শেরপুরে এক কৃষক লীগ নেতার বিরুদ্ধে ফলবান কলাবাগান কেটে বিনষ্ট ও জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ তুলে ন্যায্য বিচার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১ অক্টোবর বৃহস্পতিবার দুপুরে শেরপুর শহরের খরমপুর এলাকার নির্ঝর কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত ওই সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ক্ষতিগ্রস্ত আরাফ আল বেহেস্তী হক রিংকুর বড় ভাই মো. সারওয়ার জাহান। এসময় উপস্থিত ছিলেন ক্ষতিগ্রস্ত আরাফ আল বেহেস্তী হক রিংকু, তার স্ত্রী তাওহীদা লীম, বড় বোন সেহেলী পারভীন, শাহনেওয়াজ পারভীন, বোন জামাই মাসুদ আহমদ লেনিন, স্থানীয় বাসিন্দা খোরশেদ আলমসহ আরো অনেকে।

লিখিত বক্তব্যে মো. সারওয়ার জাহান বলেন, ভূূমিদস্যু, সন্ত্রাসী ও ফ্যাসিস্ট সোলায়মান মোল্লা ইউনিয়ন কৃষক লীগের সভাপতি হিসাবে রাজনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেছেন। তার বিরুদ্ধে জমি দখল, বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে চাপ সৃষ্টি, মিথ্যা মামলা দেওয়ার ভয় দেখানো, এলাকায় মাদক ব্যাবসা ও চুরি-ডাকাতির নেতৃত্ব প্রদান এবং লোকজন জড়ো করে প্রতিপক্ষকে মারধরের অভিযোগও রয়েছে। সোলায়মান মোল্লা গংদের ভয়ে ভীত হয়ে ওই এলাকার লোকজন তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে ভয় পান। যারা তাদের বিরুদ্ধে মুখ খোলার চেষ্টা করেন তাদেরকে নানাভাবে হয়রানী করে থাকেন সোলায়মান মোল্লা গংরা।
সারওয়ার জাহান আরো বলেন, আসামীরা জামিনে বের হয়ে রিংকু, তার নয় বছরের শিশু সন্তান, স্ত্রী ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের অপহরণ, খুন ও গুম করার হুমকি দিয়ে আসছে। বাড়ির মালামাল ও প্রায় তিন লক্ষ টাকা মূল্যের নীরিহ অবলা প্রাণী ষাড় গরু লুট করারও হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। রিংকুসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা প্রাণ বাঁচাতে নিজের বাড়ি ফেলে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছি। বৃদ্ধা মা বাধ্য হয়ে একাই ওই বাড়ি পাহাড়া দিচ্ছেন।

আসামীপক্ষ ফ্যাসিস্ট সোলায়মান মোল্লা গংরা প্রতিনিয়ত অপহরণ, হত্যা, গুম, মালামাল লুটপাট ও জমি দখলের হুমকি দিয়ে আসছে। রাজনৈতিক একটি প্রভাবশালী মহল আসামীদের পক্ষ নিয়ে গুরুতর এ ঘটনাটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, প্রথমে অভিযোগ দায়ের করার জন্য শ্রীবরদী থানায় গেলে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামলাটি নিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে পুলিশ সুপারের সাথে এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে তাঁর নির্দেশে শ্রীবরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অভিযোগটি আমলে নেন এবং ২৫ সেপ্টেম্বর রাতেই প্রধান আসামী সোলায়মান মোল্লার ছেলে মেহেদী হাসান প্রিন্স ও খোকা মিয়াকে গ্রেফতার করেন। কিন্তু ২৬ সেপ্টেম্বর সকালেই ওই দুইজনের জামিন হয়ে যায়। পরবর্তীতে প্রধান আসামী সোলায়মান মোল্লা ও অপরাপর আসামী ঝাবরু, কালু মিয়া, মুসলিম, শুটকু মিয়া আদালতে হাজির হলে তাঁদেরকেও জামিন প্রদান করা হয়।
উল্লেখ্য, জেলার শ্রীবরদী উপজেলার পশ্চিম বিলভরট এলাকায় অবস্থিত রিংকুর বাড়ি থেকে ১৫০ ফিট পশ্চিম পাশের্^ তার ৩০ শতাংশ জমির উপর রোপিত প্রায় ৪ শত কলাগাছ অনৈতিক চাঁদা দাবীর টাকা দিতে না পারায় কেটে ফেলা হয়। এর মধ্যে অধিকাংশই ছিল ফলবান। গত ২৩ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত ১টার দিকে রাণীশিমুল ইউনিয়নের পশ্চিম বিলভরট এলাকার ভূমিদস্যু ও সন্ত্রাসী মো. সোলায়মান মোল্লা ও তাঁর ছেলে মেহেদী হাসান প্রিন্স গংরা গভীর রাতে রাম দা, কিরিচ, রড, লোহার পাইপ, বর্শাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কলাবাগানে হামলা চালিয়ে ফলবানসহ সকল কলাগাছ কেটে টুকরো টুকরো করে ফেলে। ওই কলাবাগানে সাথী ফসল হিসাবে লাগানো বেগুন, মরিচ, লাউ, পুঁইশাকসহ বিভিন্ন গাছের চারাও নষ্ট করা হয়। পাহারারত থাকা অবস্থায় রিংকু, তার স্ত্রী ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের উপর হামলা চালিয়ে মারপিট করে। এ সময় তাদের ডাক চিৎকারে এলাকাবাসী ছুটে এলে সোলায়মান গংরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়।




