আনোয়ার হোসেন আকাশ, রাণীশংকৈল, (ঠাকুরগাও) : ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার ধর্মগড় সীমান্তে গতকাল মঙ্গলবার ভোররাতে বাংলাদেশী গরু ব্যবসায়ী আব্দুর রহিমকে (১৭) ভারতীয় উত্তর দিনাজপুর জেলার গোয়ালপুকুর থানার সিড়িপুর ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা ধরে নিয়ে গেছে।

এলাকাবাসী ও বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, হরিপুর উপজেলার মারাধর গ্রামের দারুল ইসলামের ছেলে গরু ব্যবসায়ী আব্দুর রহিমসহ ১০/১২ জন ব্যবসায়ী মিলে গত মঙ্গলবার ভোর ৪টায় রাণীশংকৈল উপজেলার ধর্মগড় সীমান্তের ৩৭২/১ এস সাবÑ পিলারের নিকট গরু কিনতে গেলে ওই সময় ভারতীয় উত্তর দিনাজপুর জেলার গোয়ালপুকুর থানার সিড়িপুর ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যদের নজরে পড়লে তাকে ধাওয়া করে আটকের পর শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে পরে তাদের ক্যাম্পে ধরে নিয়ে যায়।
এঘটনায় সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হলে ধর্মগড় বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরা তাৎক্ষনিকভাবে পত্র প্রদানের মাধ্যমে বিএসএফ’র নিকট তীব্র প্রতিবাদ জানায়। পরে সকাল ১০টায় সীমান্তের জিরো পয়েন্টে উভয় দেশের কোম্পানী কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিএসএফ বিজিবি’র নিকট সময় চেয়ে বিকালে পুনরায় পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিএসএফ বাংলাদেশী ব্যবাসায়ী আব্দুর রহিমকে ভারতীয় গোয়ালপুকুর থানা পুলিশের নিকট সোপর্দ করেছে বলে বিজিবি’কে জানিয়েছে।
এব্যাপারে ঠাকুরগাঁও ৩০ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল মেজর কামাল আহম্মেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিজিবি’র পক্ষ থেকে পত্র প্রদানের মাধ্যমে দুই দফায় পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলে বৈঠকে বিএসএফ আটককৃত ব্যবসায়ীকে ভারতীয় থানা পুলিশের নিকট সোপর্দ করেছে বলে বিজিবিকে জানিয়েছে।
রাণীশংকৈলে সাংবাদিকদের সাথে সিডিএর মত আলোচনা সভা
ঠাকুরগাওয়ের রাণীশংকৈল সিডিএ কার্যালয় হলরুমে সাংবাদিকদের সাথে ভূমিহীনদের খাস জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে ১৬ জুন আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সিডিএ ব্র্যাঞ্চ ম্যানেজার মিজানুর রহমান।
“কল্যাণের সংগ্রামে আমরা ” শ্লোগানকে সামনে রেখে সিডিএ অফিস চত্ত্বর থেকে এক বর্ণাঢ্য র্যালী বের হয়ে উপজেলা চত্ত্বর ঘুরে সিডিএ কার্যালয়ে শেষ হয়। র্যালী শেষে মোহাম্মদ আলীর সভাপতিত্ত্বে উপজেলা শিক্ষা অফিসার আফজান হোসেন প্রধান অতিথি ছিলেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে রাণীশংকৈল প্রেস ক্লাব সভাপতি অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম, উপজেলা প্রেস ক্লাব সভাপতি মোঃ মোবারক আলী, শিক্ষিকা ফরিদা পারভিন উপজেলা আ’লীগ নেত্রী উপস্থিত ছিলেন।
বক্তব্য রাখেন, বিশ্বজিৎ সরকার দিনাজপুর সিডিএ, শিক্ষক সাদেকুল ইসলাম, জিতেন্দ্র পরমান, শ্রী মান হরিমোহন চন্দ্র রায়, মোজাই পাহান আদিবাসি নেতা, আবু তাহের, নান্নু মিয়া, শাহজাহান কাবির, নুরবানু।
সরকারী খাস জমি আমলা ভূমিদস্যুদের হাত থেকে উদ্ধার করে প্রকৃত ভূমিহীনদের হাতে তুলে দেয়ার আহবান করেন বক্তারা।
হরিপুরে মামলার বাদীকে হত্যার হুমকি

ঠাকুরগাওয়ের হরিপুর ডাঙ্গীপাড়া দামোল গ্রামে জমি জমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে গত শনিবার আপন ভাতিজাদের হাতে আইনুল হক (৬০) খুন হয়। এব্যাপারে হরিপুর থানায় দায়েরকৃত হত্যা মামলার বাদী নৈমুদ্দিনকে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে খুনিরা বলে অভিযোগ উঠেছে। হত্যা মামলা নং ৬।
চাচাকে খুন করেও ক্ষান্ত হয়নি খুনি ভাতিজারা। তারা মামলার বাদীসহ তার পরিবারের লোকজনকে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে।
জানা যায়, ওই দিন খুনের ঘটনার পর খুনিরা যোগসাজসে মামলার বাদি নৈমুদ্দিনকে চৌরঙ্গী বাজারে আটক করে অমানবিকভাবে মারধর করে ঘরের মধ্যে ঢোকানোর চেষ্টাকালে তাকেও মেরে ফেলার হুমকি দেয়। স্থাণীয় লোকজন টের পেয়ে নৈমুদ্দিনকে উদ্ধার করে আঃ রহিম, শাখাওয়াত, মোস্তফাকে আটক করে ডাঙ্গীপাড়া ইউনিয়ন কার্যালয়ে সোপর্দ করে।
অপরদিকে ঘটনার দিন উপজেলার মলানি বাজারে মামলার অন্যতম ৪নং আসামী রবিউল ইসলাম ওরফে আবদুল্লাহকে জনতা আটক করে গেদুড়া ইউনিয়ন কার্যালয়ে সোপর্দ করে। রবিউল গেদুড়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড মেম্বার মোঃ মকিমের ভগ্নিপতি হওয়ায় তাকে গোপনে ছেড়ে দিলে সে পালিয়ে গিয়ে গা ঢাঁকা দেয়। বিষয়টি এলাকাবাসির কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
এদিকে খুুিনদের হুমকিতে হত্যা আশংকায় দিন কাটাচ্ছে মৃত আইনুল হকের পরিবারের লোকজন ।
হরিপুর থানা অফিসার ইনচার্জ মজিবর রহমান জানান, হকমির ব্যাপারে কিছু শুনিনি তবে গ্রেফতারকৃত আসামীদের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। বাঁকি আসামীদের গ্রেফতারের জোর তৎপরতা চলছে।




