শ্যামলবাংলা ডেস্ক : বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে ‘কোমন’-এ রূপ নিয়ে সেন্ট মার্টিন, টেকনাফ ও কক্সবাজারে আঘাত হেনে চট্টগ্রামের দিকে ধেয়ে আসছে। ৩০ জুলাই বৃহস্পতিবার ভোরে ঘূর্ণিঝড় কোকেন সেন্ট মার্টিনে আঘাত হানে। এতে গাছ চাপা পড়ে মো. ইসলাম নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে। টেকনাফে আঘাত হানার পর বেশ কয়েকটি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এতে কোন হতাহতের তথ্য পাওয়া যায় নি।
কক্সবাজারের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক ড. অনুপম সাহা জানান, সকাল ১০ টার দিকে কক্সবাজারে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড়টি। এরপর এখানে থেমে থেমে বৃষ্টি ও তীব্র বাতাস বয়ে যাচ্ছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির কোন তথ্য পাওয়া যায় নি বলে জানান জেলা প্রশাসক। এর আগে দুপুর নাগাদ ঘুর্ণিঝড়টি কক্সবাজার-চট্টগ্রাম উপকূল হয়ে বরিশাল উপকূল অতিক্রম করতে পারে বলে কক্সবাজার আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে। নৌ-বন্দরগুলোকে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
এদিকে নিম্নচাপের কারণে কক্সবাজার উপকূলে প্রবল বৃষ্টিসহ ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাচ্ছে। বুধবার সন্ধ্যা থেকে উপকূলে বাতাসের গতিবেগ ক্রমশ বাড়ছে।
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ একেএম নাজমুল হক জানান, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপটি বৃহস্পতিবার দুপুরে ৭০ থেকে ৯০ কিলোমিটার বেগে উপকূলে আঘাত হানতে পারে। সমুদ্র বন্দরকে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। নিম্নচাপের প্রভাবে উপকূলে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। ফলে জোয়ারের পানি ৪ থেকে ৬ ফুট বৃদ্ধি পেয়ে উপকূলে জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে গভীর নিম্নচাপের কারণে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাতে জরুরী সভা আহবান করা হয়েছে। কক্সবাজারের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক ড. অনুপম সাহা জানান, নিম্নচাপের কারণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। প্রাকৃতিক দূর্যোগ এড়ানো না গেলেও ক্ষয়ক্ষতি কমাতে বৈঠকে নানা সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। জনগণকে নিরাপদ স্থানে সরে আসতে মাইকিং করা হচ্ছে বুধবার রাত থেকেই। জেলার সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ব্যবহৃত হবে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে। বুধবার রাত থেকে নিম্নাঞ্চল ও উপকূলীয় অঞ্চল থেকে সকল লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে।
তিনি আরো জানান, প্রতিটি ইউনিয়নে গঠন করা হয়েছে উদ্ধারকারী দল। পাশাপাশি জেলার সকল আশ্রয় কেন্দ্র গতকাল রাত থেকেই খুলে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া রেডক্রিসেন্ট ও ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার কর্মীদের মাধ্যমে লোকজনকে আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে আসার কাজ শুরু হয়েছে। ১০ টি স্পিড বোট,৭ টি বাস ও কয়েকটি ট্রাক ঠিক করে রাখা হয়েছে উদ্ধার ও ত্রাণ কাজের জন্য। মজুদ করা হয়েছে শুকনো খাবার। এছাড়া আশ্রয়কেন্দ্রে আগতদের সেবা নিশ্চিত করার জন্য একজন প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মনিটরিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। সিভিল সার্জনের মাধ্যমে মেডিকেল টিম প্রস্তুত রয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক। ।




