শেরপুরের শ্রীবরদীতে প্রতিবন্ধী যুবতী ধর্ষণ মামলার আসামি মো. হারিছ মিয়া (৪৮) ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছে। সে ১৫ আগস্ট রবিবার রাতে ওই হাসপাতালে ভর্তি থাকা অবস্থায় মারা যায়। পরে কোতোয়ালী থানার মাধ্যমে মৃতের সুরতহাল এবং হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্তসহ অন্যান্য প্রক্রিয়া শেষে রাত সাড়ে ৮টার দিকে শ্রীবরদী উপজেলার কুড়িকাহনীয়া ইউনিয়নের কুড়িকাহনিয়া দক্ষিণপাড়া গ্রামের বাড়িতে লাশ পৌঁছে। অন্যদিকে হাসপাতালে ভর্তি থাকা অবস্থায় সে র্যাব বা পুলিশের হেফাজত বা নজরদারিতে ছিল- এমন বিষয়টি নিয়ে ধুম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়, গত ১১ আগস্ট বুধবার বিকেল ৩টার দিকে শ্রীবরদী উপজেলার কুড়িকাহনীয়া ইউনিয়নের কুড়িকাহনিয়া দক্ষিণপাড়া গ্রামের হারিছ মিয়ার বাড়ির লোকজন বিয়ের দাওয়াত খেতে অন্যত্র যাওয়ায় বাড়িতে সে একাই অবস্থান করছিল। ওইসময় একই এলাকার হতদরিদ্র পরিবারের শারীরিক ও বাক প্রতিবন্ধী ওই যুবতী হারিছের বাড়ির পাশ দিয়ে নিজ বাড়িতে যাওয়ার পথে তাকে ফুসলিয়ে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে হারিছ। পরে প্রতিবন্ধী যুবতী বাড়িতে গিয়ে আকার-ইঙ্গিতে তার মাকে ঘটনার বিবরণ জানায়। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হয়ে পড়লে হারেছ ও তার পরিবারের লোকজনতা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। পরে ওই ঘটনায় ১৪ আগস্ট শ্রীবরদী থানায় হারিছকে একমাত্র আসামি করে ধর্ষণ মামলা দায়ের করে ওই প্রতিবন্ধী যুবতীর মা। অন্যদিকে ঘটনা ধামাচাপা দিতে ব্যর্থ হয়ে এবং তা নিয়ে স্ত্রী বানেছা বেগমের সাথে হারিছের ঝগড়া-ঝাঁটি হয়। ওই ঝগড়া-ঝাঁটির এক পর্যায়ে শুক্রবার বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করে হারিছ। কিন্তু এ বিষয়টিও চেপে যেতে তাকে শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে না নিয়ে সরাসরি জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়।
চাঞ্চল্যকর ওই ধর্ষণ মামলার আসামিকে গ্রেফতারে অভিযানে নামে থানা পুলিশের পাশাপাশি র্যাব। র্যাব-১৪ (জামালপুর-শেরপুর), সিপিসি-১, জামালপুর ক্যাম্পের কোম্পানী কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার আশিক উজ্জামান সাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, র্যাব তাদের সোর্সের মাধ্যমে খবর পায় ওই মামলার আসামি হারিছ ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে এবং সে যে কোন সময় হাসপাতাল থেকে পালাতে পারে। ওই আশঙ্কায় র্যাবের আভিযানিক একটি দল ১৪ আগস্ট শনিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে হাসপাতালে গিয়ে হারিছকে নজরদারিতে রাখে। পরে শ্রীবরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অবহিতকরণ ও হাসপাতালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তার উপস্থিতি সাপেক্ষে ভোর পৌণে ৪টায় হারিছকে তার নজরদারিতে দেয় র্যাব। কিন্তু রবিবার রাত ১১টার দিকে হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় মারা যায় হারিছ। এরপর থেকেই প্রশ্ন উঠেছে আসলে হারিছ গ্রেফতার বা কার নজরদারিতে থাকা অবস্থায় মারা গেছে। আর এ নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে ধুম্রজাল।

এ ব্যাপারে র্যাব-১৪, সিপিসি-১, জামালপুর ক্যাম্পের কোম্পানী কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার আশিক উজ্জামান জানান, আসামি হারিছকে আমরা প্রথমে হাসপাতালে নজরদারিতে রাখি। পরে তদন্ত কর্মকর্তা আসামিকে নজরদারিতে রাখেন। পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ভূলক্রমে তাকে গ্রেফতারের একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি গণমাধ্যমে পাঠানো হয়েছিল। প্রকৃতপক্ষে তা গ্রেফতার না হয়ে নজরদারি হবে। অন্যদিকে ওই বিষয়ে শ্রীবরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিপ্লব কুমার বিশ্বাস জানান, আমরা হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় বাকপ্রতিবন্ধী যুবতী ধর্ষণ মামলার আসামিকে গ্রেফতার করিনি। তাকে হাসপাতালে খোঁজ-খবর নেয়ার জন্য মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়েছিলো। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হারিছের মৃত্যু হয়েছে।




