শেরপুরের নকলায় হুজুরা খাতুন (৫৮) নামে এক মহিলাকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। ওই ঘটনার ৬ ঘন্টার মধ্যে হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে এজাহারনামীয় ৩ আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে থানা পুলিশ। গত ১৪ আগস্ট শুক্রবার বেলা আড়াইটার দিকে কায়দা (বেগুনপট্টি) এলাকায় ওই হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। হুজুরা স্থানীয় মাইনউদ্দিনের স্ত্রী। আর গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন একই গ্রামের প্রতিবেশি বাকিল মিয়ার ছেলে হাসু মিয়া (৪৫), হাসুর ছেলে কামরুল হাসান (১৯) এবং স্ত্রী কুলসুম (৪০)।

স্থানীয় ও মামলা সূত্রে জানা যায়, হাসু মিয়ার পরিবারের সাথে প্রতিবেশি মাইনউদ্দিনের পরিবারের নানা বিষয়াদি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। ঘটনার দিন বেলা ২টার দিকে সাদিয়ার ছেলে সিফাত (৪) মাইন উদ্দিনের বাড়িতে হাসু মিয়ার ছেলে আবিরের (৬) সাথে খেলাধূলা করতে গিয়ে একে অপরকে মারধর করে। পরে বেলা আড়াইটার দিকে হুজুরা হাসুর বাড়িতে গেলে হাসুর ছেলে কামরুল কাঠের চেলা দিয়ে হুজুরাকে পিটাতে থাকে। খবর পেয়ে হুজুরাকে বাঁচাতে ছেলে সোবাহান, স্বামী মাইন উদ্দিন ও মেয়ে রাবিয়া আক্তার (৩০) ঘটনাস্থলে গেলে হাসু, কামরুল ও কুলসুম মিলে তাদেরকেও মেরে আহত করে।
পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাদেরকে নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ওই সময় হুজুরা ও সোবাহানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। সেখানে পরীক্ষানিরীক্ষার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটের দিকে হুজুরাকে মৃত ঘোষণা করেন। সোবহান বর্তমানে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তার অবস্থা আশংকাজনক বলে জানা গেছে।

এ ব্যাপারে নকলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রিপন চন্দ্র গোপ জানান, খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই। ঘটনার ৬ ঘন্টার মধ্যে পুলিশী অভিযান পরিচালনা করে আমরা হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে হাসু, কামরুল ও কুলসুমকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠাতে সক্ষম হই।




