শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে বাগ্বিতণ্ডার জেরে আলবার্ট দাওয়া (৪০) নামে ভগ্নিপতিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে শ্যালকের বিরুদ্ধে। ১৩ নভেম্বর রবিবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার হাতিপাগার গ্রামে ওই ঘটনা ঘটে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ওইদিন রাতেই নিহতের স্ত্রী শোভা মারাক বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করলে আলবার্ট দাওয়ার শ্যালক উৎসব মারাককে (২১) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নিহত আলবার্ট দাওয়া উপজেলার হাতিবান্দা গ্রামের মজিন্দ্র মারাকের ছেলে। গ্রেফতার হওয়া উৎসব মারাক ওই একই এলাকার সংগ্রাম ম্রং এর ছেলে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রাতে সাংসারিক বিভিন্ন বিষয়ে আলবার্টের সঙ্গে উৎসবের বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। এ সময় তাঁরা দুজনেই মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন বলে পরিবারের লোকজন দাবি করেছেন। বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে উৎসবের পরিবারকে নিয়ে আলবার্ট গালি দেন। এ সময় ক্ষিপ্ত হয়ে উৎসব একটি বাঁশের লাঠি দিয়ে আলবার্টের মাথায় আঘাত করেন। এতে আলবার্ট গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে আলবার্টের স্বজনেরা তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পরপরই আত্মসমর্পণের জন্য থানায় আসে উৎসব মারাক। পরে পুলিশ তাকে আটক করে। এ ঘটনায় গত রোববার দিবাগত রাত একটার দিকে নিহত আলবার্টের স্ত্রী শোভা মারাক বাদী হয়ে মামলা করলে উৎসবকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. এমদাদুল হক বলেন, লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য শেরপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে নালিতাবাড়ী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফরোজা নাজনীন বলেন, বাগ্বিতণ্ডা ও মারধরের ঘটনার সময় দুজনে মদ্যপ ছিলেন বলে পরিবারের লোকজন দাবি করছেন। হত্যাকাণ্ডের পর উৎসব অপরাধ স্বীকার করতে থানায় এলে পুলিশ তাঁকে আটক করে। সোমবার দুপুরে অভিযুক্ত উৎসবকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।




