শেরপুরের নাকুগাঁও স্থলবন্দরের লোড-আনলোড শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর দাবিতে তৃতীয় দিনের মতো কর্মবিরতি চলছে। সিএফটি প্রতি এক টাকা মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য তাদের কর্মবিরতি শুরু হয়। নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে মজুরি বাড়ানোর দাবিতে কর্মবিরতি, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করে তারা।

জানা গেছে, শেরপুরের নাকুগাঁও স্থলবন্দরে লোড-আনলোড শ্রমিক সংখ্যা এক হাজারের বেশি। এছাড়া দৈনিক হাজিরা শ্রমিক রয়েছে প্রায় ২ হাজারের মতো। বতর্মান বাজারে সকল নিত্যপণ্যের দাম বাড়লেও শ্রমিকের মজুরি বাড়েনি। গত ২৫ বছর ধরে প্রতি সিএফটি পণ্য লোড-আনলোড করতে তাদের মজুরি ছিলো তিন টাকা। তাই বন্দরের শ্রমিকরা প্রতি সিএফটি পাথর লোড আনলোড করতে ৩ টাকার স্থলে ৪ টাকা করার দাবি জানান। এই দাবিতে গত বৃহস্পতিবার থেকে নাকুগাঁও স্থলবন্দরে মানববন্ধন ও কর্মবিরতি শুরু করে শ্রমিকরা। এই কর্মবিরতির কারনে বেকার হয়ে পড়েছে সংশ্লিষ্ট প্রায় ৫ হাজার মানুষ।
শ্রমিকরা বলছেন, সিএফটি প্রতি মাত্র এক টাকা পারিশ্রমিক বৃদ্ধির দাবিতে মালিক পক্ষের সাথে কয়েক দফা বসেও কোন লাভ হয়নি। মালিকপক্ষ থেকে গত ২১ আগস্ট দশ দিনের সময় নিয়ে কোন সমাধান না দেয়ায় শুরু হয় তাদের অনির্দিষ্টকালের এই কর্মবিরতি।
৩ সেপ্টেম্বর শনিবার দুপুরে সরেজমিনে নাকুগাঁও স্থলবন্দরে গিয়ে দেখা যায়, কর্মবিরতির কারণে স্থবির হয়ে পড়েছে বন্দরের সার্বিক ব্যবসা বাণিজ্য কার্যক্রম।শ্রমিকরা বলছেন, তাদের ন্যায্য দাবি মেনে নিলেই কাজে যোগ দিবেন তারা।

নাকুগাঁও লোড আনলোড শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সুজন মিয়া জানান, দেশে জ্বালানিসহ সকল কিছুর দাম বেড়েছে। এতে আমাদের সংসার খরচ বেড়েছে। এখন ৩ টাকা দরে পাথর লোড আনলোড করলে আমাদের পোষায় না। তাই প্রতি সিএফটিতে ১ টাকা করে মজুরি বাড়াতে আমরা প্রায় একমাস যাবত ব্যবসায়ীদের কাছে দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু ব্যবসায়ীরা আমাদের ন্যায্য দাবি মেনে নিচ্ছেন না। দাবি মেনে নিলেই আমরা কাজে যোগ দিব।
এ ব্যাপারে নাকুগাঁও স্থলবন্দর আমদানি রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল জানান, আমরা শ্রমিকদের দাবির প্রেক্ষিতে প্রতি সিএফটি পাথর লোড আনলোড করতে ৩ টাকা থেকে ৫০ পয়সা বাড়িয়ে সাড়ে তিন টাকা করে মজুরি বাড়তি দিতে চেয়েছি। এতে শ্রমিকরা রাজী হচ্ছেন না। তারপরও আমরা ব্যবসায়ীরা শ্রমিকদের সাথে সমঝোতা করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।




