবাসটি চলে যায়।
পাশবিক নির্যাতনের শিকার তরুণীর বড় বোন জানান, তারা দুই বোন উত্তরার ডলিপাড়ায় খালার বাসায় থাকেন। সেখান থেকেই প্রতিদিন ছোট বোন যমুনা ফিউচার পার্কে কর্মস্থলে যায়। সে সব সময় বাসে যাতায়াত করে। বৃহস্পতিবার রাতে বাসায় ফিরে সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। বিলম্বে বাসায় ফেরার কারণ জানতে চাইলে তার বোন কাঁদতে থাকে। পুরো ঘটনা শুনে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি তার কর্মস্থলে কর্মকর্তাদের জানায়। তাদের পরামর্শে শুক্রবার থানায় মামলা করা হয়। তিনি আরও জানান, ঘটনার পর থেকে তার বোন মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পুরো বিষয়টি নিয়ে তারাও আতঙ্কিত।
এ বিষয়ে ভাটারা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ঘটনার শিকার তরুণীর কাছ থেকে দুর্বৃত্তদের শারীরিক গঠনের বিবরণ নেওয়া হয়েছে। তা ছাড়া তরুণী ঘটনার সবকিছুই পুলিশকে জানিয়েছে। তার দেওয়া তথ্যানুযায়ী দুবৃর্ত্তদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। মামলার পর ওই তরুণীকে পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে। শনিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হবে।




