শেরপুর সদর উপজেলার তিলকান্দি দুধগ্রামে একমাসে অর্থশতাধিক গরু মৃত্যুর ঘটনায় বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর অবশেষে নড়েচড়ে বসেছে জেলা প্রাণীসম্পদ বিভাগ। এরই আওতায় তিলকান্দি দুধগ্রামে সেবা প্রদানের জন্য ৩টি মেডিকেল গঠন, বিনামূল্যে ভ্যাকসিনেশন কর্মসূচি পরিচালনাসহ নানা কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. মোস্তাফিজুর রহমান রবিবার সকালে শ্যামলবাংলা২৪ডটকমকে জানান, দুধগ্রামের খামারীদের গরুর মৃত্যুর খবর পেয়ে তিলকান্দিতে বিনামূল্যে মেডিকেল ক্যাম্প করা হয়েছে। শনিবার দিনব্যাপী ওই এলাকার খামারীদের নিয়ে মতবিনিময় সভা, গরুগুলোকে চিকিৎসা ও ভ্যাকসিন প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া দুধগ্রামের জন্য সদর উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. পলাশ কান্তি দত্ত, জেলা ভেটেরিনারী সার্জন ডা. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও এলইও ডা. ফারজানা মৌকে প্রধান করে আলাদা তিনটি ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। এখন নতুন করে কোনো গরুর মৃত্যু হচ্ছে না। এছাড়া ডিজিজ সার্ভিলেন্স, নিয়মিত মনিটরিং কার্যক্রম ও খামারীদের পরামর্শ প্রদান চালু রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা ২৫টি গরু ও বাছুরের মৃত্যুর তথ্য পেয়েছি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পাকুড়িয়া মাজারে ওরশ উপলক্ষে বিভিন্ন এলাকা থেকে আনা গরুর মাধ্যমে ক্ষুরা রোগ ছড়িয়েছে। গরুগুলো মৃত্যুর অন্যতম কারণ এটি। তবে কিছু গরু অন্যান্য রোগেও মারা গেছে। মৃত গরুর নমুনা সংগ্রহ করে ইতোমধ্যে পরীক্ষার জন্য কেন্দ্রীয় রোগ অনুসন্ধান গবেষণাগারে পাঠানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, শেরপুরের দুধগ্রাম খ্যাত সদর উপজেলার তিলকান্দি গ্রামে গত এক মাসে অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত হয়ে অর্ধশতাধিক গরুর মৃত্যু হয়। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন স্থানীয় দুগ্ধখামারীরা। তবে জেলা প্রাণীসম্পদ বিভাগের লোকজনকে ডেকেও কোন সমাধান পায়নি খামারীরা। বরং গরুর মৃত্যুর বিষয়ে তাদের দপ্তরে তেমন কোন তথ্যই ছিল না। উল্টো চিকিৎসা সেবা পেতে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠে খোদ সদর উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তার বিরুদ্ধেই। এ বিষয়ে সরেজমিন প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে




