বাসার মালিককে একদিন জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ
শেরপুরে কলেজছাত্রীকে গণধর্ষণের চাঞ্চল্যকর মামলায় প্রধান আসামি প্রভাষক জোবায়ের হোসেনকে (২৮) চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ৪ এপ্রিল সোমবার নকলার চৌধুরী ছবরুন্নেছা মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল খালেক ওই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঘটনার বিষয়ে কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি জেলা প্রশাসক মো. মোমিনুর রশীদের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে ওই শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হলে পরবর্তীতে তার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

অন্যদিকে একই মামলায় গ্রেফতারকৃত অপর আসামি বাড়ির মালিক লুৎফর রহমানকে (৩৫) একদিন জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছে আদালত। মামলার তদন্ত কর্মকর্তার ৫ দিনের পুলিশ রিমাণ্ডের আবেদনের বিষয়ে সোমবার দুপুরে উভয় পক্ষের দীর্ঘ শুনানী শেষে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আলমগীর আল মামুন ওই আদেশ দেন।
শুনানীকালে রাষ্ট্রপক্ষে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) বন্দে আলী মিয়া ও কোর্ট পরিদর্শক খন্দকার শহীদুল হকসহ একাধিক আইনজীবী এবং আসামিপক্ষে বেশ কয়েকজন সিনিয়র আইনজীবী অংশ নেন। ওইসময় আসামি লুৎফর রহমানের উপস্থিতিতে তার নিযুক্ত আইনজীবীরা দাবি করেন, তার বাসার ভাড়াটে কলেজশিক্ষক জোবায়ের হোসেন ছাত্রীকে নিয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়ানোর পর তাদেরকে ধমক দিয়ে বাসা থেকে বের করে দেওয়াতেই লুৎফর ও তার এক বন্ধুকে ওই মামলায় জড়ানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, নকলা পৌর শহরের ইশিবপুর এলাকার বাসিন্দা ও চৌধুরী ছবরুন্নেছা মহিলা ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির এক ছাত্রীকে একই কলেজের আইসিটি বিষয়ের প্রভাষক জোবায়ের হোসেন গত ৩০ মার্চ বুধবার সন্ধ্যায় শেরপুর শহরের মধ্য গৌরীপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় নিয়ে প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করে। এক পর্যায়ে বাসার মালিক লুৎফর রহমান ও তার বন্ধু আবু রাহাত তাদের কক্ষে প্রবেশ করে এবং ঘটনা দেখে ফেলাসহ তা ভিডিওতে ধারণের কথা বলে ওই ছাত্রীকে জোরপূর্বক পালাক্রমে ধর্ষণ করে।
এরপর জোবায়ের ও কলেজ ছাত্রীকে বাসা থেকে বের করে দেয় তারা। ওই ঘটনায় কলেজছাত্রী বাদী হয়ে শিক্ষক জোবায়ের, বাসার মালিক লুৎফর রহমান ও তার বন্ধু আবু রাহাতকে আসামি করে সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশ অভিযান চালিয়ে কলেজশিক্ষক ও বাসার মালিককে গ্রেফতার করে। তবে এখনও পলাতক রয়েছে অপর আসামি আবু রাহাত।




