পিবিআইয়ের হাতে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি
শেরপুরে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে ব্রহ্মপুত্র সেতুর ইজারাদারের চোখে মরিচের গুড়া ছিটিয়ে ৩৫ লক্ষ টাকা ছিনতাইয়ের চাঞ্চলকর মামলায় অবশেষে পিবিআইয়ের হাতে তুষার রঞ্জন দাস রিপন (৪৩) নামে গ্রেফতারকৃত ১ ব্যক্তি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে আদালতে। ৯ আগস্ট সোমবার দুপুরে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফারিন ফারজানার কাছে সে নিজেকে জড়িয়ে সাথে থাকা অন্যান্যদের নাম প্রকাশ করে ওই স্বীকারোক্তি দেয়। তুষার রঞ্জন দাস রিপন নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলার দৌলতপুর গ্রামের হিরা লাল দাসের ছেলে এবং আন্তঃজেলা ডাকাত ও ছিনতাইকারী দলের নেতা। বিষয়টি শ্যামলবাংলা২৪ডটকমকে নিশ্চিত করেছেন কোর্ট পরিদর্শক খন্দকার শহিদুল হক।
এদিকে পিবিআইয়ের হাতে গ্রেফতার হওয়া ওই ব্যক্তির জবানবন্দি প্রদানের মধ্য দিয়ে চাঞ্চল্যকর ওই মামলার মূল রহস্য উদঘাটিত হয়েছে। সূত্রমতে, গ্রেফতারকৃত ওই ব্যক্তি ইতোপূর্বে নেত্রকোনা কারাগারে হাজতে থাকাবস্থায় ওই ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করা হয়। পরিকল্পনা ও ঘটনায় জড়িত ছিলেন তিনিসহ মোট ৬ জন। তাদের মধ্যে ৫ জন ছিলেন দুটি মোটরসাইকেলে, অন্যজন প্রাইভেটকারে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পিবিআইয়ের পরিদর্শক মোখলেছুর রহমান জানান, গোপন সংবাদ ও তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তার ভিত্তিতে পিবিআই পুলিশ সুপার এমএম সালাহ উদ্দীনের নির্দেশনায় তিনি ও পিবিআই পরিদর্শক আবুল কালামসহ সঙ্গীয় ফোর্সের সহযোগিতায় রবিবার ময়মনসিংহের গাঙিনারপাড় এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় তুষার রঞ্জন দাস রিপনকে। পরে পিবিআই অফিসে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদকালে সে ওই ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে এবং তার সাথে থাকা অন্যদের নামও প্রকাশ করে। সে অনুযায়ী সোমবার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে সে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। এখন তার জবানবন্দি মোতাবেক ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। তিনি আরও জানান, গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি আন্তঃজেলা ডাকাত ও ছিনতাইকারী দলের সক্রিয় সদস্য এবং তার বিরুদ্ধে নেত্রকোনা ও জামালপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ২৫টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে।
এ ব্যাপারে জামালপুর পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার এম এম সালাহ উদ্দীন শ্যামলবাংলা২৪ডটকমকে জানান, ব্যবসায়ীর মোটা অঙ্কের টাকা ছিনতাইয়ে ওই চাঞ্চল্যকর মামলায় গ্রেফতারকৃত আন্তঃজেলা ডাকাত-ছিনতাইকারী দলের সক্রিয় নেতা ঘটনায় সেসহ কে কে জড়িত তা প্রকাশ করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ওই চাঞ্চল্যকর ঘটনার রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হলো। ঘটনায় জড়িত অন্যদেরও গ্রেফতার করে দ্রুতই তাদের বিচারের মুখোমুখি করা যাবে বলেও তিনি আশা করেন।

উল্লেখ্য, গত ২১ মার্চ রবিবার দুপুরে শেরপুর-জামালপুর ব্রহ্মপুত্র সেতুর ইজারাদারের অংশীদার ব্যবসায়ী নূর হোসেন তার ভাতিজা মোটরসাইকেল চালক লিটনকে নিয়ে ইজারার কিস্তির ৩৫ লক্ষ টাকা মোটরসাইকেলযোগে ব্যাংকে জমা দিতে যাওয়ার পথে শহরের মধ্যশেরী এলাকায় ৫ সদস্যের একটি ছিনতাইকারী দল ডিবি পুলিশের পরিচয় দিয়ে চোখে মরিচের গুড়া ছিটিয়ে টাকার ব্যাগ ছিনতাই করে। এ ঘটনায় ওই দিনই নূর হোসেন বাদী হয়ে থানায় শেরপুর সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ওই ঘটনায় ডিবি পুলিশের হাতে মোটরসাইকেল চালক লিটনসহ সন্দেহভাজন ৩ জন গ্রেফতার হলেও উদঘাটন হয়নি কোন রহস্য। পরবর্তীতে মামলাটি জামালপুর পিবিআইয়ের কাছে বদলি হয়।




