‘ভাবের সুরে ও গানে জাগুক মানবতার বোধ’-এমন প্রতিপাদ্যে গান, আলোচনা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শেরপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘কবীর-লালন ভাবসংগীত উৎসব’। ২৫ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সন্ধ্যায় শেরপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে লালন বিশ্বসংঘ আয়োজিত এ উৎসবের উদ্বোধন করেন সাধক বাউলশিল্পী তারা মিয়া বাউল। বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত উৎসবে প্রধান অতিথি ছিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন লালন বিশ্বসংঘের প্রতিষ্ঠাতা, প্রধান নির্বাহী ও কবীর-লালন গবেষক আবদেল মাননান।

এতে বিশেষ অতিথি ও আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শাকিল আহমেদ, জাতীয় রবীন্দ্র সঙ্গীত সম্মীলন পরিষদ, শেরপুর জেলা শাখার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি রাজিয়া সামাদ ডালিয়া, শিক্ষাবিদ ও সাংস্কৃতিক সংগঠক তপন সারোয়ার, শেরপুর প্রেসক্লারের কার্যকরি সভাপতি কবি রফিক মজিদ প্রমুখ।
বক্তারা কবীর ও লালনের দর্শন, অসাম্প্রদায়িক চেতনা এবং ভাবসংগীতের নানা দিক নিয়ে আলোচনা করেন। পরে ঢাকা থেকে আগত কবীর-লালন মিউজিক্যাল মিশনের শিল্পীরা কবীর ও লালনের সংগীত পরিবেশন করেন। তাঁদের পরিবেশনায় কবীর ও লালনের ভাবধারা, দর্শন এবং মানবতাবাদী চেতনা ও বার্তা সংগীতের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়। এ ভাবসংগীত উৎসবে বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে জেলা শিল্পকলা একাডেমী প্রাঙ্গণ।

আয়োজক লালন বিশ্বসংঘের প্রধান নির্বাহী আবদেল মাাননান জানান, কবীর ও লালনের ভাবধারায় মানবতাবাদ, অসাম্প্রদায়িকতা, সম্প্রীতি ও আত্ম-অন্বেষণের যে দর্শন রয়েছে, তা গান, আলোচনা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম ও সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরাই এ উৎসবের অন্যতম লক্ষ্য। একইসঙ্গে বিভিন্ন সম্প্রদায় ও ভাবধারার শিল্পীদের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ারও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ময়মনসিংহ বিভাগের উৎসবটি শেরপুরে আয়োজন করা হয়েছে।
তিনি জানান, রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির উন্মুক্ত মাঠে গত ১২ সেপ্টেম্বর কবীর-লালনের সুর ও দর্শনে ভাবসংগীতের মহোৎসব উদ্বোধন করা হয়। দেশের ৮টি বিভাগে ৮টি অনুষ্ঠান করার ধারাবাহিকতায় ইতোমধ্যে বরিশাল ও খুলনায় এ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবার ময়মনসিংহ বিভাগের অনুষ্ঠানটি শেরপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমীতে অনুষ্ঠিত হয়।




