নাকুগাঁওয়ে একটি স্মৃতিফলক নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিনের
শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার নাকুগাঁও-ডালু গণহত্যা দিবস আজ (২৫ মে)। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী শতাধিক বাংলাদেশি ও ভারতের নয়জন সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) সদস্যকে নির্বিচারে হত্যা করে। বিএসএফদের স্মরণে ভারত অংশে শূন্য রেখায় স্মৃতিফলক নির্মাণ করা হয়। কিন্তু স্বাধীনতার ৫২ বছর পেরিয়ে গেলেও অযত্ন আর অবহেলায় অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে আছে নাকুগাঁও স্থলবন্দরের গণকবরটি। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত পিলার থেকে কয়েক গজ দক্ষিণে ভোগাই নদীর তীর ঘেঁষা ২০ শতাংশ জায়গাজুড়ে এই গণকবর। অযত্ন-অবহেলায় পড়ে থাকা এই গণকবরটি ইমিগ্রেশন চেকপোষ্ট আর ভারতের মেঘালয় রাজ্যের ডালুর শূন্য রেখায় অবস্থিত। নাকুগাঁওয়ে শহীদদের স্মরণে একটি স্মৃতিফলক নির্মাণের দাবি জানিয়েছে শহীদদের স্বজনরা।

স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭১ সালের ২৫ মে পাকিস্তানি হানাদারদের একটি বড় দল উপজেলার ভোগাই নদী পার হয়ে ভারতের ডালু বিএসএফ ক্যাম্পসহ প্রায় দুই কিলোমিটার সীমানা ঘিরে ফেলে। বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া হাজারো মানুষ মেঘালয় রাজ্যের বারাঙ্গাপাড়া, ডালুবাজার, চান্দুভুঁই, মাছাংপানি, ছৈপানি, ডিমলারপাড়া এলাকার মন্দির, সড়ক ও গাছতলায় আশ্রয় নেয়। এসব মানুষের ওপর হানাদার বাহিনী নির্বিচারে গুলি বর্ষণ করে। বিএসএফের প্রতিরোধ সত্বেও হানাদারদের এক ঘন্টার তান্ডবে নয়জন বিএসএফ সদস্য ও শতাধিক বাংলাদেশি নিহত হয়। নিহত অনেকের লাশ নদীর পানির স্রোতে ভেসে যায়। তবে তাঁদের মধ্যে যে ৫০-৬০টি মৃতদেহ পাওয়া যায়,তাঁদের লাশ নাকুগাঁও শূন্য রেখার কাছে গণকবর দেওয়া হয়। আর বিএসএফ সদস্যদের ভারতের মাটিতে সৎকার করা হয়। সীমানার কাঁটা তার ঘেঁষে ভারতের নয়জন বিএসএফের স্মরণে স্মৃতি ফলক নির্মান করা হয়েছে। কিন্ত নাকুগাঁও শহীদদের স্মরণে এখনো কোন স্মৃতি ফলক নির্মান করা হয়নি।
বুধবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, নাকুগাঁওয়ের গণকবরটি অরক্ষিত। কেউ চিনিয়ে না দিলে গণকবরটি বের করা সম্ভব নয়। কারণ সেখানে এখন ধান-খড় শুকানোর হয়। কিন্তু সীমানার কাটাতার ঘেঁষে ভারতের ৯ জন বিএসএফের স্মরণে একটি স্মৃতিফলক মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকলেও রক্ষণাবেক্ষণ ও অবহেলার কারণে নাকুগাঁওয়ের গণ কবরটি অযত্নে পড়ে আছে।

নাকুগাঁও এলাকার সুকুমার সাহা বলেন, ‘ভারতে ৯ জন বিএসএফের স্মরণে স্মৃতি ফলক নির্মাণ করেছে। কিন্ত আমাদের এখানে শতাধিক মানুষের মৃত্যু হলেও এখন পর্যন্ত কোন স্মৃতিফলক নির্মাণ করা হলো না। সেই দিনে নিহতদের পরিবারের অনেক সদস্যই এখানে আসেন। কিন্ত স্মৃতিফলক নির্মাণ না হওয়ায় তারা হত্যাশা প্রকাশ করেন।’ পৌরশহরের বাসিন্দা বিভা রাণী দে (৯২) বলেন, ‘ওই দিনের গণহত্যায় আমার স্বামীসহ পাকবাহিনীরা অনেকরেই হত্যা করে। কিন্ত কেও তাঁদের কথা মনে রাখে না। নাকুগাঁওয়ে যদি একটা স্মৃতি ফলক অইতো। তাইলে এখনকার ছেলেমেয়েরা এই গণ হত্যার কথা জানবার পারতো।’
মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফিজুল রহমান মুকুল বলেন, ‘সেইদিন গণ হত্যায় ৫০/৬০ জনকে শূন্য রেখার কাছে গণকবর দেওয়া হয়েছিলো। ১৯৮২ সালে স্মৃতিফলক স্থাপনের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হলেও পরে কেউ এগিয়ে আসেনি। এখন আমরা মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্যোগে এই নামফলক স্থাপনের চেষ্টা করছি। ‘
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খৃষ্টফার হিমেল রিছিল বলেন, এর আগে জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে ওই স্থানে স্মৃতিফলক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিলো। তবে বিএসএফের বাধায় তা আর সম্ভাবনাব হয়নি।




