শেরপুরের নকলায় বীণা আক্তার (৮) নামে বাক-বুদ্ধি প্রতিবন্ধী এক শিশুকে অপহরণের অভিযোগে মো. জামান (৬২) নামে কথিত এক মাজার ভক্তকে আটক করেছে থানা পুলিশ। ১৪ সেপ্টেম্বর বুধবার দুপুরে অপহরণের অভিযোগে বীণার পিতা আনোয়ার হোসেন ও মা দুলালী বেগম জামানকে ধরে নকলা থানায় নিয়ে এলে পুলিশ তাকে আটক করে।

বীণার বাড়ি শেরপুর সদর উপজেলার চরপক্ষীমারী ইউনিয়নের সাতপাকিয়া গ্রামে। তার বাবা একজন গরিব কৃষক এবং মা গৃহিণী। অন্যদিকে জামানের বাড়ি ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলার আলীনগর বলে জানা গেছে। প্রায় এক যুগ ধরে সে শেরপুর ও জামালপুরের বিভিন্ন মাজারে ঘুরে বেড়ায়।
বীণার পিতা আনোয়ার হোসেন ও মা দুলালী বেগম জানায়, বীণা বোবা ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী। ১৩ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সকালে সে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়। তারপর থেকে পথচারী ও এলাকাবাসির দেওয়া তথ্যমতে, তারা বীণাকে খুঁজতে খঁজতে দুপুরে জামালপুর জেলা শহরের আদালত পাড়ায় যায়। সেখানে গিয়ে উপস্থিত লোকজনকে বীণার ছবি দেখালে তারা জানায়, একজন পাগলের সাথে এমন একটি মেয়েকে তাঁরা দেথেছে। তাঁরা আরও জানায় ওই পাগলটিকে শেরপুর সদর উপজেলার চরপক্ষীমারী ইউনিয়নের কুলুরচর বেপারীপাড়া এলাকায় নয়ন নগর দরবার শরীফেও দেখা যায়।

সেখান থেকে বিকেলে নয়ন নগর দরবার শরীফে আসেন বীণার পিতা-মাতা এবং উপস্থিত লোকজনের কাছে জানতে পারেন ওই পাগলের নাম জামান। একটু আগে সে একটি ছোট মেয়েকে সাথে করে কোথায় চলে গেছে। ১৪ সেপ্টেম্বর বুধবার সকালে বীণার পিতা-মাতা মেয়েকে খুঁজতে আবার নয়ন নগর দরবার শরীফে গিয়ে জামানকে পায় এবং বীণার সন্ধান দাবি করে। ওইসময় জামান জানায়, মেয়েটির পিতা-মাতাকে খুঁজে বের করে তাদের হাতে মেয়েটিকে তুলে দেওয়ার জন্য রাতে মেয়েটিকে নিয়ে সে নকলা পৌর শহরে গিয়েছিল। কিন্তু রাতে জালালপুর মহল্লায় ব্র্যাক অফিসের সামনে মেয়েটিকে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়লে মেয়েটি উধাও হয়ে যায়। পরে বীণার পিতামাতা দুপুরের দিকে স্থানীয়দের সহায়তায় জামানকে ধরে নকলা থানায় সোপর্দ করে বিস্তারিত পুলিশকে জানায়।
তবে অভিযুক্ত জামান বলেন, আমি মাজার ভক্ত মানুষ। প্রায় ১২ বছর ধরে জামালপুর-শেরপুরের বিভিন্ন মাজারে ঘুরাঘুরি করি। ১৩ সেপটেম্বর মঙ্গলবার দুপুরের দিকে জামালপুর আদালত পাড়ায় বেশকিছু লোক বোবা ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী মেয়েটিকে ঘোরাঘুরি করতে দেখে আমার জিম্মায় দেয়। পরে মেয়েটির বাবামাকে খুঁজে বের করে তাদের কাছে মেয়েটিকে তুলে দিতে অনেক জায়গায় ছুটাছুটি করি। রাতে মেয়েটিকে নিয়ে নকলা যাই। অনেক রাতে তাকে নিয়ে নয়ন নগর দরবার শরীফে ফিরতে না পেরে জালালপুর ব্র্যাক অফিসের সামনে মেয়েটিকে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়ি। সজাগ হয়ে তাকে খুঁজে না পেয়ে সকালে নয়ন নগর দরবার শরীফে চলে আসি।
এ ব্যাপারে নকলা থানার এসআই কামরুল হাসান জানান, জামান ও বীণার বাবা-মাকে নিয়ে পুলিশ বীণাকে খুঁজতে বের হয়েছে। এ বিষয়ে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




