শেরপুরের ঝিনাইগাতীর সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ফের একটি বন্যহাতির মৃতদেহ উদ্ধার করেছে বন বিভাগ। ২ জুন বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার পর্যটন কেন্দ্র গজনী অবকাশের পাশে ভারত-বাংলাদেশ সীমানার বেরবেরী এলাকা থেকে ওই মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে সন্ধ্যা হওয়ায় ও বন্যহাতির বিচরণের কারণে শুক্রবার হাতির ময়নাতদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছে বনবিভাগ।

বন বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গজনী অবকাশের বেরবেরী এলাকার শেষ সীমানায় ১১০১ নং সীমান্ত পিলারের কাছে একটি বন্যহাতির মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে খবর পেয়ে বন বিভাগ, প্রাণী সম্পদ দপ্তরের কর্মকর্তা, বিজিবি ও পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মৃত বন্য হাতিটির পেট ফুলে গেছে ও শরীর থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। এছাড়া হাতির পিঠে ও মুখে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। হাতিটি কিভাবে মারা গেছে তা জানা যায়নি। তবে এলাকাবাসী ও প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তাদের ধারণা, ভারতের মেঘালয়ে বল্লম (দেশিয় অস্ত্র) দিয়ে হাতিটিকে আঘাত করা হয়েছে, পরে বাংলাদেশে এসে মারা গেছে। হাতিটি হয়তো দুই/তিনদিন আগেই মারা গেছে ধারণা তাদের।

ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ সাদিয়া আফরিন বলেন, বন্য হাতিটি পুরুষ, আনুমানিক বয়স ১৫/২০ বছর হতে পারে। হাতিটি যেকোন অস্ত্রের আঘাতের কারণে মারা যেতে পারে, কারণ হাতিটির পিঠে বড় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে, পাশাপাশি হাতিটির দাঁত কে বা কারা খোলে নিয়ে গেছে। এ বিষয়ে ময়নাতদন্ত সাপেক্ষে জানা যাবে। আমার মতে, বন্য বিভাগের উচিৎ এ ঘটনায় মামলা করা।
প্রকৃতি ও পরিবেশবাদী সংগঠন সবুজ আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মেরাজ উদ্দিন বলেন, গারো পাহাড়ে একের পর এক হাতির মৃত্যু ও হত্যার ঘটনা ঘটেই চলছে। এসব হাতিকে নানা উপায়ে হত্যা করা হলেও এদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। শুধুমাত্র একটি হাতি হত্যায় মামলা করা হলেও বাকীগুলোর বিষয়ে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। যে কারণে, গারো পাহাড়ে হাতি হত্যা থামছে না।
এ ব্যাপারে বন বিভাগের রাংটিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মকরুল ইসলাম আকন্দ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেন, আগামীকাল হাতিটির ময়নাতদন্ত শেষে বুঝা যাবে সেটি কিভাবে মারা গেছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেলে সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া এ ঘটনায় আপাতত থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হচ্ছে
উল্লেখ্য, গত ৬ মাসে জেলায় ৪টি হাতির মৃত্যু হয়েছে।




