ads

সোমবার , ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ২৭ অক্টোবর ২০২৬
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

শেরপুরে ৫০ কোটি টাকার পাওনা আদায়, জড়িতদের গ্রেফতার ও বিচার দাবিতে মানববন্ধন

স্টাফ রিপোর্টার - ফটো কার্ড
সেপ্টেম্বর ২০, ২০২১ ৫:২২ অপরাহ্ণ

ঋণের দায়ে বাবর এন্ড কোম্পানীর ১০ শিল্প প্রতিষ্ঠান বন্ধ

শেরপুরে ব্যাংকসহ স্থানীয় ৩ শতাধিক পাওনাদারের ঋণের দায়ে প্রায় দেড় বছর যাবত বন্ধ হয়ে পড়েছে বাবর এন্ড কোম্পানী প্রাইভেট লিমিটেডের ১০টি শিল্প প্রতিষ্ঠান। এতে ওইসব প্রতিষ্ঠানে বন্ধ হয়ে কোটি কোটি টাকার লোকসান হচ্ছে। অন্যদিকে প্রায় ৫০ কোটি টাকা আত্মসাত করে আত্মগোপনে থাকার অভিযোগ তুলে ওই প্রতিষ্ঠানের বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক কামরুজ্জামান সুজনসহ অন্যান্যদের গ্রেফতার, বিচার ও পাওনা টাকা ফেরতের দাবিতে মানববন্ধন করেছে স্থানীয় পাওনাদাররা। ২০ সেপ্টেম্বর সোমবার দুপুরে সকল পাওনাদারদের আয়োজনে জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্ত্বরে ঘন্টাব্যাপী ওই মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা এ্যাডভোকেট মুহাম্মদ আখতারুজ্জামান, কবি-সাংবাদিক তালাত মাহমুদ, শিক্ষাবিদ মোঃ হেদায়েতউল্লাহ, বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী ইমাম, কমল পাঠান, হাবিবা ইয়াছমিন নাজমা, শিরিনা আখতার, আকাশী বেগম প্রমুখ। ওইসময় প্রায় দুই শতাধিক পাওনাদার অংশ নেন। পরে তারা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে স্মারকলিপি পেশ করে দ্রুত বাবর এন্ড কোং এর সম্পত্তি বিক্রি করে তাদের পাওনা পরিশোধের দাবি জানান। পাওনাদারদের মধ্যে সাংবাদিক, রাজনীতিক, আইনজীবী, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী, সেনা সদস্য, প্রবাসী ব্যক্তি, শিক্ষক, ধান ব্যবসায়ী, গৃহিণী, কৃষক ও পরিবহন শ্রমিক রয়েছেন।

Shamol Bangla Ads

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বাবর এন্ড কোং (প্রাঃ) লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম আবুল হাসেম অগ্রিম ইট বিক্রি করে এবং ধান ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে বাকিতে ধান কিনে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। তার মোট ৩৬ একর জমির উপর স্থাপিত প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যে দুইটি অটো ব্রিকফিল্ড, তিনটি ফিলিং স্টেশন, একটি অটো রাইস মিল, পোল্ট্রিফার্মসহ আরো একাধিক প্রতিষ্ঠান এবং জেলা হাসপাতাল রোডের কাছে প্রায় দেড় একর মূল্যবান জমির উপর একটি তিনতলা বাড়ি রয়েছে। ২০১৮ সালের আগস্ট মাসে আবুল হাসেমের মৃত্যুর পর তার জ্যেষ্ঠ পুত্র কামরুজ্জামান সুজন তার পিতার রেখে যাওয়া সমস্ত ঋণ পরিশোধ করবেন এবং ব্যবসা নিয়মিত পরিচালনা করে যাবেন বলে অঙ্গীকার করেন। এতে আশান্বিত হয়ে অনেকে পুনরায় অগ্রিম ইট ক্রয় ও বাকিতে ধান বিক্রয় শুরু করেন। তাদের অভিযোগ, কামরুজ্জামান সুজন, তার মা পরিচালক কামরুন্নাহার, ছোটভাই পরিচালক কামরুল হাসান শাহীন পরস্পর যোগসাজসে অগ্রিম ইট বিক্রির ৪৫ কোটি টাকা ও চাল বিক্রির ৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে নিজেদের কাছে রাখেন। ইটভাটা চালু না করায় পাওনাদাররা টাকা চাইতে এলে নানা অজুহাতে কালক্ষেপণ করতে থাকেন।
এক পর্যায়ে ২০২০ সালের ৫ ডিসেম্বর রাতের অন্ধকারে তারা ঢাকায় পালিয়ে যায়। ঢাকায় যাবার কিছুদিন পর সুজনের মোবাইলে (০১৭১১৮০০০০৩) এবং কামরুন্নাহারের মোবাইলে যোগাযোগ করলে তারা বলতেন, সম্পত্তি বিক্রি করে পাওনাদারদের টাকা বুঝিয়ে দিতেই ঢাকায় গিয়েছেন। পরবর্তীতে তারা তাদের নম্বর পরিবর্তন করে ফেলেন এবং পাওনাদারদের সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন।

