শিক্ষাগুরু নগেন্দ্র চন্দ্র পালের ছেলে লেখক ও অর্থনীতিবিদ ড. বিরূপাক্ষ পাল বলেছেন, “বাবা বহুমুখী শিক্ষার প্রকাশ ঘটিয়েছেন। বাবার কাছে জেনেছি, জ্ঞান মানুষকে সুখী করে তোলে। আমি বাবার সন্তান হয়ে যা পারিনি, সেটি তাঁর ছাত্র আবদুস সামাদ করে দেখিয়েছেন। আমার পরিবার চিরকৃতজ্ঞ। ২০ বছর আগে বাবার শ্রাদ্ধে আমি বিদেশ থেকে আসতে পারিনি। আজ এই অনুষ্ঠানে আসতে পেরে মনে হচ্ছে, বাবার সেই শ্রাদ্ধের অনুষ্ঠানটি করতে পারছি।’

২৫ এপ্রিল মঙ্গলবার বিকেলে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলা মিলনায়তনে আলোকের ঝর্ণাধারায় শিক্ষাগুরু শ্রী নগেন্দ্র চন্দ্র পাল স্মারকগ্রন্থের প্রকাশনা উৎসবে তিনি এসব কথা বলেন। গ্রন্থটি সম্পাদনা করেছেন সাবেক জ্যেষ্ঠ সচিব আবদুস সামাদ ফারুক।
এসময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য লুৎফুল হাসান বলেন, শিক্ষাগুরু নগেন্দ্র চন্দ্র পাল ছিলেন আদর্শ শিক্ষক। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি ছিলেন খ্যাতিমান নাট্যকার ও অভিনেতাসহ বহু গুণে গুণান্বিত একজন মানুষ। নগেন্দ্র চন্দ্রের স্মৃতি ধরে রাখতে সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ- উপাচার্য এআরএম সোলাইমান। তিনি বলেন, ‘নগেন্দ্র পাল স্যার যদি এই এলাকায় না থাকতেন, তাহলে এই এলাকায় শিক্ষার আলো ছড়াত না। নগেন্দ্র চন্দ্র পাল সরকারি চাকরিতে যেতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা না করে শিক্ষকতা করেছেন। তবুও বিনা বেতনে। এ ধরনের ব্যক্তিত্বসম্পন্ন শিক্ষক সমাজে বিরল। সে বিষয়গুলো এই গ্রন্থে তুলে ধরা হয়েছে। এটাই ইতিহাস। এটা পড়ে নতুন প্রজন্ম দারুণভাবে উপকৃত হবে।’
শেরপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মুকতাদিরুল আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন গ্রন্থটির সম্পাদক সাবেক জ্যেষ্ঠ সচিব ও সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবদুস সামাদ ফারুক, শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান জুয়েল, নগেন্দ্র চন্দ্র পালের ছেলে ড. বিরূপাক্ষ পাল, আবদুর রশিদ মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলা প্রমুখ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খৃষ্টফার হিমেল রিছিল।
গ্রন্থটির সম্পাদক আবদুস সামাদ ফারুক বলেন, তাঁর শিক্ষক নগেন্দ্র চন্দ্রের কর্মজীবন অনেক বিস্তৃত। তিনি মনে করেন, এই গ্রন্থের মাধ্যমে তিনি তাঁর শিক্ষক-জীবনের ৪০ শতাংশ তুলে ধরতে পেরেছেন। শিক্ষক নগেন্দ্র চন্দ্র এই অন্ধকার জনপদে জ্ঞানের আলোক-মশাল জ্বালিয়ে গেছেন।




