মোহরানা ও ভরণপোষণের টাকা না দিয়ে গৃহবধূর কাছ থেকে জোরপূর্বক তালাকনামায় সাক্ষর নেয়ার অভিযোগে কাজীসহ ৫ জনের নামে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার গড়জরিপা ইউনিয়নের গোপালখিলা গ্রামে।

জানা গেছে, ওই গ্রামের আব্দুল হানিফের ছেলে শাহীন মিয়া (২০) ২০২১ সালে পার্শ্ববতী ঝিনাইগাতী উপজেলার হাতিবান্ধা ইউনিয়নের সোনারপাড়া গ্রামের আব্দুল মোতালেবের কন্যা মমতা (১৮) ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা দেনমোহরে বিবাহ হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুক লোভী স্বামী শাহীন মিয়া তার স্ত্রী শারীরিক মানুষিক নির্যাতন শুরু করে। পরে মমতা তার বাবার বাড়ি থেকে ৮০ হাজার টাকা এনে দেয় তার স্বামীকে। কিন্তু এর পরেও মমতার উপর শাহীনের শারীরিক মানুষিক নির্যাতন বন্ধ হয়নি।
২০২৩ সালের ১০ জানুয়ারি সকালে শাহীন মিয়া ও তার পরিবারের লোকজন যৌতুকের দাবিতে মমতার উপর অমানুষিক নির্যাতন চালায়। খবর পেয়ে রাতে মমতার পিতা আব্দুল মোতালেব জামাই বাড়ি গোপালখিলা গ্রামে গেলে তার পরিবারের লোকজন তাদের আটকে রাখে। এক পর্যায়ে কাজী ডেকে এনে জোরপূর্বক তালাকনামায় সাক্ষর নিয়ে মমতা ও তা পিতা মোতালেবকে বাড়ি থেকে বের করে দেন।

এ বিষয়ে মোতালেব গত কয়েক মাস ধরে স্থানীয় গ্রাম্য মাতব্বরদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোন সুফল পায়নি মমতা ও তার পরিবারের লোকজন। বরং উল্টো মমতার পরিবারের লোকজনকে নানাভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে আসছিল শাহীন মিয়া ও তার পরিবারের লোকজন। এ বিষয়ে গত ১৪ জুলাই গৃহবধূ মমতা বাদী হয়ে গড়জরিপা ইউনিয়নের কাজী আক্তারুজ্জামান, ওই গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য লুৎফর রহমান, শাহীন মিয়া, তার পিতা আব্দুল হানিফ, নানা আজিম উদ্দিনসহ ৫ জনকে আসামি করে শ্রীবরদী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করে।
এ বিষয়ে কাজি আক্তারুজ্জামানের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, টাকা হাতে না পেয়ে মেয়ে পক্ষ তালাকনামায় সাক্ষর দিলে আমার কি করার আছে।
এ ব্যাপারে শ্রীবরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিপ্লব কুমার বিশ্বাস বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।




