প্রাচীনকাল থেকেই পৃথিবীর যেখানেই সভ্যতা গড়ে উঠেছে, সেখানেই গড়ে উঠেছে গ্রন্থাগার। আবার অন্যভাবে বলা যায়, যেখানেই গ্রন্থাগার গড়ে উঠেছে, সেখানেই সভ্যতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। যখন থেকে শব্দের লিখিত চিহ্ন ব্যবহার হয়ে আসছে তখন থেকেই গ্রন্থাগার গড়ে তোলার ধারণা মানুষের মনে গড়ে উঠে। সৃষ্ট জ্ঞান শুধু ব্যক্তিতে সীমাবদ্ধ না থেকে সময়কে ছাড়িয়ে শতাব্দীর পর শতাব্দী উপযোগ সৃষ্টি করেছে। নতুন জ্ঞান সৃষ্টি করে মানুষকে সভ্যতার চরম শিখরে পৌঁছে দিচ্ছে। প্রাচীন পৃথিবীর ইতিহাস, সভ্যতা ও সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার দিকে দৃষ্টি দিলেই যে কথাটি স্পষ্টত প্রতিভাত হয় তা হলো, সভ্যতা প্রতিষ্ঠায় গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা করা হয় আবার কোনো সভ্যতা বা জাতিকে সমূলে ধ্বংস করতে ধ্বংস করা হয় সেখানকার গ্রন্থাগারকে, বিদ্যালয়কে।

১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বাঙালির ওপর বর্বর-নির্মম আক্রমণ চালায়। এ আক্রমণ শুধু রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক আক্রমণই ছিল না। তারা পুরো জাতিকে বুদ্ধিবৃত্তিক বিকলাঙ্গ করার পাঁয়তারা চালিয়েছিল। শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে সভ্যতাকে পঙ্গু করার চক্রান্ত হয়েছিল। বাঙালিদের লেখাপড়া শেখার দরকার নেই- এটি ছিল ইয়াহিয়া-টিক্কা চক্রের নরপশু বাহিনীর সেøাগান। তারা বাঙালিদের এমন অবস্থা করতে চেয়েছিল যাতে ভবিষ্যতে বাঙালি প্যারিটি অর্থাৎ আর্থিক-রাজনৈতিক সমতার কথা আর বলবে না বরং চ্যারিটি চাইবে। তাদের কাছে দুহাত পেতে দুমুঠো খাবার ভিক্ষা চাইবে। বাংলাদেশে ইয়াহিয়া-টিক্কা চক্রের ব্যাপক গণহত্যা ও ধ্বংসের তাণ্ডবলীলা পরিচালনার সুপরিকল্পিত চক্রান্ত, ব্যাপক গণহত্যা ও ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম চালাবার পাশাপাশি বাংলাদেশের মানুষকে শিক্ষা ও সংস্কৃতির দিক দিয়ে সম্পূর্ণ পঙ্গু করার ষড়যন্ত্র করেছিল। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বাংলাদেশে ২৫ মার্চ থেকে ন’মাস তাণ্ডবলীলা চালাবার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের সর্বত্র বিভিন্ন গ্রন্থাগারের বই নিয়ে বহ্নি-উৎসব শুরু করেছিল। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় হানাদার বাহিনীর হিংস্র অভিযান শুরু হওয়ার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্জেন্ট জহুরুল হক হল ও জগন্নাথ হল গ্রন্থাগারের বইপত্র সম্পূর্ণ জ¦ালিয়ে দেয়া হয় বা নষ্ট করে ফেলা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য কয়েকটি হলের গ্রন্থাগারও কম-বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া সব হলের বিভিন্ন কামরায় ছাত্রছাত্রীদের অসংখ্য বই হানাদার পশুরা বিনষ্ট করে। হানাদার বর্বর পাকিস্তানি পশুরা বাংলাদেশের প্রধান শিক্ষাকেন্দ্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও এর আবাসিক হলগুলো ধ্বংস করার সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টা চালিয়েছিল। জ্ঞানের প্রদীপ এক ফুৎকারে নিভিয়ে দিয়ে বাঙালিদের দাস জাতিতে পরিণত করতে চেয়েছিল।
