শেরপুরের বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ, ওয়াজিনে কেরাম হাফেজ মাওলানা মোঃ নুরুল ইসলাম মাহমুদী (৫৫) আর নেই। তিনি ৫ সেপ্টেম্বর রবিবার দুপুর ১ টায় শহরের দমদমা মহল্লাস্থ নিজ বাসায় ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহে…..রাজিউন)। মৃত্যুকালে তিনি এক সন্তানসহ বহু আতœীয়-স্বজন ও গুনগ্রাহী রেখে গেছেন। তিনি দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর যাবত প্যারালাইসিসসহ নানা জটিল রোগে ভোগছিলেন। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আজ রাত ৯ টায় এলাকায় নামাজে জানাযা শেষে মরহুমের লাশ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।
জানা যায়, ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার মুন্সীরহাট এলাকার মৃত আলী হোসেনের সন্তান মোঃ নুরুল ইসলাম মাহমুদী শিক্ষা জীবন শেষ করে ১৯৮৪ সালে শেরপুরে আসেন। এরপর প্রথমে সদর উপজেলার চরশেরপুর ইউনিয়নের টাঙ্গারপাড়া হাফেজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। এছাড়া শহরের লাহিড়ি কাচারি জামে মসজিদে ইমামতি করতে থাকেন। পাশাপাশি তিনি স্থানীয় বিভিন্ন ইসলামী ধর্মসভায় ওয়াজে বক্তা হিসেবে অংশ নেওয়ায় এবং তার জ্ঞানগর্ভ ও সুমধুর কণ্ঠের ওয়াজ শুনে ধর্মপ্রাণ মুসল্লীরা অভিভূত হয়ে পড়লে শেরপুরে বেড়ে যায় তার পরিচিতি। ওই অবস্থায় শেরপুরের বিশিষ্ট শিল্পপতি আলহাজ্ব মোঃ ইদ্রিস মিয়ার উদ্যোগে শহরের শেখহাটি এলাকায় ইদ্রিসিয়া জামিয়া সিদ্দিকিয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হলে তার প্রতিষ্ঠাতা সুপারের দায়িত্ব বর্তায় তার উপর। বেশ কিছুদিন ওই দায়িত্ব পালন অবস্থায় ১৯৮৯ সালে শহরের দমদমা মহল্লাস্থ আলহাজ্ব মোঃ সুরুজ্জামান মাস্টারের মেয়ে দেলোয়ারা জাহান শিউলিকে বিয়ে করে শ্বশুরের দেওয়া একখন্ড জমিতে বসতি স্থাপন করে সেখানেই বসবাস করে আসছিলেন। এক পর্যায়ে ইদ্রিসিয়া মাদ্রাসাটি দাখিল লাইনে অগ্রসর হলে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব ছেড়ে দিয়ে দমদমা হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও স্থানীয় বড় মসজিদের ইমামতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
এদিকে, দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর আগে মস্তিস্কে রক্তক্ষরণজনিত কারণে তিনি প্যারালাইসিসসহ নানা রোগে আক্রান্ত হন। এরপর থেকে তিনি মানবেতন জীবর-যাপন করছিলেন।




