জনশূন্য ঝগড়ারচর বাজার
শেরপুরের শ্রীবরদীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে বাধা ও হামলার ঘটনায় ২১ জনকে স্ব-নামে ও অজ্ঞাতনামা আরও শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা দায়ের হয়েছে। ৪ আগস্ট বুধবার রাতে উপজেলা পরিষদের গোপনীয় সহকারী (সিএ) মো. কামরুজ্জামান বাদী হয়ে শ্রীবরদী থানায় ওই মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় রাতেই অভিযান চালিয়ে ২ যুবককে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরা হচ্ছে উপজেলার ভেলুয়া ইউনিয়নের বলিদাপাড়া গ্রামের আব্দুর রেজ্জাকের ছেলে মিজানুর রহমান (৩০) ও বারারচর গ্রামের জালাল মিয়ার ছেলে শহীদ মিয়া (৪০)। বৃহস্পতিবার দুপুরে গ্রেফতারকৃত ওই ২ যুবককে আদালতে সোপর্দ করা হলে বিশেষ দায়িত্বে থাকা জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাদের জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

অন্যদিকে ওই হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় শতাধিক অজ্ঞাতনামা আসামি থাকায় পুলিশী গ্রেফতার আতঙ্কে ঝগড়ারচর বাজারের ব্যবসায়ীসহ আশেপাশের এলাকার শতশত পুরুষ গা ঢাকা দিয়েছে। ঝগড়ারচর বাজার বণিক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলমাছ আলী বলেন, আতঙ্কে বাজারের সব দোকানপাটই এখন বন্ধ রয়েছে। এমনকি হোটেল-রেস্তোরাঁ ও ওষুধের দোকানও। এছাড়া একই কারণে এলাকা ছেড়েছে অনেক পুরুষ।
এ ব্যাপারে শ্রীবরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিপ্লব কুমার বিশ্বাস বলেন, মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে সরকারি কর্তব্য কাজে বাধা ও হামলায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কয়েকজন সদস্যকে আহত করাসহ সরকারি বিধিনিষেধ অমান্য করে জমায়েত করে করোনার সংক্রমণ বিস্তারের অভিযোগ আনা হয়েছে। ওই মামলায় ইতোমধ্যে ২ জনকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঘটনার সাথে যারা জড়িত নন, তাদের ভয়ে পালানোর কারণ নেই। যাদের বিরুদ্ধে জড়িত থাকার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যাবে- কেবল তাদেরকেই আইনের আওতায় আনা হবে।

উল্লেখ্য, বুধবার দুপুরে করোনা প্রতিরোধে চলমান বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার আল আমিন ও সানাউল মোর্শেদের নেতৃত্বে শ্রীবরদী উপজেলার ঝগড়ারচর বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে কয়েকটি দোকানে জরিমানা করা হয়। এর জের ধরে বিক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীদের হামলায় বিজিবি ও পুলিশের ৪ সদস্য আহত হয়।




