শেরপুরের নকলায় ভূমি ও ঘরহীন মানুষের জন্য দুর্যোগ সহনীয় ‘ক’ শ্রেণির ঘর বিতরণে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ধরেছে অনেক অসহায় ও দুস্থ্য পরিবার। দুর্নীতি ও অবৈধভাবে চাপ প্রয়োগ করে একাধিক অসহায় ও প্রতিবন্ধীর কাছে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন ৭ নং টালকি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বদরুদ্দোজামান বদ্দি ও ৪ নং ওয়ার্ডের খোরশেদ মেম্বার। ওই ইউনিয়নের অসহায় মানসিক প্রতিবন্ধী শাকিল (ঝন্টু) ও দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মফিদুল ইসলামকে ২০ হাজার টাকা করে চেয়ারম্যান বদরুদ্দোজামান বদ্দিকে ঘুষ দিতে হয়েছে। কিন্তু ঘর বরাদ্দে অবৈধভাবে অর্থ (ঘুষ) নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন টালকি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বদরুদ্দোজামান (বদ্দি)।
পারভীন নামে এক নারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমার শাশুড়ির নামে একটি ঘর বরাদ্দের জন্য চেয়ারম্যানকে ৩০ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে। একই অভিযোগে করেন বিবিরচর বাজারের চা বিক্রেতা বাদল। তিনি বলেন, সমিতির লোন নিয়ে চেয়ারম্যানকে ঘুষ দিয়া ঘর পাইছি।
এদিকে, একই পরিবারের একাধিক সদস্যদের মাঝে ঘর বিতরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে নকলা উপজেলা ৯ নং চন্দ্রকোনা ইউনিয়নে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাছুর আলগী গ্রামের জমশেদ আলীর ছেলে লাভলু ও তার ২ ছেলেসহ পরিবারের ৪ সদস্য পেয়েছেন ‘ক’ শ্রেণির তালিকা অনুযায়ী সরকারি ঘর। বাছুর আলগী গ্রামের মৃত রজব আলীর ৩ ছেলে দেলোয়ার, লতিফ ও জয়নাল আবেদীন পেয়েছেন ‘ক’শ্রেণির সরকারি বরাদ্দের ঘর। অথচ আশ্রয়ণ কেন্দ্রের সামনে ৬৩ বছরের স্বামী-সন্তান হারা ঝুপড়ি ঘরের আমেনা বেগম সরকারি ঘর পায়নি। আরেক আশ্রয়ন কেন্দ্রে ভাঙা ঘরে বাস করছেন মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা জমশেদের (জঙ্গু) পরিবার। অথচ জমি-ঘর কিছুই নেই অসহায় পরিবারটির।
অভিযোগের বিষয়ে ৯ নং চন্দ্রকোনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইদ সিদ্দিকী সাজু বলেন, ঘর বরাদ্দ পাওয়া সবাই ভূমি ও গৃহহীন। অনিয়মের কোনো ঘটনা ঘটেনি। অনেক তরুণ ঘর পেয়েছে।
এ বিষয়ে নকলা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ঘর বরাদ্দের নীতিমালায় বলা নেই তরুণ না, বৃদ্ধকে ঘর দিতে হবে।
এ ব্যাপারে নকলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহিদুর রহমান বলেন, ঘর বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে চেয়ারম্যানদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