ঢাকা শহরের বিভিন্ন গ্রন্থালয়ও হানাদার বাহিনী ও তাদের অনুচরের কোপানল থেকে রেহাই পায়নি। ঢাকা ছাড়া বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে বিদ্যালয়, মহাবিদ্যালয় ও দোকানের সব বই হানাদার বাহিনী ইচ্ছাকৃত ও পরিকল্পিতভাবে পুড়িয়ে ফেলে। বইপত্র পুড়িয়ে ফেলার সময় হানাদার নরপশুরা প্রকাশ্যে বলেছিল যে, বাঙালিদের লেখাপড়া শেখার প্রয়োজন নেই। বাংলাদেশের সর্বত্র বিশেষ করে ঢাকা শহরে বিভিন্ন ব্যক্তিগত ও অন্যান্য গ্রন্থাগারের ওপর হিংস্র হামলা শুরু করার প্রথম দিকে ব্যাপক বিনষ্ট অভিযান চালানো হয়েছিল যে বাংলাদেশের বহু প্রাচীন গ্রন্থাগারই সম্পূর্ণ শূন্য হয়ে পড়েছিল। ২৫ মার্চের পর থেকে ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে শত শত দুষ্প্রাপ্য পাণ্ডুলিপিসহ সাহিত্য, বিজ্ঞান, চিকিৎসা ইত্যাদি সংক্রান্ত মূল্যবান গ্রন্থ ওজনে বিক্রি হয়েছে। মার্চ মাসের পর ঢাকা শহরে ওজন করে বিক্রীত বইয়ের মধ্যে একটি বই পাওয়া গিয়েছিল, যে বইটির লেখক হানাদার বাহিনীর হাতে নিহত স্বর্গীয় ডক্টর গোবিন্দ চন্দ্র দেবের। ডক্টর দেব তার লেখা বইটি সাবেক পূর্ব পকিস্তানের এককালীন গভর্নর গোলাম ফারুককে উপহার দিয়েছিলেন। এবং জনাব ফারুক বইটি বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারে উপহার দিয়েছিলেন। এ ধরনের বহু স্মরণীয় দুষ্প্রাপ্য বই হানাদার বাহিনী নিজের হাতে বিনষ্ট করেছে এবং বিনষ্ট কাজে উৎসাহিত করেছে তার কোনো ইয়াত্তা নেই। হানাদার বাহিনী বহু ক্ষেত্রে বন্দুকের মুখে সাধারণ মানুষকে গ্রন্থাগারের বইপত্র লুট করে নিয়ে যেতে বাধ্য করেছে।

মানব ইতিহাসের সবচেয়ে বর্বরতম গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞের নায়ক ইয়াহিয়া তার দালাল অনুচররা বাঙালি জাতির স্বকীয়তা ধূলিসাৎ করে, পর সংস্কৃতি নির্ভর একটি মেরুদণ্ডহীন জাতিতে পরিণত করার উদ্দেশ্যে পাকিস্তানি শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করার ব্যবস্থা সম্পন্ন করেছিল। তারা বাংলাদেশের সর্বত্র গ্রন্থাগারগুলো বিনষ্ট করার যে অভিযান করেছিল, তার পরিণতি ও বাস্তব রূপ দেয়ার জন্য শিক্ষা ব্যবস্থার খোল-নলচে ব্যাপকভাবে পরিবর্তনের উদ্যোগ নেয়। এ ব্যাপারে হানাদার দখলদার বাহিনীর প্রতিভূ সরকারের ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সর্বস্তরের তথাকথিত পাকিস্তানি শিক্ষা ব্যবস্থার নামে বাঙালি জাতির স্বার্থের পরিপন্থি বিষয় সংবলিত পাঠ্যপুস্তক রচনা করেছিল। হানাদার বর্বর সরকার তার প্রচার মাধ্যমগুলোর মাধ্যমে বাঙালিত্ব বিরোধী যে ব্যাপক অপপ্রচার চালিয়েছিল, সেই অপপ্রচারের মূল কথাই শিক্ষা ক্ষেত্রে প্রতিফলনের চেষ্টা করা হয়েছিল। গতিমান বিশ্বের প্রগতিশীল শিক্ষা ব্যবস্থার যে সামান্য অংশ আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে বিরাজ করছিল, তা উঠিয়ে দিয়ে, জামায়াতে ইসলামের অনুপ্রেরণায় প্রতিক্রিয়াশীল শিক্ষা প্রবর্তনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এমনকি বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃত মর্যাদা থেকে অপসারিত করে কেবলমাত্র উর্দুকে রাষ্ট্র ও প্রশাসনিক ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার উদ্যোগ জোরদার হতে দেখা গিয়েছিল। জাতিকে শিক্ষা-সংস্কৃতিতে সমূলে ধ্বংস করতে হানাদার বাহিনী তাদের দোসর আল-বদরদের দিয়ে পাইকারিভাবে বুদ্ধিজীবী ও শিক্ষাবিদ হত্যার অভিযান চালায় এবং পরাজয় অবশ্যম্ভাবী দেখে শেষ কয়দিন যেভাবে বুদ্ধিজীবীদের নৃশংসভাবে হত্যা করে, তার নজির হালাকু খাঁর ইতিহাসেও নেই। হানাদার বাহিনী সারাদেশে ৭১৯টি জুনিয়র স্কুল, ১৯৪টি বেসরকারি মাধ্যমিক স্কুল, ৩৭টি সরকারি মাধ্যমিক স্কুল, ১৪৮টি বেসরকারি কলেজ, ৮টি শিক্ষা-বিষয়ক সরকারি অফিস, ৭টি পিটি ইনস্টিটিউট, ২৬টি সরকারি কলেজ, ২১টি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, ১৬টি কমার্শিয়াল ইনস্টিটিউট ও ৩৫টি বৃত্তিমুখী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দিয়েছিল।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কাল রাত্রিতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণার পর বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে পাক হানাদার বাহিনী গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তারের পর বিভিন্ন সময় ধানমন্ডি ৩২ নাম্বারের সেই বাড়িটিতে চালানো হয় লুটপাট। বইয়ের প্রতি, লাইব্রেরির প্রতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অগাধ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা ছিল সুউচ্চ। রাজনীতির সঙ্গে সাহিত্যের প্রেম না হলে জনসাধারণের ভালোবাসার উপলব্ধি হয় না। সাহিত্যের প্রতি অপার অনুরাগ থেকেই কবি জসিমউদ্দীনের সঙ্গে ছিল ভীষণ সখ্য, কাজী নজরুল ইসলামকে জাতীয় কবির মর্যাদা দিয়ে সম্মান প্রদর্শন করে ঢাকায় ফিরিয়ে আনেন। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মর্যাদা সমুন্নত করে কড়া জবাব দিয়েছেন উগ্র-সাম্প্রদায়িকতাকে। আমার সোনার বাংলাকে করেছেন জাতীয় সংগীত। শুধু সাহিত্যই নয়, দেশি-বিদেশি সব আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক বইয়ের একজন একনিষ্ঠ পাঠক ছিলেন জাতির পিতা। জীবনের বৃহৎ অংশ কাটিয়েছেন জেলে। জেল জীবনের মুহূর্তগুলো কাটিয়েছেন বই পড়ে। ‘শেখ মুজিব আমার পিতা’ গ্রন্থে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা লিখেছেন, ‘১৯৪৯ থেকে আব্বা যতবার জেলে গেছেন কয়েকখানা নির্দিষ্ট বই ছিল যা সবসময় আব্বার সঙ্গে থাকত। জেলখানার বই বেশিরভাগই জেল লাইব্রেরিতে দান করে দিতেন, কিন্তু আমার মা’র অনুরোধে এই বই কয়টা আব্বা কখনো দিতেন না। সঙ্গে নিয়ে আসতেন। তার মধ্যে রবীন্দ্র-রচনাবলি, শরৎচন্দ্র, নজরুলের রচনা, বার্নার্ড শ’র কয়েকটা বইতে সেন্সর করার সিল দেয়া ছিল।’ মুক্তাবস্থায় বাসায় থাকাকালীন ব্যক্তিগত লাইব্রেরিতে বই পড়তেন। ব্যক্তিগত লাইব্রেরিতে পাঠরত অবস্থায় বঙ্গবন্ধুর যে ছবি আমাদের নয়ন জুড়ায়, সেখানে দেখা যায় তিনি বিখ্যাত মনীষী আলবেরুনীর ‘ভারততত্ত্ব’ বইখানা পাঠ করছেন। বই পড়ে শোনাতেন প্রিয় জীবনসঙ্গী বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিবকে। বইয়ের প্রতি কতটা ভালোবাসা, আর কতটা ভালো পাঠক হলে বার্ট্রান্ড রাসেলের বই পড়ে নিজের ছেলের নাম রাখেন শেখ রাসেল!
