কয়েক দফায় মিলে ১ লাখ টাকা সুদে ঋণ নিয়ে দাদন ব্যবসায়ীর দেওয়া ১৫ লাখ টাকার মামলায় হেনস্তা হচ্ছেন রতন চন্দ্র পাঠক নামে এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। ভুক্তভোগী ওই শিক্ষক এর প্রতিকার চেয়ে ২০ জুন মঙ্গলবার রাতে শহরের উত্তর বাজার এলাকায় সংবাদ সম্মেলন করেছেন। তিনি শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার বুরুঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক।

এসময় ভুক্তভোগী শিক্ষক রতন চন্দ্র পাঠক লিখিত বক্তব্যে বলেন, পৌরশহরের আড়াইআনী বাজার এলাকার দাদন ব্যবসায়ী হাসানুজ্জামান খোকন এর কাছ থেকে ২০১৮ সালের মাঝামাঝি সময়ে প্রতিমাসে শতকরা ১০ টাকা হারে সুদে ২০ হাজার টাকা ঋণ নেন তিনি। চাকুরীর ব্ল্যাঙ্ক চেক বন্ধক রেখে নেওয়া ঋণের পর তিনি আরও কয়েক দফায় মিলে মোট ১ লাখ টাকা ঋণ গ্রহণ করেন। নিয়মিত সুদ প্রদান না করায় একপর্যায়ে এক লাখ টাকা সুদ ও আসলসহ অংক বেড়ে বছর ঘুরে ৪ লাখে দাড়ায়। এসময় ওই দাদন ব্যবসায়ীর সাথে সুদের হার ১০ টাকা থেকে নামিয়ে ৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু ঋণের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় সুদের টাকা দিতে না পারায় বছর ঘুরে ২০২০ সালের দিকে তা ৮ লাখে পৌছায়। এসময় ওই দাদন ব্যবসায়ীর দাবিকৃত সমুদয় টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হলে ২০২০ সালের শেষদিকে আদালতে শিক্ষক রতনের বিরুদ্ধে ১৫ লাখ টাকার চেক ডিজঅনার মামলা করে দেন ওই দাদন ব্যবসায়ী। এর অনুকূলে ৫ অক্টোবর অগ্রণী ব্যাংক নালিতাবাড়ী শাখা থেকে সাদা চেকে ১৫ লাখ টাকার অংক বসিয়ে তা ডিজঅনার করানো হয়।
এদিকে ১ লাখ টাকা ঋণ গ্রহণ করে বিভিন্ন সময় দাদন ব্যবসায়ী হাসানুজ্জামান খোকনকে প্রায় ৪ লাখ টাকা পরিশোধ করেছেন বলে জানান রতন চন্দ্র পাঠক।

ভুক্তভোগী ওই শিক্ষক অভিযোগ করে বঅলেন, বন্ধকী চেক এর পাতা শেষ হওয়ার পর দাদন ব্যবসায়ী খোকন চেক বইয়ের সাদা পাতা ব্যবহার করে ব্যাংক থেকে নতুন চেক বই উত্তোলন করে। পরে স্বাক্ষর জালিয়াতি করে দাদন ব্যবসয়ী খোকন তার একাউন্ট থেকে চাকুরীর বেতনের টাকা উত্তোলন করেছে দফায় দফায়। এসময় তিনি তার প্রকৃত স্বাক্ষর এবং জালিয়াতি করা স্বাক্ষরও উপস্থাপন করেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাদন ব্যবসায়ীর হেনস্তা থেকে মুক্তি পেতে সহযোগিতা কামনা করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাসানুজ্জামান খোকন কোন বক্তব্য দিতে রাজি হননি।




