বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে রুমেছার দৈন্যদশার খবর প্রকাশের পর শেরপুরের নকলা উপজেলার বানেশ্বর্দী ইউনিয়নের বানেশ্বর্দী গ্রামের স্বামীহারা ৮০ বছর বয়স্ক বৃদ্ধা রুমেছাকে দেখতে ছুটে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদুর রহমান। সেই বৃদ্ধা রুমেছাকে সরকারি ঘরের আশ্বাস দেওয়ায় তার মুখে হাসি ফুটে উঠেছে। ২০ এপ্রিল মঙ্গলবার দুপুরে রুমেছার থাকার জরাজীর্ণ ঘরটি পরিদর্শনে গিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদুর রহমান বৃদ্ধা রুমেছাকে সরকারি ঘর দিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন। ঘর পাওয়ার এ আশ্বাস পেয়ে রুমেছার মুখ তৃপ্তির হাসি ফুটে ওঠে।
বৃদ্ধা রুমেছা কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে বলেন, ‘আল্লাহ শেখের বেটিরে বাচাইয়া রাহুক। শেখের বেটি হাসিনার দেওয়া ঘর পাইয়া আমি নিজের ঘরে ঘুমামু, নিজের ঘরে মরবার পামু। এইডা আমার জীবনের শেষ ইচ্ছা আছিল।’ তার শেষ ইচ্ছা পূরণে যারা ভূমিকা রাখছেন এবং রাখবেন তাদের জন্য তিনি হাত তুলে দোয়া করেন।

রুমেছার জরাজীর্ণ ঘর পরিদর্শনকালে অন্যান্যের মধ্যে উপজেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইউপি চেয়ারম্যান মাজহারুল আনোয়ার মহব্বত, নকলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. মোশারফ হোসাইন, সহ-সভাপতি খন্দকার জসিম উদ্দিন মিন্টু, সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন সরকার বাবুসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বানেশ্বর্দী ইউপি চেয়ারম্যান মাজহারুল আনোয়ার মহব্বত বলেন, ওই বৃদ্ধার নিজের কোন জমি নেই, তাই তাকে গুচ্ছগ্রামে যেতে বললে সে সেবা-যত্নের চিন্তা করে সেখানে একা যেতে রাজি হননি। তাই তাকে আজ পর্যন্ত ঘর বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব হয়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, দ্রুত সময়ের মধ্যে যেন রুমেছা বেগম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার হিসেবে একটি ঘর পেতে পারেন, সেজন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, নকলা উপজেলার বানেশ্বর্দী ইউনিয়নের ৮০ বছর বয়স্ক বৃদ্ধা রুমেছা ৩৫ বছর আগে স্বামী হারিয়ে বিধবা হয়েছেন। একমাত্র কন্যার বিয়ে দিয়েছেন ২০ বছর আগে। এর পর থেকে অনাহারে-অর্ধহারে তার দিন কাটছে। দীর্ঘদিন ধরে পলিথিন ও সিমেন্টের বস্তা দিয়ে ঘেরা একটি ঝুপড়ি ঘরে রুমেছা রাত যাপন করছেন। সামান্য বৃষ্টি এলেই ঘরে পানি পড়ে, হালকা বাতাস এলে অন্যের ঘরে গিয়ে আশ্রয় নিতে হয়। বর্তমানে বার্ধক্যের কারণে ঠিকমতো চলতে পারেন না। চোখের দৃষ্টিশক্তি ও শ্রবণ শক্তি কমে গেছে প্রায় একযুগ আগে। আশেপাশের লোকজনের দেয়া খাবারেই চলে তার জীবন। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে নিরাপদে ও একটু শান্তিতে ঘুমাতে চান এই বৃদ্ধা রুমেছা। এ বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে একটি খবর প্রকাশিত হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমেছাকে দেখতে ছুটে যান।