২৫ মার্চের পর বঙ্গবন্ধুর বাড়ি লুটপাটের সময় তিলে তিলে গড়ে তোলা বঙ্গবন্ধুর পরমপ্রিয় ব্যক্তিগত লাইব্রেরিটিকে ধ্বংস করা হয়। লাইব্রেরির অনেক বই ফুটপাতে বিক্রি করে দেয়া হয়। বঙ্গবন্ধুর গ্রন্থাগারের বইও জনৈক ফুটপাতে বই বিক্রেতা কিনে রেখে দিয়েছিলেন। বুকের ভেতর তীব্র আকাক্সক্ষা লালন করে, যে একদিন হয়তো বঙ্গবন্ধু ফিরে আসবেন। যদি বঙ্গবন্ধু ফিরে আসেন, তবে এই বইগুলো ফেরত দেবেন। ১০ জানুয়ারি, ১৯৭২ সালে সত্যি সত্যি বীরের বেশে স্বদেশে ফিরে আসলেন বঙ্গবন্ধু। ফুটপাতে বই বিক্রেতা হারুন অর রশিদ সংগৃহীত বইগুলো নিয়ে ধানমন্ডি ৩২-এ দেখা করলেন বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে। হারানো বই ফিরে পেয়ে বঙ্গবন্ধু আবেগে আপ্লুত হয়ে চোখের জল ছেড়ে দিয়ে জড়িয়ে ধরেন হারুনকে।
বর্তমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারটি ছিল বাংলাদেশে সরকারিভাবে প্রতিষ্ঠিত প্রথম কোনো গণগ্রন্থাগার। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট সরকার গঠন করলে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৫ ফেব্রুয়ারি এই গ্রন্থাগারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পরবর্তীতে তৎকালীন সরকারের শিক্ষা বিভাগের ১০ মে ১৯৫৫ খ্রি:-এর ১৪৯১-সংখ্যক শিক্ষা আদেশ বলে ‘সোশাল আপলিফট’ নামক প্রকল্পের অধীনে কেন্দ্রীয় গণগ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠার আনুষ্ঠানিক মঞ্জুরি প্রদান করা হয়। ১৯৫৮ সালের ২২ মার্চ ১০,০৪০টি পুস্তকের সংগ্রহ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে কেন্দ্রীয় গণগ্রন্থাগারের যাত্রা শুরু হয়। জাতির পিতা ও বঙ্গবন্ধুকন্যা বিদ্যানন্দিনী শেখ হাসিনাও বঙ্গবন্ধুর মতো একই মতাদর্শ ও অনুপ্রেরণায় উদ্বুদ্ধ। বই পড়া ও লাইব্রেরির প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা ও স্নেহ প্রদর্শন করে বঙ্গবন্ধু কর্তৃক গণগন্থাগারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের দিনটিকে ‘জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেন। এই দিনে রাজনীতির কবি, একজন পাঠক, একজন দার্শনিক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে মানুষ শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে।
লেখক : সহকারী গ্রন্থাগারিক, ঢা.বি গ্রন্থাগার। ইমেইল : rashed_library@office.du.ac.bd




