‘আমি মানুষের পাশে থাকতে চাই, মানুষের জন্য কাজ করতে চাই’
এবার ৬৫তম জন্মদিনে দলীয় নেতা-কর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত হয়েছেন শেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের দুদফায় নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক, জেলা-দায়রা জজ আদালতের পিপি ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এ্যাডভোকেট চন্দন কুমার পাল। ৫ নভেম্বর শুক্রবার শুক্রবার ছিল তার ৬৫তম জন্মদিন।

বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী, অত্যন্ত সাহসী সংগঠক ও সুবক্তা চন্দন কুমার পাল ১৯৫৬ সালের এই দিনে আদর্শ শিক্ষক পিতা দ্বিজেন্দ্র কুমার পাল ও মাতা নমিতা রাণী পালের সংসারে জন্মগ্রহণ করেন। স্বাধীনতাউত্তর সময়কালে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে হাতেখড়ি হলেও সাহসিকতা ও মেধার কারণে অল্প সময়েই তার উপর দায়িত্ব বর্তায় ছাত্র সংগঠনের। প্রথমে শেরপুর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং পরবর্তীতে ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। পচাত্তরের পটপরিবর্তনের পর কঠিন সময়ে আন্দোলন করতে গিয়ে তিনি নির্যাতন ও হয়রানীর শিকার হন এবং দীর্ঘদিন কারাভোগ করেন। পরবর্তীতে তিনি জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৩ সালে শেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে তিনি প্রথম দফায় সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরবর্তী সম্মেলনে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দ্বিতীয় দফায় সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং এখন পর্যন্ত দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছর যাবত একই দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
রাজনৈতিক জীবনে নানা চড়াই-উৎরাই ও ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে এগিয়ে এসেও দলকে সংগঠিত করার পাশাপাশি নানা জাতীয় ও স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে কঠিন ভূমিকা পালন করে আসছেন। কিন্তু দীর্ঘ প্রায় ৫০ বছরের রাজনৈতিক জীবনে এখনও তিনি বসতে পারেননি কোন জনপ্রতিনিধির চেয়ারে। ২০১৬ সালে জেলা পরিষদের প্রথম নির্বাচনে তাকে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করেন। কিন্তু সেই নির্বাচনে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় তাকে নির্মম পরিণতি ভোগ করতে হয়।

এদিকে চন্দন কুমার পালের ৬৫তম জন্মদিন উপলক্ষে শুক্রবার রাতে শহরের নিউমার্কেটস্থ নিপুণ কমিউনিটি সেন্টারে জেলা ছাত্রলীগের উদ্যোগে এক জঁমকালো কেক কাটা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হুইপ বীর মুক্তিযোদ্ধা আতিউর রহমান আতিক এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পৌর মেয়র গোলাম মোহাম্মদ কিবরিয়া লিটন, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আলহাজ্ব ফখরুল মজিদ খোকন, এ্যাডভোকেট একেএম মোছাদ্দেক ফেরদৌসী, জেলা বিএমএ সভাপতি ডা. এমএ বারেক তোতা, দপ্তর সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন, উপ-দপ্তর সম্পাদক বিনয় কুমার সাহা, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শোয়েব হাসান শাকিল, সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রেজা, হুইপ কন্যা সাদিয়া রহমান অপি প্রমুখ।
এছাড়া একইদিন সন্ধ্যায় শহরের কালিরবাজারস্থ চন্দন কুমার পালের ল’ চেম্বারে তার আইনজীবী সহকর্মী, মহিলা আওয়ামী লীগ ও এলাকাবাসীর অংশগ্রহণে প্রথম কেক কাটা অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলা আইনজীবী সমিতির সহ-সভাপতি এ্যাডভোকেট হরিদাস সাহা, জেলা আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক কোহিনুর বেগম বিদ্যুৎ, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নাসরিন বেগম ফাতেমা, সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সাবিহা জামান শাপলা, মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী আঞ্জুমান আরা লিপি, নিলুফা পান্না মিনা, জেলা বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সদস্য সচিব এ্যাডভোকেট মমতাজ উদ্দিন মুন্নাসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এ ব্যাপারে এ্যাডভোকেট চন্দন কুমার পাল বলেন, ‘আমি ছাত্র রাজনীতি করার সময় জেলার সবচেয়ে আকাঙ্খিত দুটি পদে নির্বাচিত হয়ে নেতৃত্ব দিয়েছি। ১৮ বছর যাবত জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করছি। জেলা আইনজীবী সমিতির দুইবারের সভাপতি ছিলাম। পেশাগত জীবনে জেলার সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা মনোনীত হয়েছি। আমার জীবনে প্রাপ্তি অনেক বেশী। তবে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা প্রথম জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আমাকে মনোনয়ন দেন। কিন্তু দলের একটি অংশের বিরোধিতার কারণে ফলাফল আসেনি। তারপরও আমি আগামী দিনে মানুষের পাশে থাকতে চাই, মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।




