শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে মাত্র আড়াই কিলোমিটার কাঁচা রাস্তার জন্য দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন আশেপাশের পাঁচ গ্রামের হাজারও মানুষ। উপজেলার মহারশি নদী তীরবর্তী নলকুড়া-খৈলকুড়া-ঝিনাইগাতী সড়কটি দ্রুত পাকাকরণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা জানা যায়, ঝিনাইগাতী উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়ন থেকে ঝিনাইগাতী সদর ইউনিয়নের মহারশি নদীর পাড় ঘেঁষে ব্রিজপাড়ের রাস্তাটি দিয়ে উপজেলা সদরে যাতায়াত করেন নলকুড়া, খৈলকুড়া, উত্তর খৈলকুড়াসহ পাঁচটি গ্রামের অন্তত: ১০ হাজার মানুষ। এ রাস্তাটির বেশিরভাগ অংশই এলজিইডির পাকা করলেও মাত্র আড়াই কিলোমিটার রাস্তা কাঁচা থাকায় চলাচলে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয়রা। মহারশি নদী তীরবর্তী হওয়ায় এবং কিছু অংশ নদীর পাড় ঘেঁষে হওয়ায় রাস্তার এ অংশটুকু পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন।

স্থানীয়রা জানান, বর্ষা মৌসুমসহ বছরের অর্ধেক সময়ই এ রাস্তায় থাকে কাদাপানি। এই কাদা মাড়িয়ে প্রতিদিন অসুস্থ রোগী, কৃষিপণ্য, শিক্ষার্থীসহ শতশত সাধারণ মানুষকে যাতায়াত করতে হয়। শুকনো মৌসুমেও কাঁচা রাস্তার জন্য এখানকার কৃষকদের উৎপাদিত ধান, সবজিসহ অন্যান্য ফসল উপজেলা সদরে নিতে বাড়তি ভাড়া গুণতে হয়। এজন্য ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। কাঁচা রাস্তার জন্য যান চলাচল না করায় শিক্ষার্থীদের যাতায়াত করতে হয় হেঁটেই। এদিকে কিছুদিন আগে বন্যায় রাস্তাটির বেশ কিছু অংশ ধ্বসে গেছে। এতে চলাচলে আরও দুর্ভোগ বেড়ে যায়। পরে ইউনিয়ন পরিষদের তরফ থেকে মাটির বস্তা দিয়ে ভাঙনরোধ ও মেরামতের চেষ্টা করা হয়। তবে এলাকাবাসী চান, রাস্তাটি পাকা করে স্থায়ীভাবে মেরামত করা হোক।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. ওয়াজকুরুনি মিন্টু জানান, রাস্তাটির বেশিরভাগ জায়গা উঁচুনিচু ও এবড়োথেবড়ো হয়ে গেছে। যান চলাচল তো দূরে থাক, বর্ষাকালে মানুষের হেঁটে চলায় দায় হয়ে পড়ে। আবু সাইদ নামে এক কৃষক জানান, এ রাস্তাটি দিয়ে ফসল উপজেলা সদরে নেওয়া খুব কষ্টকর। আর কোনরকমে ভ্যানগাড়ি বা অন্য কোন যানবাহন দিয়ে বাজারে নিতে গেলে ভাড়া গুণতে হয় স্বাভাবিকের চাইতে অনেক বেশি। তাই আমাদের উৎপাদিত ফসল কমদামে বিক্রি করতে বাধ্য হই। রাস্তাটি ঠিক করে দিলে আমাদের খুব উপকার হয়।
স্থানীয় এক গৃহবধূ মোছা. আনজুরা বেগম জানান, ভোটের সময় আইসা নেতারা বলে, সামনের বার রাস্তা ঠিক কইরা দিমু। কিন্তু পরে আর খবর থাকে না তাদের। রাস্তা যেভাবে ভাঙতাছে, কোনদিন যে বাড়ি ভাইঙা নদীত পড়ে তার ঠিক নাই। এ রাস্তায় চলাচলকারী ভজন দাস জানান, রাস্তাটির বেহাল দশার জন্য সাইকেলে চলাচলও অনেক কষ্টকর। তাই আমরা সরকারের কাছে দ্রুত এ রাস্তাটি পাকাকরণের দাবি জানাচ্ছি। একই দাবি জানান মোছা. লাকী বেগম, মো. ঝন্টু মিয়া, মো. সুরুজ আলী, আব্দুস সামাদসহ স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোফাজ্জল হোসেন চাঁন বলেন, রাস্তাটি পাকাকরণে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বার বার আবেদন জানানো হয়েছে। বারবার শুধু আশ্বাসই মিলেছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর, ঝিনাইগাতীর উপজেলা প্রকৌশলী মো. মোজাম্মেল হক জানান, রাস্তাটির নদীর তীরবর্তী হওয়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে কাজটি করতে হবে।
ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারুক আল মাসুদ জানান, মহারশি নদীর বাধটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের বড় কোন প্রকল্পে মাধ্যমে পুনঃনির্মাণ করা হলে আশেপাশের মানুষ ভোগান্তি থেকে পরিত্রাণ পাবেন। তখন এ রাস্তাটিও পাকা করা সম্ভব হবে।
এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী (শেরপুর-জামালপুর) মো. আবু সাইদ জানান, বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডের নজরে আছে। এ সংক্রান্ত একটি প্রকল্প প্রস্তাবনা সরকারের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। এই অর্থ বছরেই একটি ব্যবস্থা হবে বলে আশা করছি।




