পাবনা প্রতিনিধি: ব্রিটিশ পার্লামেন্টে বিজয়ী বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত ডঃ রূপা হক’র গ্রামের বাড়ী পাবনায় আনন্দের বন্যা বইছে। পাবনা শহরের মকছেদপুরে রূপা হক’র দাদার বাড়ী আর নানার বাড়ী শহরের কুঠিপাড়ায়। পাবনায় দাদা মরহুম মনছের আলী ও নানা মরহুম মুসা বিশ্বাসের বাড়ীতে রূপা হক ৬/৭ বার এসেছেন বলে পারিবারিক সুত্রে জানা গেছে।
নবনির্বাচিত ব্রিটিশ লেবার পাটির এমপি রূপা হকের পুরো নাম আশা রূপা হক। পিতা মরহুম ফজলুল হক ও মাতা দুলালী বিশ্বাস। তারা ৩ বোন, নতুন হক, আশা রূপা হক ও কর্ণি হক। পিতা মাতার ২য় সন্তান রূপা হক। রূপা হকের এক বোন শিশু অবস্থায় মারা গেলে তার লাশ লন্ডন থেকে এনে পাবনার আরিফপুর গোরাস্থানে দাফন করা হয় । রূপা হকের পিতা চ্যাটার্ড একাউন্টেন ফজলুল হক ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পরিবার পরিজন নিয়ে ভারতের কোলকাতা হয়ে লন্ডন চলেন যান। ১৯৭২ সালে রূপা সেখানে জন্ম গ্রহণ করেন। ডঃ আশা রূপা হক ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত এবং আরাফাত নামের একপুত্র সন্তানের জননী। রূপা হকের বিজয়ী হওয়ার সংবাদ টেলিভিশন দেখে তার বড় মামা আবুল বাসেদ বিশ্বাস আন্টু আবেগ প্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, পাবনার মেয়ে আমাদের রূপা ব্রিটিশের এমপি হয়েছে এর চেয়ে আর বড় খবরকি হতে পারে। আমরা দোয়া করি ও আরো বড় হোক। লন্ডনে বসবাসরত পাবনা তথা বাংলাদেশের মানুষের সেবা করুক এটা আমরা চাই। রূপা হকের বড় মামী রিজিয়া বিশ্বাস জায়নামাজে বসে দোয়া করছেন যেন রূপা সুস্থ থাকে মানুষের সেবা করতে পারে, বাংলাদেশের অভিবাসীদের পাশে দাঁড়ায়। মামাতো ভাই সেলিম বিশ্বাস জানান, রূপা কুঠিপাড়ায় এলেই আমার মোটর সাইকেলে ছাড়া চড়তো না। ও পাবনার অনেক জায়গা চেনে। রূপার খুব প্রিয় জায়গা পাবনা তাইতো ওর বিজয়ের কথা শুনে খুবই খুশী হয়েছি। আমরা কল্পনাও করতে পারিনি সে এত বড় অবস্থানে যেতে পারবে। এটা শুধু আমাদের জন্য নয়, পাবনাবাসী তথা বাংলাদেশের জন্য গৌরবের।
রূপা হকের রাজনীতির অনুপ্রেরণা ছিল তার মামা। ৮০ দশকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে তুখোড় ছাত্র নেতা আবুল কালাম আজাদ (এ্যাপাচি বিশ্বাস) ও মামাতে ভাই এডঃ শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস। রূপা হকের মামা এ্যাপাচি বিশ্বাস জানান, রূপা ছোট বেলা থেকে ৬/৭ বার পাবনায় এসেছে, সে আমার ঘরে ঢুকে কালমার্কস, লেনিন মাও ভাসানীর ছবি দেখে প্রশ্ন করতো এদের ছবি কেন ঘরে রাখি? কেন রাজনিিীত করি তাও আবার বামপন্থি। সে সময় রূপার প্রশ্নের জবাব দিতে হত অনেক বেশী সময় ধরে সেই থেকে ও আস্তে আস্তে রাজনীতিতে আসক্ত হয়ে পড়ে এবং ব্রিটেনে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় লেবার পাটির রাজনীতির সাথে জড়িয়ে এবং শেষ অবদি আজ লেবার পাটির এমপি নির্বাচিত হয়েছে। মামা হিসাবে তার কাছে প্রত্যাশা থাকবে ব্রিটেনের সুবিধা বঞ্চিত মানুষের জন্য সে রাজনীতি করবে এবং সেখানে বসবাসরত পাবনা তথা বাংলাদেশের অভিবাসীদের সুখ দুঃখে পাশে থাকবে ও তাদের স্বার্থ রা করবে।




