ads

মঙ্গলবার , ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২২ | ২৮ অক্টোবর ২০২৬
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

শেরপুরে কমিটি গঠনে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করলেন মহিলা দল নেত্রী

স্টাফ রিপোর্টার - ফটো কার্ড
ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২২ ৬:১৮ অপরাহ্ণ

এক ঘন্টা পরই হলেন বহিস্কার!

শেরপুরে জেলা বিএনপি দলের মাঝে নীরব চাঁদাবাজি করছে-এমন অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় মহিলা দলের পদবঞ্চিত নেত্রী, জেলা মহিলা দলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভানেত্রী ও সাবেক পৌর প্যানেল মেয়র মোছা. নুরজাহান বেগম। ১৫ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার দুপুর ২টায় শহরের মাধবপুরস্থ প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি ওই অভিযোগ তুলে বলেন, জেলা বিএনপি দলের মাঝে নীরব চাঁদাবাজি করে যাচ্ছে। আর দলের সাধারণ সম্পাদক হযরত আলী ব্যক্তিগত মামলাকে রাজনৈতিক মামলা বলে চালিয়ে দিয়ে দলের হাইকমান্ডের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন। তিনি দুর্নীতিবাজ ও ঋণখেলাপী মামলার আসামি হয়েও হাইকমান্ডের নাম ভাঙিয়ে ইউরোপ-আমেরিকায় প্রবাসী বাংলাদেশীদের কাছ থেকে দলের নেতা-কর্মীদের অর্থনৈতিক দুরবস্থার কথা বলে চাঁদাবাজি করছেন।

Shamol Bangla Ads

অন্যদিকে ওই সংবাদ সম্মেলনের এক ঘন্টা পরই মহিলা দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আফরোজা আব্বাস ও সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ সাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে মহিলা দলের উপদেষ্টা মোছা. নুরজাহান বেগমকে বহিস্কারের তথ্য জানানো হয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের।

সংবাদ সম্মেলনে মহিলা দল নেত্রী নুরজাহান বেগম লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করে বলেন, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের সাথে দলের কারও মতের অনৈক্য হলেই তারা পদ হারাচ্ছেন। তিনি জেলায় বিভিন্ন ওয়ার্ড কমিটি, উপজেলা কমিটি এবং অঙ্গ-সংগঠনের কমিটি করে বিভিন্ন ব্যক্তিদের পদের লোভ দেখিয়েও দলের নেতা-কর্মীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেনÑ যা নিয়ে বর্তমানে সর্বত্রই আলোচনা হচ্ছে। পদ হারানোর ভয়ে নেতা-কর্মীরা নীরব রয়েছেন। হাজারও নেতা-কর্মী রাজনৈতিক মামলার শিকার হলেও দলে তাদের সঠিক মূল্যায়ন করছেন না। যার ফলে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে এবং জাতীয়তাবাদী আদর্শের নেতা-কর্মীরা দলে স্থান পাচ্ছেন না। এছাড়া দল করতে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েও অনেক ত্যাগী নেতা-কর্মী দল থেকে সরে পড়ছেন। অথচ তিনি দলের জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হয়েও দ্বিতীয় দফায় সদর থানা বিএনপির আহবায়ক পদটি কুক্ষিগত করে রেখেছেন। তার ওইসব অন্যায় ও স্বেচ্ছাচারী কর্মকাণ্ডের পরও কেবল অর্থনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার কারণে জেলা বিএনপির সভাপতি মাহমুদুল হক রুবেলও নীরব ভূমিকা পালন করছেন।

Shamol Bangla Ads

বিএনপি নেত্রী নুরজাহান বেগম আরও অভিযোগ করেন, তিনি দীর্ঘদিন যাবত সক্রিয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। সেই সুবাদে তিনি জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়কসহ মহিলা দলের বিভিন্ন ইউনিটের দায়িত্ব পালন করেছেন। সম্প্রতি তাকে সভানেত্রী ও এ্যাডভোকেট আশরাফুন নাহার রুবীকে সাধারণ সম্পাদক করে একটি প্রস্তাবিত কমিটি কেন্দ্রীয় কমিটিতে পাঠানো হয়। কিন্তু গত ৭ ফেব্রুয়ারি জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সুপারিশকৃত মহিলা দলের একটি কমিটি প্রকাশিত হয়, যাতে দলের ত্যাগী নেত্রীদের বাদ দেওয়া হয়েছে। তাকে নামেমাত্র কমিটির উপদেষ্টা হিসেবে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে ওই কমিটিতে অর্থের বিনিময়ে এবং স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে রাজনৈতিক সারশূন্য মহিলাদের নেতৃত্বে আনতে তদবির করেছেন দলের সাধারণ সম্পাদক মো. হযরত আলী। এজন্য নুরজাহান বেগম জেলা মহিলা দলের সদ্য ঘোষিত কমিটি বাতিল করে তার নেতৃত্বে গঠিত প্রস্তাবিত কমিটির অনুমোদনের জন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে দাবি জানান। একইসাথে তিনি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদককে অব্যাহতি প্রদানের দাবি জানান।

সাংবাদিক সম্মেলনে জেলা মহিলা দলের যুগ্ম সম্পাদক লাবনী আক্তার, সদস্য নাছিমা খাতুনসহ মহিলা দলের বিভিন্ন ইউনিটের প্রায় অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মীসহ জেলায় কর্মরত গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. হযরত আলী বলেন, জেলা মহিলা দলের নতুন কমিটির অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় কমিটি। এতে তার হস্তক্ষেপের কোন সুযোগ নেই। আর্থিক লেনদেন ও স্বেচ্ছাচারিতাসহ অন্যান্য অভিযোগও অস্বীকার করে বলেন, আপনারাও আমাকে চেনেন, শেরপুরের মানুষও জানে আমি কেমন।

জেলা বিএনপির সভাপতি মাহমুদুল হক রুবেল বলেন, নুরজাহানের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। বিএনপি কারও টাকায় চলে না, বিএনপি চলে দলের নেতা-কর্মীদের টাকায়। তিনি তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগকে অস্বীকার করেন।

Need Ads