শেরপুরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নামে বৈধ স্থাপনা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাংচুরের প্রতিবাদে এবং ক্ষতিপূরণ দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা। ১১ এপ্রিল সোমবার দুপুরে শেরপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ব্যানারে ওই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ব্যবসায়ী এনায়েত আহম্মেদ। তিনি বলেন, শেরপুরের ফার্নিচার বেচাকেনার অন্যতম মার্কেট অষ্টমীতলা-পূর্বশেরীতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নামে তাদের নিজস্ব জায়গায় গড়ে উঠা নাসির ফার্নিচার মার্ট, শেখ সাদী ফার্নিচার মার্ট, স্থানীয় জাহাঙ্গীর হোসেন মাস্টারের বসতবাড়িসহ বেশ কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অনৈতিকভাবে ভাংচুর চালায় সড়ক ও জনপথ বিভাগ। এতে অন্তত: অর্ধকোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, অভিযান শুরুর আগে সকালে সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তা এনামুল হক উচ্ছেদ অভিযান ঘুষ দাবি করলে তা না দেয়াতেই তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওই ভাংচুর চালান। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত করে ক্ষতিপূরণ দাবি করছি।
তবে অভিযোগের বিষয়ে সওজের সার্ভেয়ার মো. এনামুল হক বলেন, ব্যবসায়ীদের অভিযোগটি সর্ম্পূণ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। কেবল আমি নিজে নই, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সওজ বিভাগের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে দেশের স্বার্থে, রাষ্ট্রের স্বার্থে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এখানে আমি শুধুমাত্র আমার দায়িত্ব পালন করেছি।

এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগ, শেরপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান বলেন, এখানে আমরা যারা কর্মরত আছি কারো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নেই, এগুলো সব রাষ্ট্রের সম্পত্তি। আর রাষ্ট্রের এই সম্পতি রক্ষার স্বার্থে সময়ে সময়ে আমরা অভিযান পরিচালনা করি। আর অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে সবধরনের আইনী পদক্ষেপ গ্রহণ করেই করা হয়। জেলা প্রশাসনের কাছে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়ে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা করা হয়। তবুও কেউ যদি মনে করেন, তিনি হয়রানীর শিকার হয়েছেন, তিনি চাইলে জেলা প্রশাসনে কিংবা আমার দপ্তরে অভিযোগ জানাতে পারেন।
উল্লেখ্য, ১০ এপ্রিল রবিবার দুপুরে সড়ক ও জনপথ বিভাগ থানা পুলিশের সহায়তায় অষ্টমীতলা-পূর্বশেরী এলাকায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালিত হয়। ওইসময় প্রায় ৪০টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হলে অবৈধ দখলদাররা একত্রিত হয়ে সওজের সার্ভেয়ার মো. এনামুল হকের উপর চড়াও হয়। এতে সে আহত হয়। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হলে উচ্ছেদ অভিযান স্থগিত করা হয়। ওই ঘটনায় সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।




