শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার হাজী নূরুল হক নন্নী পোড়াগাঁও মৈত্রী কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ইনজামুল ইসলামের উপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১১ জুলাই মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলা পরিষদের সামনের সড়কে ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ওই মানববন্ধন করে।

মারধরের শিকার ইনজামুল ইসলাম উপজেলার বাটকামারী গ্রামের তাজুল ইসলামের ছেলে। সে হাজী নূরুল হক নন্নী পোড়াগাঁও মৈাত্রী কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। গুরুতর আহত হয়ে শিক্ষার্থী ইনজামুল ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধাীন রয়েছেন।
পুলিশ ও আহত শিক্ষার্থীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ জুলাই রাত ৮টার দিকে ইনজামুল নালিতাবাড়ী পৌর শহরে কোচিং শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। ওইসময় বাটকামারী বাড়ির কাছে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে ইনজামুলকে ওই গ্রামের ফজলুর রহমানসহ ৮ ব্যক্তি মারধর করে দুই পা ও ডান হাত ভেঙে ফেলেন। এছাড়া ইনজামুলের মাথায় আঘাত করেন। ওই ঘটনায় ৬ জুলাই রাতে ইনজামুলের বাবা তাজুল ইসলাম বাদী হয়ে ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। তবে মামলায় এখনও কাউকে পুলিশ গ্রেফতার করতে পারেনি। পরে এ নিয়ে মঙ্গলবার বিকেল ৪টার সময় হাজী নূরুল হক নন্নী পোড়াগাঁও মৈত্রী কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা শহরের তারাগঞ্জ উত্তর বাজার এলাকায় বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদে ও দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। ওইসময় শিক্ষার্থীদের সাথে ইনজামূলের বাবা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কয়েকজন শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন।

শিক্ষার্থী আল রাব্বী বলেন,আমাদের সহপাঠী ইনজামুল চারদিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তার হাত পা ভেঙে ফেলা হয়েছে। আমরা চাই অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক।
আহত ইনজামূলের বাবা তাজুল ইসলাম বলেন, জমি নিয়ে পূর্বশত্রুতার জেরে ওরা আমার ছেলে হত্যা করতে চেয়েছিল। ওর দুই পা ও ডান হাত ভেঙে ফেলেছে। মাথায় আঘাত থাকায় সেলাই দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে থানায় মামলা করা হয়েছে। আমি চাই দ্রুত অপরাধীদের ধরে আইনের আওত্তায় আনা হোক। দৃষ্টান্তমূলক বিচার করা হোক।
বিষয়টি জানতে অভিযুক্ত ফজলুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এমদাদুল হক বলেন, এ ব্যাপারে থানায় মামলা করা হয়েছে। অভিযুক্তরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। তাদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।




