শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলায় নিখোঁজের ৫ দিন পর মাটি খুঁড়ে হাত-পা বাধা অবস্থায় এক নারীর লাশ উদ্ধারের ঘটনার রহস্য উন্মোচন করেছে থানা পুলিশ। ওই ঘটনায় ২ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অলংকারের জন্য ওই নারীকে হত্যা করার কথা স্বীকার করেছে আসামিরা। পরে ৬ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে উপজেলার বিশগিরিপাড়ার মৃত আফাজ উদ্দিনের ছেলে নজরুল ইসলাম এবং আব্দুল রশিদের ছেলে হেলিম মিয়া (৪০)।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২১ আগস্ট বিকেলে উপজেলার বিশগিরিপাড়া গ্রামের নিজ বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন নছিমা বেগম (৩৮) নামের এক গৃহবধূ। পরে নিখোঁজের ৫ দিন পর গত ২৫ আগস্ট ওই এলাকার এক বাগান থেকে মাটি খুঁড়ে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ওই নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনার পরদিন নিহতের পিতা নাজিম উদ্দিন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
পরে হত্যাকান্ডের ঘটনার সাথে জড়িত থাকার বিষয়ে সাক্ষ্য প্রমাণ পেয়ে মোবাইল ট্র্যাকিং এর মাধ্যমে ঢাকার বংশাল এলাকা থেকে গত রবিবার নজরুল নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যমতে গত সোমবার বিকেলে উপজেলার বিশগিরিপাড়া এলাকা থেকে হেলিম নামের আরেক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা পুলিশকে জানায়, গত ২০ আগস্ট ৫০ টাকা ধার নিতে অভিযুক্ত নজরুলের বাড়িতে যান নছিমা। ওইসময় কথাবার্তার একপর্যায়ে বাড়ির কাছে এক ঝোপে তাঁদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ওই ঘটনা হেলিম দেখে ফেলে এবং এলাকাবাসীকে জানিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়।
পরে নছিমার গলার থাকা রুপার চেইন, কানের দুল ও নাকফুল দাবি করেন হেলিম। নছিমা নিজের অলংকার খুলে দিতে অস্বীকৃতি জানালে গলায় থাকা ওড়না পেচিয়ে ধরে নজরুল ও হেলিম। একপর্যায়ে নাছিমা মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। পরে নছিমার অলংকার খুলে নিয়ে তাঁকে মাটি চাপা দিয়ে ঘটনাস্থল গ্যাগ করেন আসামীরা।
বিষয়টি নিশ্চিত করে নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এমদাদুল হক বলেন, তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রথমে নজরুলকে এবং তাঁর তথ্যমতে হেলিমকে গ্রেফতার করা হয়। অলংকারের জন্য হত্যার কথা তাঁরা স্বীকার করেছে। মঙ্গলবার দুপুরে তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।




