শেরপুরের শ্রীবরদীতে চতুর্থ শ্রেণির স্কুলছাত্র জসিম উদ্দিনের হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এলাকাবাসীর আয়োজনে ১৩ এপ্রিল বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২ টা হতে ১টা পর্যন্ত উপজেলার ভায়াডাঙা বাজারের চাররাস্তা মোড়ের প্রধান সড়কে ওই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেয় স্থানীয় কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও এলাকাবাসীসহ ৫ শতাধিক লোক।

মানববন্ধনে শিক্ষার্থী জসিমের হত্যাকারীদের দ্রুত বিচারের দাবি তুলে বিভিন্ন প্লেকার্ড প্রদর্শন করে ছাত্রছাত্রীরা। পরে জসিমের হত্যাকারী ও মাদক কারবারিদের দ্রুত বিচারের দাবি তুলে বক্তব্য দেন নিহত জসিমের বিধবা মা জোসনা বেগম, রানীশিমুল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ওয়াছেক বিল্লাহ বিল্লাল, সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার পারভেজ, সহ-সভাপতি এমএ মোনায়েম, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদ রানা, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবু শামা কবির প্রমুখ।
উল্লেখ্য, শ্রীবরদী উপজেলার রানীশিমুল ইউনিয়নের হাসধরা গ্রামের মৃত গোলাপজলের ছেলে ও দক্ষিণ হাসধরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র জসিম উদ্দিন গত ৫ এপ্রিল সন্ধ্যায় তার মায়ের জন্য পান কিনতে বড় ভাই রুবেল মিয়ার ভ্যানগাড়ী নিয়ে ভায়াডাঙা বাজারে যায়। ওইসময় পার্শ্ববর্তী বিলভরট গ্রামের আমিনুল ইসলামের ছেলে মাসুদ মিয়াসহ (৩৫) ৪/৫ জনে জোর করে তাকেসহ ভ্যানগাড়ীটি নিয়ে হাসধরা হতে বড়ইকুচি সড়কে যায়। সেখানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাকে হত্যা করে ধান ক্ষেতে জসিমের মরদেহ ফেলে ভ্যানগাড়ী নিয়ে পালিয়ে যায় হত্যাকারীরা। ওই রাতেই শ্রীবরদী পৌর শহরের উত্তর বাজারে ঘাতক মাসুদ মিয়া ভ্যানগাড়ী বিক্রি করতে এলে তার সন্দেহজনক কথা শুনে স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশকে দেন। পরে জসিমের পরিবারের লোকজন সন্ধান পেয়ে রাতেই ভ্যানগাড়ী উদ্ধার করে। পরে থানায় জসিম নিখোঁজের বিষয়টি অবহিত করে। পরদিন সকালে হাসধরা সড়কের পাশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই ঘটনায় নিহতের বড় ভাই রুবেল মিয়া বাদী হয়ে আটক মাসুদ মিয়াসহ ৪/৫ জনের নামে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

এ ব্যাপারে শ্রীবরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিপ্লব কুমার বিশ্বাস বলেন, ওই ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা হয়েছে। এদিকে ঘটনার সাথে জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।




