ময়মনসিংহ বিভাগে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব সরকারি দপ্তর ও সংস্থাকে আরও সমন্বিত, কার্যকর ও দৃশ্যমান তৎপরতা চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির। তিনি বলেছেন, জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণে কোনো ধরনের শৈথিল্য বা সমন্বয়হীনতার সুযোগ নেই। ভেজাল, দূষিত ও অনিরাপদ খাদ্যের বিস্তার রোধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি নিয়মিত নজরদারি, সচেতনতা বৃদ্ধি ও আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় জোরদার করতে হবে। ১১ আগস্ট মঙ্গলবার দুপুরে ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ময়মনসিংহ বিভাগীয় নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা সমন্বয় কমিটির সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সভায় ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান, অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আবু বকর সিদ্দিক, বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. প্রদীপ কুমার সাহা, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক (ডিডিএলজি) মৌসুমি খানম (জামালপুর), আরিফা সিদ্দিকা (শেরপুর), মুনমুন জাহান লিজা (নেত্রকোনা), উম্মে হাবিবা মীরা (ময়মনসিংহ), ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ জাহিদ হাসান প্রিন্স, এনএসআইয়ের যুগ্ম পরিচালক মোহা. আবদুল কাদের, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক নাজনীন সুলতানা, জেলা ডেইরি ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান, অবন্তীর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিনহাজ মিলনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির বলেন, খাদ্য উৎপাদন থেকে শুরু করে প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ, পরিবহন, বাজারজাত ও ভোক্তার কাছে পৌঁছানো পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। নিরাপদ খাদ্য শুধু ভেজালবিরোধী অভিযান পরিচালনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং খাদ্যের মান নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্যসম্মত উৎপাদন ও সংরক্ষণব্যবস্থা, নিরাপদ পানি ও পরিচ্ছন্নতা, খাদ্য ব্যবসায়ীদের দায়িত্বশীলতা এবং ভোক্তা সচেতনতা—সবকিছুর সমন্বিত প্রয়াস প্রয়োজন।

তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিজ নিজ দায়িত্বের পাশাপাশি পারস্পরিক সমন্বয় বাড়িয়ে নিয়মিত বাজার তদারকি, প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা এবং অনিয়মের ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে প্রচার-প্রচারণা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার বর্তমান পরিস্থিতি, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ, মাঠপর্যায়ে তদারকির কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, ভোক্তা ও খাদ্য ব্যবসায়ীদের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।
সভায় নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন পর্যায়ে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা, ঝুঁকি শনাক্তকরণ ও প্রমাণভিত্তিক নজরদারি জোরদারের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশেষ করে দুধ, মাংস, মাছ, ডিম, ভোজ্যতেল, মসলা, ফলমূল, সবজি, প্রক্রিয়াজাত খাবার ও পানীয়সহ জনসাধারণের বহুল ব্যবহৃত খাদ্যপণ্যের মান নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত তদারকির প্রয়োজনীয়তা উঠে আসে। সরকারি পরীক্ষাগারগুলোর সক্ষমতা ব্যবহার করে খাদ্যপণ্যে জীবাণু, রাসায়নিক দূষণ, ভারী ধাতু, কীটনাশকের অবশিষ্টাংশসহ বিভিন্ন ঝুঁকি শনাক্ত করা সম্ভব।
সভায় আরও বলা হয়, শুধু অভিযান পরিচালনা করে দীর্ঘমেয়াদে নিরাপদ খাদ্য পরিস্থিতি নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এজন্য খাদ্য ব্যবসায়ী ও উৎপাদকদের প্রশিক্ষণ, নিরাপদ খাদ্যবিষয়ক বিধিবিধান সম্পর্কে অবহিতকরণ, ভোক্তা সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিয়মিত তদারকির পাশাপাশি অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনগত পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে হবে।
অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মো. আজাদ জাহানের সঞ্চালনায় সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিভাগীয় নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা মো. আতিকুর রহমান। সভায় ময়মনসিংহ বিভাগের চার জেলা ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর ও নেত্রকোনায় নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী করতে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম বাড়ানো এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে নিয়মিত তথ্য বিনিময় ও সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষা, খাদ্যের মান নিশ্চিতকরণ এবং ভোক্তার নিরাপদ খাদ্যপ্রাপ্তির অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিভাগীয় প্রশাসনের নেতৃত্বে সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয় সভায়।




