শেরপুরের শ্রীবরদীতে অবৈধভাবে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ৩০ কেজি ওজনের ৮০ বস্তা চাল জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। ২০ আগস্ট রবিবার বিকেলে উপজেলার গোশাইপুর ইউনিয়নের মাটিয়াকুড়া ব্রিজের পাশে একটি দোকানে ওই চাল জব্দ করা হয়। ওই ঘটনায় ২২ আগস্ট মঙ্গলবার বিকেলে শ্রীবরদী থানায় মামলা দায়ের হয়েছে।

জানা যায়, শ্রীবরদী উপজেলার ১০ টি ইউনিয়নে গত সপ্তাহ থেকে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর চাল বিতরণ করছেন ডিলাররা। এর মধ্যে গোশাইপুর ইউনিয়নের মাটিয়াকুড়া গাবতলী বাজারে একটি দোকান ঘর থেকে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর চাল বিতরণ শুরু হয়। এর পাশে পার্শ্ববর্তী মাটিয়াকুড়া ব্রিজের পাশে আলমগীর হোসেনের দোকানে অবৈধভাবে বিক্রির উদ্দেশ্যে ৩০ কেজি ওজনের ৮০ বস্তা চাল মজুদ করা হয়। এ সংবাদ পেয়ে ২০ আগস্ট রবিবার বিকেলে শ্রীবরদী উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মো, জাহিদুল ইসলাম মামুন ঘটনাস্থলে গিয়ে ৮০ বস্তা চাল জব্দ করেন। ওই সময় চালের বস্তা খুলে সীলযুক্ত চটের বস্তা অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেন চাল ডিলার সাবেক উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আমিনুল ইসলামের ভাতিজা ফারুক মিয়া। পরে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা তাকে বাঁধা দেন।
এ ব্যাপারে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর চাল ডিলার সাবেক উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আমিনুল ইসলাম বলেন, আমি নিয়ম মেনেই চাল বিতরণ করেছি। ওই দোকানে চাল মজুদ করেছে কি না তা আমি জানি না। তবে এবার প্রত্যেককে দুই বস্তা করে চাল দেয়া হয়েছে।

চাল জব্দের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শ্রীবরদী উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম মামুন। তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আলমগীর হোসেনের দোকান ঘরে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর ৩০ কেজি ওজনের ৮০ বস্তা চাল জব্দ করেছি। এ সময় স্থানীয় চাল ব্যবসায়ী ফারুক মিয়া সীলযুক্ত চটের বস্তা খুলে চাল সরানো চেষ্টা করে। আমরা বাঁধা দেই। তবে অবৈধভাবে চাল বিক্রির উদ্দেশ্যে মজুদ করার দায়ে মাটিয়াকুড়া গ্রামের ওই চাল ব্যবসায়ী ফারুক মিয়ার বিরুদ্ধে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছি।
এ ব্যাপারে শ্রীবরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিপ্লব কুমার বিশ্বাস বলেন, চাল জব্দের ঘটনায় অভিযোগ পেয়েছি। এ ব্যাপারে মামলা হয়েছে ।
শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইফতেখার ইউনুস বলেন, বিষয়টি উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিসারকে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলা হয়েছে।




