স্টাফ রিপোর্টার : ভূমিকম্পে আবারও কেঁপে ওঠলো শেরপুর। ১২ মে মঙ্গলবার দুপুর ১টা ৮ মিনিটে প্রায় ৫২ সেকেন্ড স্থায়ী এ ভূমিকম্পে প্রচন্ড ঝাঁকুনি দিয়ে কেঁপে ওঠে পুরো শেরপুর জেলা। ভূমিকম্পে শেরপুর সরকারি ভিক্টোরিয়া একাডেমীর একটি একাডেমিক ভবনের ৫টি পিলারের ফাটল ধরায় আতঙ্কে কর্তৃপক্ষ স্কুল ছুটি ঘোষণা করেছে। এদিকে, ভূমিকম্পের সময় নালিতাবাড়ী উপজেলায় অগ্রণী ব্যাংকের কাকরকান্দি শাখার সিনিয়র অফিসার ফজলুর রহমান (৫৫) ব্যাংকের দ্বিতল ভবন থেকে দৌড়ে নামতে গিয়ে সিঁড়ি থেকে পড়ে আহত হয়েছেন।
গত এপ্রিল মাসের শেষ সপ্তাহে পর পর দু’দিনের ভূমিকম্পের পর মঙ্গলবারের এ ভূমিকম্পে জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সকলেই বাসাবাড়ি, অফিস কক্ষ, ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান ছেড়ে রাস্তায় নিরাপদ স্থানে নেমে আসে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ক্লাশ ছেড়ে বাইরে খোলা জায়গায় চলে আসে। এসময় কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীরা ভয়ে কেঁপে উঠে এবং অনেকেই কান্না শুরু করে। খাল-বিল-পুকুরের পানিতে তীব্র ঢেউয়ের সৃষ্টি হয়। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
শেরপুর সরকারি ভিক্টোরিয়া একাডেমীর প্রধান শিক্ষক হেদায়েতুল ইসলাম জানান, ভূমিকম্পের ফলে প্রায় এক যুগ আগে নির্মিত একটি একাডেমিক ভবনের প্রায় ৫টি পিলারে ফাটল ধরেছে। একপাশের রেলিং ভেঙে পড়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাকীর হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বলে তিনি জানান।
শহরের নিউমার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সভাপতি শামসুল হুদা বলেন, এবারের ভূমিকম্পটির ঝাঁকুনি বেশ প্রবল ছিল। আমরা ভয়ের মধ্যে ছিলাম। ভূমিকম্প শুরু হলে দোকান থেকে দৌঁড়ে বের হয়ে খোলা আকাশের নীচে বসেছিলাম। মাথা তখন ঘুরছিলো।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাকীর হোসেন জানান, ভূমিকম্পের তীব্রতা বেশী ছিল। ফলে সরকারি ভিক্টোরিয়া একাডেমীর একটি একাডেমিক ভবনের পিলারে ফাটলের সৃষ্টি হয়েছে।




