নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় সমাজ কল্যাণ উন্নয়ন সমিতির বিরোধকে কেন্দ্র করে চিথোলিয়া গ্রামের চিরাং ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুকের বাড়িসহ সমিতির আরো কয়েকজন নিরীহ সদস্যের বাড়ি-ঘরে সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসীর পরিকল্পিভাবে অতর্কিত হামলা করে ব্যাপক ভাংচুর লুটপাট এবং দুই নারীসহ ১০ জন আহত করার ঘটনায় কেন্দুয়া থানায় দ্রুত বিচার আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় ৫৫ জনের নাম উল্লেখ করে আরো অজ্ঞাত ২০সহ মোট ৭৫ জনকে আসামী করা হয়েছে। ওই ঘটনায় তাৎক্ষণিক ৭জনকে পুলিশ গ্রেফতার করে। ওই এলাকায় এখন থমথমে ও তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। আরো বড় ধরনের হামলার আশংকায় ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

মামলার বাদি চিরাং ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক (৬০) জানান, নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার চিরাং ইউনিয়নের চিথোলিয়া গ্রামে ১৯৭৮ ইং সনে মৌজে চিথোলিয়া সমাজকল্যাণ উন্নয়ন সমিতি নামক একটি সমিতি গঠিত হয় এবং উক্ত সমিতি ১৯৮১ ইং সনে সরকার কর্তৃক রেজিষ্ট্রীকৃত হয়। যার রেজিঃ নম্বর: ম-২০৫। ১নং বিবাদী আতাউর রহমান, উক্ত সমিতির বর্তমান সদস্য সচিব। সে নিয়ম বহির্ভূতভাবে গঠনতন্ত্র সংশোধন, নির্বাচনী তপসিল ঘোষণা, ২৯ (উনত্রিশ) সদস্য বিশিষ্ট্য তত্ত্বাবধায়ক কমিটি গঠন, ভোটার তালিকা প্রণয়ন করায় সমিতির সংক্ষুব্ধ অন্যান্য সদস্যগন সমিতির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী অন্যায় কার্য্যকলাপের প্রতিবাদ করে। এ নিয়ে কতক বিবাদীর বিরুদ্ধে বিজ্ঞ যুগ্ন জেলা জজ ২য় আদালত, নেত্রকোনা মোকদ্দমা নং ৬৮/২০২১ অন্য প্রকার দায়ের করে।
ওই মোকদ্দমাকে কেন্দ্র করে বিবাদীদের সাথে ক্রমান্বয়ে বিরোধ ও শত্রুতা চরম আকার ধারণ করে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সমিতির একটি বৃহৎ অংশের সদস্যদের বাদ দিয়ে বিবাদীগণ তাদের স্বার্থকে চরিতার্থ্য করার সমিতির টাকা-পয়সা আত্মসাৎ করার হীন মানসে ১৩ই নভেম্বর রাতে ঘরোয়াভাবে গোপন বৈঠকে বসে খুন, জখম সহ তাদের বিরোধীতাকারীদের বাড়ি ছাড়া করার সিদ্ধান্তে উপনীত হয়। এরই জের হিসাবে সকল বিবাদীগণ ১৪ নভেম্বর সকালে আনুমানিক ৭৫জন সন্ত্রাসী পূর্বপরিকল্পিতভাবে ধারালো রামদা, চাইনিজ কুড়াল, বল্লম, কাতরা, লোহার রড, হকিস্টিক, লাঠি, ইটের আধলা ইত্যাদি দেশীয় মারাত্মক অস্ত্রেসস্ত্রে সু-সজ্জিত হয়ে হাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে অস্ত্রের মহড়া প্রদর্শন করে। তারা জনমতে আতংকের সৃষ্টি করে চিরাং ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক সহ সমিতির বেশ কয়েকজন সদস্যদের বাড়ি-ঘরে হামলা, ভাংচুর করে মোট ১৬ লাখ ৬১ হাজার টাকার লুটতরাজ করে।

এসময় সন্ত্রাসীরা এলোপাতাড়ী কুপিয়ে ও ঢিলিয়ে নিরীহ মানুষের চৌচালা টিনের বসতঘর, বৈঠকঘর এবং দুচালা টিনের রান্নাঘর ভাংচুর করে এবং দুইজন নারীসহ দশজনকে আহত করে। এর মধ্যে দুইজনকে গুরুতর অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
এর প্রেক্ষিতে ওমর ফারুক, সাধারণ সম্পাদক ৬নং ওয়ার্ড, চিরাং ইউনিয়ন আওয়ামিলীগ বাদী হয়ে দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালে ১৫ই নভেম্বরে মামলা দায়ের করা হয়।
নেত্রকোনা-৩ আসনের এমপি অসীম কুমার উকিল ওই ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের খোঁজ নিচ্ছেন । প্রকৃত দোষী ব্যক্তিদের রিমান্ডে নিয়ে মূল ইন্ধনদাতার নাম বের করার জন্য দাবি জানিয়েছেন ভূক্তভোগীরা।
এ ঘটনায় কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী শাহ নেওয়াজ জানান, চিথোলিয়া সমাজকল্যাণ উন্নয়ন সমিতির বিরোধকে কেন্দ্র করে দুটি গ্রুপের মাঝে সংঘর্ষে ১০/১২ জন আহত হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ এ ঘটনায় চিথোলিয়া গ্রামের হাদিউর রাহমন (৫৫), চানফর (৩৫), আলমগীর (২৫), আব্দুল ওয়াহাব (৫০), নুরুজ্জামান (২৮), আব্দুল লতিফ (৪৮), শান্তু মিয়া (৬৫)সহ ৭জনকে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ গ্রেফতার করেছেন। তিনি আরো জানান, মামলা দ্রুত বিচার আইনে মামলা গ্রহন করা হয়েছে। ইন্সপেক্টর তদন্ত মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামকে মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।




