ads

বুধবার , ৩০ মার্চ ২০২২ | ২৮ অক্টোবর ২০২৬
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

শেরপুরে বারুনী স্নান ও মেলা অনুষ্ঠিত

স্টাফ রিপোর্টার - ফটো কার্ড
মার্চ ৩০, ২০২২ ৪:৩৭ অপরাহ্ণ

শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার গড়জরিপা এলাকায় ঐতিহ্যবাহী কালীদহ সাগরে হিন্দু ধর্মাবম্বীদের বারুনী স্নান ও মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৩০ মার্চ বুধবার মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশী তিথিতে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে বিপুল সংখ্যক সনাতন ধর্মাবলম্বী বৈদিকমন্ত্র উচ্চারণসহ কালিদহ সাগরে পূণ্য স্নান করেন। ওইসময় পূণ্যার্থীগণ পূর্ব পুরুষের আত্মার শান্তির জন্য তর্পণ করেন। এতে হাজারও ভক্তকূল ও পূণ্যার্থী অংশ নেন।

Shamol Bangla Ads

জানা যায়, প্রায় দেড়শ বছর আগে থেকে শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার গড়জরিপা ইউনিয়নের গড়জরিপা গ্রামে কোচ সামন্ত আমল থেকে ঐতিহ্যবাহী গড়জড়িপা মাটির দুর্গ সংলগ্ন কালীদহ সাগরে বারুনী স্নান অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও জেলা ও জেলার বাইরে থেকে হিন্দু ধর্মাবলম্বী পূণ্যার্থীরা ভোর থেকেই দলে দলে পরিবার-পরিজন নিয়ে ছুটে আসেন ওই কালিদহ সাগর পাড়ে। কিন্তু বর্তমানে ওই কালীদহ সাগর শুকিয়ে যাওয়ায় এর জৌলুস কমে গেছে। এরপরও এখনও এখানে অনেক পূণ্যার্থী তাদের নানা মনোবাসনা পূরণে এবং পূণ্যের আশায় ছুটে আসেন এই কালিদহ সাগরে। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে স্নান ও পূজা অর্চনা শুরু হয়। তবে দূর-দূরান্ত থেকে অনেকেই দিনের বিভিন্ন সময়ে এসে স্নানের কাজ সারেন। পূণ্যার্থীদের বিশ্বাস, কালিদহ সাগরে স্নান করলে মনের সকল কুটিলতা, সংকীতনতা ও পাপ মোচন হয়। স্নান শেষে পূণ্যার্থীগণ সাগরপাড়ে গঙ্গাপূজা ও সংকীর্তনের আয়োজন করেন।

করোনার কারণে গত দুই বছর এ স্নান উৎসব না হওয়ায় এবার পূণ্যার্থীর সংখ্যা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। অনেক দিন পর স্নান ও পূজা অর্চনা করতে পেরে বেশ খূশি পূণ্যার্থীরা। এদিন করোনা ভাইরাসের থাবা থেকে সারা বিশ্ব মুক্তি পাওয়ার জন্য অনেকেই পূজা অর্চনা করেছেন। স্নান ও পূজা অর্চনাকে কেন্দ্র করে কালিদহ সাগরের পাশে মেলা বসে। মেলায় নানা পণ্য ও মুখরোচক খাবারের পসরা সাজিয়ে বসেন দোকানিরা।

Shamol Bangla Ads

তবে স্নান সংলগ্ন মাঠ না থাকায় এবং রাস্তা না থাকায় পূণ্যাথীদেরকে ধান খেতের আইল ধরে কালিদহ সাগরে নামতে হয়েছে। এছাড়া পূণ্যার্থীদের বসার স্থান না থাকায় অনেক গাদাগাদি করে সাগর পাড়েই তাদের পূজা অর্চনা ও ভেজা কাপড় ছেড়ে শুকনো কাপড় পড়তে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।

এছাড়া ওই স্নান ও মেলার জন্য কোন আয়োজক কমিটি ও নির্দিষ্ট কোন জায়গা নেই। এতে ভোগান্তিতে পড়েন পূণ্যার্থীরা। তারপরও শেরপুর শহরের বিশিষ্ট কাপড়ের ব্যবসায়ী দুলাল সাহা নিজ উদ্যোগে শহর জুড়ে এ স্নান ও পূজার প্রচারণা চালিয়েছেন ভক্তদের উদ্যেশে। এক সময় এখানে মাসব্যাপী মেলা বসতো। সময়ের আবর্তে স্নানের সে জৌলুস কমে যাওয়া সে মেলা এখন আর হয় না। তবে খুবই ছোট পরিসরে এখন স্নানের দিন ভোর থেকে বেলা ১২ টা পর্যন্ত চলে এ মেলা। মেলায় দেশীয় হস্তশিল্প, মাটির খেলনা, বাঁশ বেতের তৈজসপত্র, মুখরোচক খাবারের দোকান বসে।

শেরপুর থেকে স্নান করতে যাওয়া বয়োবৃদ্ধ অনেকেই জানান, আগের মতো বারুনী স্নানে লোক সমাগম না হলেও শত বছর ধরে পূর্ব পুরুষদের এ স্নানের রীতি চলবেই। আধূনিক যুগের ছেলে-মেয়েরা এ স্নানের প্রতি খুব একটা আগ্রহ না হলেও আগামী প্রজন্মের কাছে ধর্মীয় এসব আচার-রীতি ধরে রাখার আশা ব্যক্ত করেন অনেকেই।

Need Ads