গাজীপুর : সাত বছর আগে গাজীপুরে এক গৃহবধূকে হত্যার দায়ে তার স্বামীসহ চারজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত।
গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ও বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক মো. ফজলে এলাহী ভূইয়া মঙ্গলবার আসামিদের উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন। সর্বোচ্চ সাজার আদেশ পাওয়া চার আসামি হলেন- হত্যাকাণ্ডের শিকার মোরশেদা আক্তারের স্বামী আবু আইয়ুব লালন (৪২) এবং তার সহযোগী মুল্লুক হোসেন ভূইয়া (৩০), মো. রানা (৩৪) এবং হানিফ মিয়া (৩২)। এছাড়া চার আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেছে আদালত।
এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. মকবুল হোসেন কাজল জানান, আসামিরা ৭ দিনের মধ্যে উচ্চ আদালতে আপিল করার সুযোগ পাবেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের চাপুলিয়া এলাকার মোহাম্মদ আলীর মেয়ে মোরশেদার সঙ্গে ১৯৯৮ সালে একই এলাকার লালনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই লালন যৌতুকের জন্য মোরশেদাকে নির্যাতন ও হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিলেন। মোরশেদার চাচা মো. শওকত আলী জানান, লালন স্থানীয় এক প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে পরকিয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। মোরশেদা এতে বাধা দিলে দাম্পত্য কলহের সৃষ্টি হয়। “২০০৮ সালের ৫ নভেম্বর রাতে লালনের নির্দেশে তার সহযোগীরা মোরশেদাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপায়। এ সময় জনতা হানিফকে ধরে পিটিয়ে পুলিশে দেয়। পরদিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যায় মোরশেদা।” দুই মেয়ের মা মোরশেদা নিহত হওয়ার সময় পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন বলে তার চাচা জানান।
হত্যাকাণ্ডের তিন দিন পর শওকত আলী জয়দেবপুর থানায় মামলা করেন। পরে পুলিশ বাকি তিন আসমিকে গ্রেপ্তার করে। তদন্ত শেষে চারজনের বিরুদ্ধেই অভিযোগপত্র দেওয়া হয়।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে শওকত আলী সাংবাদিকদের বলেন, “দ্রুত দণ্ড কার্যকর করা হবে বলে আমরা আশা করি।”
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী হুমায়ুন কবির বলেন, “আমরা ন্যায়বিচার পাইনি। আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করব। ”




