যুগ যুগ ধরে আদিবাসীদের দখলে থাকা ঐতিহ্যগত ভূমিতে চাষকৃত ফলজ ও সবজি বাগান কর্তনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৩ আগস্ট শুক্রবার দুপুরে শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার সীমান্ত সড়কের বালিজুরি রেঞ্জ অফিসের সামনে প্রধান সড়কে ওই কর্মসূচি পালিত হয়। আদিবাসী সংগঠন ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার এ্যাসোসিয়েশনের ভূমি সংরক্ষণ কমিটির আয়োজনে খ্রিষ্টানপাড়া হতে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে বালিজুরি বাজারের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে অফিসপাড়ায় প্রধান সড়কে অনুষ্ঠিত হয় মানববন্ধন।

বাংলাদেশ গারো সংগঠন (বাগাছাস), বাংলাদেশ বর্মণ ছাত্র সংগঠনের উপজেলা শাথা, বাবেলাকোনা সানসাইন ইয়ুথ ক্লাব ও হারিয়াকোনা ইয়ুথ ক্লাবের সহায়তায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন ঝিনাইগাতী উপজেলা ট্রাইবাল ওয়েল ফেয়ার এসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান নবেশ খকসী, বকশিগঞ্জ উপজেলা ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার এ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক অনন্ত ম্রং, আদিবাসী নারী নেত্রী রিনিকা দালবত, ভুক্তভোগি প্রমলি চিরান, ওইসব সংগঠনের নেতা রনু নকরেক, কাঞ্চন ম্রং, মিথায়েল নেংমিনজা, মর্নিংটন ম্রং, মিথুন কোচ, ব্রতিন ম্রং, প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, শুক্রবার দুপুরে বন বিভাগের বালিজুরি রেঞ্জ অফিসার রবিউল ইসলাম স্টাফসহ লোকজন নিয়ে হঠাৎ করে খ্রিস্টানপাড়া গ্রামের বাসিন্দা হতদরিদ্র আদিবাসী ভারতীয় মৃ (৫৫), সভানি সিমসাং, সবিতা মৃ, কমলা রেমা ও পইমনি চিরানের প্রায় ৪০ শতাংশ জমির সবজি ক্ষেত ও বসতভিটায় থাকা সুপারির চারা কেটে ফেলেছে। এতে তারা চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন। অপরদিকে তাদেরকে হুমকি দিয়ে এসেছে তারা যেন আর কোনোদিন সেখানে কোনো আবাদ না করে। এমনকি বাড়িঘর ভেঙে ফেলারও হুমকি দেয়। এতে এখানকার প্রায় অর্ধশত আদিবাসী পরিবার চরম আতংকে দিন কাটাচ্ছেন। তারা আজ এই বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধনের মাধ্যমে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। দুপুর ১২ হতে দেড়টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এ মানববন্ধনে শ্রীবরদী, ঝিনাইগাতী ও বকশিগঞ্জ উপজেলা আদিবাসী বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ্বসহ নানা পেশার তিন শতাধিক লোক অংশগ্রহণ করেন।

তবে এ ব্যাপারে রেঞ্জ অফিসার রবিউল ইসলাম বলেন, বনের কোনো জায়গায় সবজি চাষ করা যাবে না। আমরা বিভিন্ন স্থানের সবজি বাগান কেটে দিয়েছি। তিনি আরো বলেন, আমরা কোনো আদিবাসীর বাড়িতে বা ক্ষেতে যাইনি। তারা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলে মানববন্ধন করছে।




