শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে আত্মহত্যা প্ররোচনা মামলার প্রধান আসামি মোশারফ হোসেন (২৫) কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ২৯ মে শনিবার দিবাগত রাতে এসআই হাবিবুর রহমান ও এএসআই আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ভারুয়া বাজার থেকে তাকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত মোশারফ উপজেলার গৌরীপুর ইউনিয়নের পূর্ব গজারীকুড়া গ্রামের মো. মুনছর আলীর ছেলে। রবিবার দুপুরে মোশারফকে আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাকে জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এদিকে ওই মামলায় এখনও ৩ আসামি পলাতক রয়েছে। এরা হচ্ছে পূর্ব গজারীকুড়ার গ্রামের আবু সামার ছেলে (২২), ঝিনাইগাতী গ্রামের মুছা কুলির ছেলে সেলিম মিয়া (৪৫), নালিতাবাড়ী উপজেলার নন্নী গ্রামের রিয়াজুল মুন্সির ছেলে আতিক মিয়া (২৫)।

এ ব্যাপারে ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফায়েজুর রহমান বলেন, গত ১৩ মে তারিখে দায়ের করা মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিয়ে অব্যাহত অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। অন্য আসামিদেরও ধরতে সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
জানা যায়, লেবু মিয়া (১৮) তার অভিভাবকদের অজান্তে গত প্রায় এক বছর পুর্বে একই গ্রামের মোশারফ ও রেজাউলের মাধ্যমে বেশ কিছুদিন পুর্বে মাসিক লাভে দুই সুদখোরের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা ঋণ গ্রহন করে। কিন্তু লেবু মিয়া ওই টাকার সুদ আসল কোনটাই পরিশোধ করতে পারেনি। লেবু মিয়া বেশ কিছুদিন ঢাকায় অবস্হান করে গত প্রায় এক পুর্বে বাড়ি আসে। লেবু মিয়ার বাড়ীতে আসার সংবাদ পেয়ে গত ১৩ মে বৃহস্প্রতিবার দুপুরে মোশারফ, রেজাউলসহ আরো দুই পাওনাদার লেবু মিয়াকে মোশারফের বাড়িতে ডেকে এনে তাকে মারধর করে। এসময় লেবু মিয়া সুদখোরদের হাত থেকে রক্ষা পেতে বিকালে তাদের পাওনা টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বাড়ি চলে আসে। লেবু মিয়ার দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বিকালে ওই চারজন টাকা নিতে লেবু মিয়ার বাড়ি আসে। ঘটনাটি লেবু মিয়ার অভিভাবকরা জানতে পেরে পাওনাদারদের কাছে এক সপ্তাহের সময় চেয়ে টাকা পরিশোধের দায়িত্ব নেন। কিন্তু পাওনাদাররা এতে রাজি না হয়ে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে, লেবু মিয়া বিষ পান করে গুরুতরভাবে আহত হয়। আহত লেবু মিয়াকে ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্হ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা রোগীর অবস্হার অবনতি দেখে তাকে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন। জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে থানা পুলিশ লেবু মিয়ার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরন করে। ময়না তদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ ব্যাপারে নিহত লেবু মিয়ার পিতা আনিছুর রহমান বাদি হয়ে ৪ জনকে আসামী করে আত্মহত্যার প্ররোচনা যোগানোর অপরাধে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। গত ১৫ দিন ধরে আসামীরা আত্মগোপনে থাকার পর শনিবার রাতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ভারুয়া বাজার থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। অন্য আসামিরা আত্মগোপনে রয়েছে। ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফায়েজুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন অন্য আসামিদের গ্রেফতারের বিষয়ে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, ঝিনাইগাতী উপজেলার গৌরীপুর ইউনিয়নের পূর্ব গজারীকুড়া গ্রামের আনিছুর রহমান উরফে আহালুর ছেলে লেবু মিয়া (১৮) তার অভিভাবকদের অজান্তে গত প্রায় এক বছর আগে একই গ্রামের মোশারফ ও রেজাউলের মাধ্যমে মাসিক লাভে দুই সুদখোরের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা ঋণ গ্রহণ করে। ওই ঋণ পরিশোধে গত ১৩ মে বৃহস্পতিবার দুপুরে মোশারফ, রেজাউলসহ আরও দুই পাওনাদার লেবু মিয়াকে মোশারফের বাড়িতে ডেকে এনে তাকে মারধর করে। এসময় লেবু মিয়া সুদখোরদের হাত থেকে রক্ষা পেতে বিকালে তাদের পাওনা টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বাড়ি চলে আসে। লেবু মিয়ার দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বিকালে ওই চারজন টাকা নিতে লেবু মিয়ার বাড়ি আসে। ঘটনাটি লেবু মিয়ার অভিভাবকরা জানতে পেরে পাওনাদারদের কাছে এক সপ্তাহের সময় চেয়ে টাকা পরিশোধের দায়িত্ব নেন। কিন্তু পাওনাদাররা এতে রাজি না হয়ে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে লেবু মিয়া বিষ পান করে গুরুতরভাবে আহত হয়। আহত লেবু মিয়াকে ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা রোগীর অবস্হার অবনতি দেখে তাকে জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন। জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। ওই ঘটনায় নিহত লেবু মিয়ার পিতা আনিছুর রহমান বাদী হয়ে ৪ জনকে আসামি করে আত্মহত্যার প্ররোচনা যোগানোর অপরাধে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।




