শেরপুরে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের অভিযানে উদ্ধার হয়েছে ৮টি বক ও ১টি ঘুঘুসহ ৯ পাখি। ৫ সেপ্টেম্বর রবিবার ভোরে শহরের দিঘারপাড়-কান্দাপাড়া সীমান্তসংলগ্ন আউড়াবাউড়া বিলে শিকারিদের কবল থেকে ওই পাখিগুলো উদ্ধার করা হয়। পরে পাখিগুলো সেখানেই মুক্ত আকাশে অবমুক্ত করা হয়।

জানা যায়, রবিবার ভোর ৭টার দিকে সদর উপজেলার আউড়াবাউড়া বিলে এক শ্রেণির শিকারিদের হাতে অবৈধভাবে পাখি শিকার হচ্ছে- এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালায় বনবিভাগের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা সুমন সরকার ও বন্যপ্রাণী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল আমিনসহ অন্যান্যরা। ওইসময় কান্দাপাড়া-দিঘারপাড় অংশে কয়েকজন শিকারি খাঁচায় বন্দি পাখিগুলোসহ অন্যান্য সরঞ্জামাদি ফেলে দৌড়ে পালালে তারা পাখিগুলো উদ্ধার করে।
পরে স্থানীয় পৌর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইদ্রিস আলী গেন্দাকুলের উপস্থিতিতে আশেপাশের লোকজনের মাঝে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রচলিত আইনে সকল ধরনের বন্যপ্রাণী, দেশীয় পাখি ও পরিযায়ী পাখি ধরা-মারা, শিকার করা, ভক্ষণ করা, দখলে রাখা দণ্ডনীয় অপরাধ বলে বুঝানো হয় এবং লিফলেট, পোস্টার ও স্টিকার বিতরণ করা হয়। পরে কর্মকর্তারা উদ্ধার হওয়া পাখিগুলো সেখানেই আকাশে উড়িয়ে অবমুক্ত করেন। সেইসাথে জব্দ করা শিকারকার্যে ব্যবহৃত সরঞ্জামাদি পুড়িয়ে ধ্বংস করেন।

এ ব্যাপারে শেরপুরের বন্যপ্রাণী রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল আমিন জানান, জনসচেতনতার অভাবে নির্বিচারে বন্যপ্রাণী হত্যা ও শিকারের কারণে আমাদের দেশ থেকে বন্যপ্রাণী দিন দিন উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাচ্ছে। ফলে আমাদের জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক পরিবেশ প্রতিনিয়ত হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে। এজন্য আমাদের অস্তিত্বকে টিকিয়ে রাখতে বন, বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতিকে সংরক্ষণের কোন বিকল্প নেই।




