শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে বেকার ও দুঃস্থ ২৫০ পরিবার পেল খাদ্যসামগ্রী। ২৯ এপ্রিল বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার যিদনী মডেল স্কুল মাঠে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘ভয়েস অফ ঝিনাইগাতী’র উদ্যোগে ওইসব বিতরণ করা হয়। এতে আমেরিকার নিউজার্সিতে অবস্থিত একটি ওষুধ প্রস্তুতকারক কোম্পানির প্রধান গবেষক ড. জাফর ইকবালের আর্থিক সহায়তায় বিতরণকৃত খাদ্যসামগ্রী মধ্যে ছিল চাল, ডাল, তৈল, আলু, পিঁয়াজ, লবণ, মুড়ি ও চিনি। পরে উপস্থিত সকলের মাঝে মাস্ক বিতরণ করা হয়।
খাদ্যসামগ্রী উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফায়েজুর রহমান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আব্দুস সামাদ, প্রচার সম্পাদক মুজিবুর রহমান, ঝিনাইগাতী বণিক সমিতির সভাপতি মুখলেছুর রহমান খান, সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহমেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুদ মিয়া, ভয়েস অফ ঝিনাইগাতী’র প্রতিষ্ঠাতা মো. জাহিদুল হক মনির, সংগঠনের প্রশাসনিক এডমিন মোশারফ হোসাইন।

খাদ্যসামগ্রী পেয়ে রামেরকুড়া এলাকার আলী বলেন, ‘আমরা খুব কষ্টে ছিলাম এতদিন। লকডাউনের মধ্যে আমি গাড়ি নিয়ে বের হতে পারিনি। খুব কষ্ট করে দিন চলছে আমাদের। কেউ আমাদের সহযোগিতা করেনি। এখন ক’দিন ঠিক মতো খেতে পারবো।’ ওই এলাকার আরেক বাসিন্দা আমেছা বেগম বলেন, ‘বাপু কি আর কমু দুঃখের কথা। সরকার সব বন্ধ করে লকডাউন দিছে কিন্তু আমাদের জন্য কোন ব্যবস্থা করেনি। বিভিন্নজনের কাছে চাল চেয়ে রান্না করে খেয়েছি। আপনারা দিলেন খুব উপকার হলো আমাদের। আল্লাহ আপনাদের বাঁচিয়ে রাখুন।’
ভয়েস অফ ঝিনাইগাতী’র প্রতিষ্ঠাতা মো. জাহিদুল হক মনির বলেন, ‘আমাদের এ সংগঠনটি বাল্যবিবাহ এবং সমাজের গরীব, দুস্থ, অসহায় পরিবার ও শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানে কাজ করে আসছে। সেই ধারাবাহিকতায় আজ খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হল। আমরা বিশ্বাস করি আমাদের মতো বিভিন্ন সংগঠন ও বিত্তবানরা যদি সমাজের অসহায় মানুষের মাঝে এগিয়ে আসে তাহলে লকডাউনে মানুষ আর কষ্টে থাকবে না। তিনি আরও বলেন, করোনার প্রথম ধাপে আমরা হতদরিদ্রদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী ও মাস্ক বিতরণ করেছি। এছাড়া শিক্ষার্থীদের ভর্তির টাকা জোগার করে দিয়েছি।আমরা চেষ্টা করছি প্রতিনিয়ত মানুষকে সহযোগিতা করার।’
ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফায়েজুর রহমান বলেন, ‘ভয়েস অফ ঝিনাইগাতীর এ উদ্যোগটি প্রশংসনীয়। আমিও তাদের সাথে ব্যক্তিগতভাবে কাজ করার চেষ্টা করবো। কারণ সবাই যদি এগিয়ে আসে তাহলে অসহায় ও দুস্থ মানুষের কষ্ট লাঘব হবে।’