এদিকে পাওনা টাকা না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েছেন ৩ শতাধিক পাওনাদার। তাদের অনেকেই জমি-জমা বিক্রি করে, কেউবা তাদের পেনশনের টাকা বাবর এন্ড কোং এ রেখেছিলেন। পাওনা টাকা না পাওয়ায় আর্থিক অনটনে অনেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। টাকার জন্য অনেকের পরিবারে দাম্পত্য কলহও চলছে। তবে অনেক পাওনাদারই তাদের টাকা না পেয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। এসব মামলায় কামরুজ্জামান সুজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও রয়েছে।
অন্যদিকে পাওনার বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কামরুজ্জামান সুজনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে তার শ্বশুর শিক্ষক-ক্রীড়াবিদ মো. আব্দুল হামিদ জানান, বাবর এন্ড কোং এর ব্যাংক এবং স্থানীয় পাওনাদার মিলিয়ে প্রায় ৫৫ কোটি টাকা ঋণ রয়েছে। অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানের সব মিলিয়ে ৩৬ একর জমির উপর প্রায় ২শ কোটি টাকা মূল্যের সম্পত্তি রয়েছে। কিন্তু স্থানীয় একটি মহলের কারসাজির কারণে তা ন্যায্যমূল্যে বিক্রি হচ্ছে না। বরং প্রায় ৬ মাস আগে শহরের নারায়ণপুরস্থ প্রায় ২৫ কোটি টাকা মূল্যের দেড় একর জায়গায় থাকা ত্রিতল ভবনের একটি বাড়ি গেট-দরজা ভেঙে মালামাল লুট করে তা দখল করে নিয়েছে স্থানীয় একটি চক্র। বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলাসহ প্রশাসনকেও লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে। তার মতে, প্রতিষ্ঠানের মূল কর্ণধারের মৃত্যুর পর পরিবারের সদস্যরা এমন সমস্যায় পড়েছেন। তা সমাধানে ইতোমধ্যে স্থানীয় সংসদ সদস্য হুইপ আতিউর রহমান আতিকের স্মরণাপন্ন হলে তিনি কয়েকজন নেতাকে দায়িত্বও দিয়েছিলেন। কিন্তু সম্পত্তি বিক্রি না হওয়ায় পাওনাদারদের মিটানো সম্ভব হচ্ছে না। কাজেই চলমান অবস্থায় তাদের সহায়-সম্পত্তি বিক্রি করতে পারলে সকল পাওনাই পরিশোধ করা সম্ভব। এজন্য তিনি প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি পরিবারটিকে রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসনসহ দায়িত্বশীল মহলের সহযোগিতা কামনা করেন।
এ ব্যাপারে শেরপুরের জেলা প্রশাসক মো. মোমিনুর রশীদ জানান, পাওনা টাকার বিষয় নিয়ে অনেকেই আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। আমরা আদালতের নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছি।

Need Ads

সর্বশেষ - খেলাধুলা

Shamol Bangla Ads