শেরপুরের শ্রীবরদীতে ধর্ষণের শিকার এক কিশোরী ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে। ১২ সেপ্টেম্বর রবিবার সকালে জেলা সদর হাসপাতালে ধর্ষণের শিকার ওই কিশোরীর ডাক্তারি পরীক্ষা এবং বিকেলে আদালতে তার জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে। অন্যদিকে ওই ঘটনায় থানায় মামলা হলেও এখনও গ্রেফতার হয়নি ধর্ষক আব্দুল হাকিম ভুষি (৫০)। ভুষি উপজেলার সদর ইউনিয়নের পুরান শ্রীবরদী এলাকার মৃত সাধু মিয়ার ছেলে ও ৩ সন্তানের জনক।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শ্রীবরদী উপজেলার পুরান শ্রীবরদী এলাকার আব্দুল হাকিম ভুষি স্ত্রী ও কন্যা রাজধানী ঢাকায় চলে যাওয়ার কারণে সে একাই বাড়িতে অবস্থান করছিল। ওই অবস্থায় প্রায় ৫ মাস আগে ভুষি স্থানীয় প্রতিবেশি হতদরিদ্র পরিবারের কিশোরী ও পার্শ্ববর্তী নয়ানি শ্রীবরদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীকে ফুঁসলিয়ে নিজ ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে। বিষয়টি জানাজানি হয়ে পড়লে সম্প্রতি শ্রীবরদী সদর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হালিম ও স্থানীয় ইউপি সদস্যসহ কয়েকজনের মধ্যস্থতায় এলাকায় একাধিক দফায় শালিস বৈঠক হয়। শালিসে ভুষির দ্বারা ওই কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ার বিষয়টি উঠে আসলে অবস্থা বেগতিক দেখে ভুষি ওই কিশোরীর পরিবারের সাথে আপোস-রফার চেষ্টা করে এবং এক পর্যায়ে ওই কিশোরীকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। কিন্তু কিশোরীর পরিবার ওই প্রস্তাবে রাজি হয়নি। বরং পরে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে কিশোরীর শারীরিক পরীক্ষা করা হলে ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বার রিপোর্ট আসে। আর ওই ঘটনায় কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে ধর্ষণ, ধর্ষণে সহায়তা ও ঘটনা ধামাচাপার চেষ্টায় জড়িত থাকার অভিযোগে আব্দুল হাকিম ভুষিসহ ৩ জনকে স্বনামে ও অজ্ঞাতনামা আরও ৪ জনকে আসামি করে শনিবার রাতে শ্রীবরদী থানায় একটি মামলা দায়ের করে।
এদিকে ওই ঘটনায় ধর্ষক আব্দুল হাকিম ভুষিসহ জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানিয়েছেন ধর্ষিতা কিশোরীর পিতা।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শ্রীবরদী থানার এসআই মো. নূর উদ্দিন বলেন, ওই ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের আওতায় রবিবার জেলা সদর হাসপাতালে ভিকটিমের ডাক্তারি পরীক্ষা এবং আদালতে তার জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে। পরবর্তীতে বয়স নির্ধারণের জন্যও পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে শ্রীবরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিপ্লব কুমার বিশ্বাস বলেন, খবর পাওয়া মাত্রই আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়েছে। ধর্ষিতার বাবার অভিযোগের প্রেক্ষিতে নিয়মিত মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই ধর্ষক পলাতক রয়েছে। তাকেসহ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।




