আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, কৃষি মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি, শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ী) আসনের সংসদ সদস্য, সাবেক কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেছেন, ওয়ান ইলেভেন তো সবার জন্যই এসেছিল। শেখ হাসিনাও জেলে গিয়েছিলেন। কই তার ছেলেমেয়েদেরকে তো বিদেশে পালাতে হয়নি। শেখ হাসিনার ভাগনি ব্রিটিশ পার্লামেন্টের এমপি আর সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছেলে চুরি ও দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত আসামী। শেখ হাসিনা জানেন, বিদ্যা বড় ধন। তাই তিনি শিক্ষাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছেন। দেশের মানুষ যেন উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হতে পারেন সেজন্য তিনি বড়বড় জেলায় মেডিকেল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছেন। উচ্চ শিক্ষার গুরুত্ব বুঝেন বলেই তিনি জীবনে অনেক কষ্ট করেছেন কিন্তু তার সন্তানদের উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করেছেন। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া তা করতে পারেননি বলে তার সন্তানের এ দুরবস্থা।

তিনি ১১ অক্টোবর সোমবার বিকেলে শেরপুরের নকলা মুজিব শতবর্ষ মঞ্চে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এক সভাায় উপজেলার সকল মাধ্যমিক স্কুল ও দাখিল মাদরাসার মেধাক্রমানুসারে প্রথম ১০ জন এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষার্থীদের মধ্যে আর্থিক প্রণোদনা এবং উপজেলার সকল মসজিদ, গোরস্থান, মন্দির, শ্মশান ও গীর্জার উন্নয়ন ও সংস্কারে আর্থিক অনুদানের চেক বিতরণকালে ওইসব কথা বলেন।
মতিয়া চৌধুরী বলেন, অনেকে শেরপুরে রেললাইন নিয়ে পিতলা আউশ মিটাতে চাচ্ছেন। যেখানে ঢাকা থেকে নকলা আসতে ৩ থেকে সাড়ে ৩ ঘন্টা সময় লাগে সেখানে রেললাইনের দরকার কি? নকলা ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। এখান দিয়ে রেল লাইন গেলে হাজার হাজার একর ধানী জমি নষ্ট হবে, অনেক মানুষ ভিটেমাটি ছাড়া হবে। আমি নকলা-নালিতাবাড়ীর এমপি। সুতরাং মায়ের চেয়ে মাসির দরদ বেশি হতে পারে না। আমি মানুষের দুরবস্থা দেখতে চাই না। কারো পিতলা আউশ মিটানোর জন্য আমরা জনগণের পয়সা নষ্ট করতে পারি না।

ওইসময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান, উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আম্বিয়া খাতুন, সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিকুল ইসলাম জিন্নাহ, পৌর মেয়র হাফিজুর রহমান লিটন, থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ইসকান্দার হাবিব প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে ৪৯টি মাধ্যমিক স্কুল ও দাখিল মাদরাসার ৪৯০ জন এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাথাপিছু ১ হাজার টাকা করে আর্থিক প্রণোদনা এবং ৪৯২টি মসজিদ, ৮২টি গোরস্থান, ৩৭টি মন্দির ও শ্মশান, ১টি গীর্জার উন্নয়ন ও সংস্কারে প্রতিটিতে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়।
রাতে মতিয়া চৌধুরীর স্থানীয় কালিমাতার মন্দিরে পূজামন্ডপ পরিদর্শন ও পূজারিদের সাথে শারদীয় শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।




