শেরপুরে সড়ক ও জনপথ বিভাগের বেদখল হওয়া জায়গা উচ্ছেদ অভিযানে উদ্ধারকালে দখলদারদের হামলায় সওজ’র সার্ভেয়ার এনামুল হক আহত হয়েছেন। ১০ এপ্রিল রবিবার দুপুরে শহরের অষ্টমীতলা এলাকায় সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন কাজের জন্য বেদখল হওয়া জায়গা উচ্ছেদ করতে গেলে ওই ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় সাইজউদ্দিন ওরফে গামা নামে (৩৬) একজনকে আটক করেছে পুলিশ।

জানা যায়, শেরপুর জেলা শহরের শেরী ব্রিজ এলাকা থেকে অষ্টমীতলা পর্যন্ত সড়ক ও জনপথ বিভাগের সড়কের দুই পাশের বেশ কিছু জমি দীর্ঘদিন যাবত বেদখল করে ঘর নির্মাণ করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়ি নির্মাণ করেন স্থানীয় কিছু দখলদার। সম্প্রতি ওইসব দখলদার বিরুদ্ধে লিখিত নোটিশ ও মাইকিং করে প্রচার করার পরও তারা ওই জায়গা ছেড়ে দেয়নি। ফলে রবিবার দুপুরে সড়ক ও জনপথ বিভাগের সহযোগিতায় উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। ওইসময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সানাউল্লাহ মোর্শেদ, সওজের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. জাহিদুল ইসলাম ও সদর থানা পুলিশের নেতৃত্বে প্রায় ৪০টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।
পরে অবৈধ দখলদাররা ক্ষিপ্ত হয়ে একত্রিত হয়ে সওজ’র সার্ভেয়ার মো. এনামুল হকের উপর চড়াও হয়। এতে আহত হন তিনি। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হলে উচ্ছেদ অভিযান স্থগিত করা হয়।

এদিকে ওই হামলার ঘটনায় ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ সাইজউদ্দিন ওরফে গামা নামে একজনকে আটক করে শেরপুর সদর থানায় নিয়ে যায়। এদিকে সরকারি কাজে বাঁধা এবং ওই হামলার ঘটনায় সড়ক ও জনপথ বিভাগের তরফ থেকে সদর থানায় ৪জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়।
উচ্ছেদের বিষয়ে দখলদাররা জানান, তাদেরকে পূর্ব নোটিশ না দিয়ে নিয়ম বর্হিভূতভাবে উচ্ছেদ অভিযানের নামে তাদের ঘর-বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লক্ষ লক্ষ টাকার ফার্নিচারের মালামালের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করা হয়েছে। ওই ঘটনায় তারা নিজেদের সম্পদের ক্ষতিপূরণ দাবি করেন।
এদিকে সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. জাহিদুর রহমান জানান, ওইসব দখলদারদের উচ্ছেদের জন্য পূর্বে নোটিশ এবং মাইকিং করে সতর্ক করা হলেও তারা তাতে কর্ণপাত করেননি। তাই বিধি অনুযায়ী সরকারি জমি বেদখলের জন্য ওই অবৈধ দখল উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা করা হয়। কিন্তু কতিপয় দুষ্কৃতকারী দখলদার আমাদের সার্ভেয়ারের উপর হামলা এবং সরকারি কর্তব্যকাজে বাঁধা দেয়ায় আমরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।




