শেরপুরের নকলায় গত ৭ দিনের (১ জুলাই থেকে ৭ জুলাই) লকডাউনে স্বাস্থ্যবিধি না মানা ও বিভিন্ন অপরাধে ১০১টি মামলায় মোট ৪৩ হাজার ৫শ’ ৫০ টাকা আর্থিক জরিমানা আদায় করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। তারপরেও উপজেলার সর্বত্র লঙ্ঘিত হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি। চলছে প্রশাসন ও সাধারণ জনগণের মধ্যে চোর-পুলিশ খেলা। প্রশাসনের লোকজন দেখলেই মানুষ থুতনিতে লাগানো মাস্ক পড়ে নিচ্ছে, আবার চলে গেলে খুলে ফেলছে। আর সেভাবেই চলছে দোকানপাট খোলা ও বন্ধ করার কাজ। বাইরে থেকে দোকানের সাটার লাগানো থাকলেও ভিতরে রয়েছে ক্রেতার ভীড়। প্রশাসন, পুলিশ ও সশস্ত্র বাহিনীর ব্যাপক মনিটরিং থাকলেও সুযোগ পেলেই দোকানি ও সাধারণ জনগণ স্বাস্থ্যবিধিসহ লকডাউন নীতিমালা লঙ্ঘন করছে।

কাপড় ব্যবসায়ীরা বলছেন, সামনে ঈদ, তাই ক্রেতার চাপ ও মহাজনের দেনা মেটাতে তাদেরকে সময় সুযোগ বুঝে দোকান খুলতে হচ্ছে। কৃষকের কথা হচ্ছে, উৎপাদিত কাঁচা শাকসবজি বিক্রি করতে না পারলে তা ক্ষেতেই নষ্ট হবে। সুতরাং বাজারে না এসে উপায় কি? সন্তানদের অভুক্ত মুখ দেখে তো আর ঘরে থাকতে পারি না। শ্রমিকরা বলছে হাতে যাই টাকা-পয়সা আছে কিন্তু চাল, ডাল, শাকসবজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে না পারলে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে। এ সবকিছু ঘিরে লকডাউনকে কেন্দ্র করে পুরো উপজেলায় সাধারণ জনগণের মাঝে বাড়ছে উদ্বেগ-উৎকন্ঠা।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদুর রহমান বলেন, আমরা যথাসম্ভব চেষ্টা করছি কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ প্রতিরোধ করার। লোকজন কথা শুনছে। তবে অনেকেই শুনছে না। আমরা চেষ্টা করছি সবাইকে সচেতন ও সুরক্ষিত রাখার জন্য। মানুষজন যত বেশি বাহিরে কম বের হবে সংক্রমণ তত কমবে। তিনি বলেন, ৭ জুলাই রবিবার নকলায় ৭ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছে। প্রশাসন মাঠে সক্রিয় না থাকলে এ সংক্রমণ হয়ত আরো বাড়ত।




